হাজীগঞ্জে ইমন হত্যায় রংপুর থেকে মাসুদ আটক

ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাসহ ১৮ জন নামীয় আসামি

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে বার্নিশ মিস্ত্রি ইমন হোসেনকে (২৫) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মাসুদুর রহমান মাসুদ নামের এক আসামিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে আটক করেছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও হাজীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিন্টু কুমার দত্ত মিঠুর নেতৃত্বে এসআই মো. নাজিম উদ্দিন ও সহকারী উপ-পরিদশৃক ধীমান বড়ুয়া গত বৃহস্পতিবার (২৯ মার্চ) দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে করে তাকে আটক করা হয়।
এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ইমনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ২৫ ফেব্রুয়ারি তার বাবা মো. হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে হাজীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা (নং-১৪) দায়ের করেন। এতে ১৮ জনের নাম উল্লেখ করে ৯ থেকে ১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। মামলার অজ্ঞাত আসামি হিসাবে পুলিশ রাজারগাঁও ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কে.এম ফয়েজ বাবুকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের শিকার ইমন হোসেন পেশায় বার্নিশ (ফার্নিচারের রং) মিস্ত্রি। পাশাপাশি সে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। সে উপজেলার বাকিলা ইউনিয়নের লোধপাড়া গ্রামের কবিরাজ বাড়ির মো. হারুনুর রশিদের ছেলে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় নিজ ইউনিয়নের জনতা বাজার এলাকায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়।
মামলার নামীয় আসামিরা হলেন- রাজারগাঁও ইউনিয়নের পূর্ব রাজারগাঁও গ্রামের পাচৈ বাড়ির আক্তার বেপারীর ছেলে মো. জিলানী বেপারী (২০) ও মো. রমজান বেপারী (২২), একই বাড়ির মো. মিজানুর রহমানের ছেলে মো. তারেক আজিজ (৩০), খাঁন বাড়ির বাদশা খাঁনের ছেলে মো. রাসেল খাঁন (২৭), তপদার বাড়ির আব্দুল কুদ্দুছের ছেলে মো. আব্দুল্লাহ (২৮), কুদ্দুছ বেপারী বাড়ির আব্দুল কুদ্দুছ বেপারীর ছেলে মো. ফরহাদ (২২)।
রাজারগাঁও বাজার মাদরাসা সংলগ্ন বাড়ির শরীফুল ইসলাম শরীফ হুজুরের ছেলে মো. রাকিব (২৫), পূর্ব রাজারগাঁও গ্রামের রহিম আলী বেপারী বাড়ীর মৃত আলী আহম্মদ সুফির ছেলে মো. জাবেদ বেপারী (২৮), মো. মোস্তফা বেপারীর ছেলে মো. শাহাদাত বেপারী (২৬), বেপারী বাড়ির বিল্লাল বেপারীর ছেলে মো. পারভেজ মোশারফ কালু (২৫), পশ্চিম রাজারগাঁও গ্রামের বদ্দম বাড়ির আবুল খায়েরের ছেলে মো. জাহিদ (২২)।
পূর্ব রাজারগাঁও গ্রামের মালী বাড়ির কার্তিক চন্দ্র দাশের ছেলে পলাশ (২৬), সুকন চন্দ্র দাশের ছেলে রাজু দাশ (২৫), তাঁতি বাড়ির দুলাল চন্দ্র রায়ের ছেলে শিপন চন্দ্র রায় (২৬), আটিয়া বাড়ির মো. খোকনের ছেলে মো. সিয়াম (১৮), মো. মিজানের ছেলে মো. নাছির (১৮), মো. ইব্রাহিমের ছেলে মো. রায়হান (১৯) ও একই গ্রামের ছাড়া বাড়ির মো. আব্দুল বারেকের ছেলে মো. কাবির (১৮) সহ অজ্ঞানামা ৯/১০ জন আসামি রয়েছেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ ফেব্রুয়ারি রাজারগাঁও ইউনিয়নের রাজারগাঁও আলতাফ বেপারী বাড়ির বার্ষিক ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিলে তবারক বিতরণের সময় আসামি জিলানী বেপারীর সাথে সৈকত তালুকদারের সাথে তর্ক বিতর্ক হয়। এই তর্ক-বিতর্কের ঘটনায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিকালে দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়নের সাতবাড়ি ভাঙ্গা গ্রামের মুন্সী বাড়ির সামনে জিলানী ও সৈকতের মধে আবারো তর্ক-বিতর্কসহ মারধরের ঘটনা ঘটে।
এসময় জিলানী ওই স্থানের আব্দুর রউফের দোকানে আশ্রয় নিলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা ইমন তাকে বাহির না করার জন্য দোকানীকে বলেন এবং বাহির হলে সৈকত তাকে (জিলানী) মারধর করবে বলে চলে যায়। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় রাজারাগাঁও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তারেক আজিজ দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে মামলার নামীয় ও অজ্ঞাতনামা আসামিরা বাকিলা ইউনিয়নের জনতা বাজারে এসে ইমনের উপর অতর্কিত হামলা করে।
হামলায় গুরুতর আহত ইমনের ডাক-চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামিরা হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আশংকাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) পঞ্চজ কুমার দে ও হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আবদুর রশিদসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এরপর ওইদিন (শুক্রবার) রাতেই পুলিশ রাজারগাঁও ইউনিয়ন থেকে ইমন হত্যায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২ জনকে আটক করে পুলিশ। পরে ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কেএম ফয়েজ বাবুকে আসামি ও আটক দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।

০৪ মার্চ, ২০২৪।