হাজীগঞ্জে নাতনি ধর্ষণের অভিযোগে দাদা জেলহাজতে

ফলোআপ

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে ১১ বছর বয়সি নাতনিকে ধর্ষণের অভিযোগে মো. সুলতান কবিরাজ নামে ৬৫ বছর বয়সি এক দাদাকে জেলহাজতে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল বুধবার দুপুরে আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠায়। এদিন সকালে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করে। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ধর্ষণের অভিযোগ এনে কিশোরীর মা বাদী হয়ে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
জানা গেছে, গত ১১ ডিসেম্বর বুধবার দুপুরে উপজেলার বাকিলা ইউনিয়নের লোধপাড়া গ্রামের কবিরাজ বাড়ীতে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ধর্ষক সুলতান কবিরাজ ওই বাড়ীর মৃত রমজান আলী কবিরাজের ছেলে। আর ধর্ষণের শিকার কিশোরী স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়রে ৫ম শ্রেণির ছাত্রী এবং সে ওই এলাকার অসহায়-দরিদ্র প্রতিবন্ধী জুলহাসের বড় মেয়ে। অভিযুক্ত সুলতান কবিরাজ বাড়ীর হিসেবে কিশোরীর দাদা।
ঘটনাটি স্থানীয় প্রভাবশালীরা টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। গত মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি জানতে পেরে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন রনি তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এবং তিনি ওই দিন দুপুরে থানা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সঞ্জয় রায়কে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করে, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। পরে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ধর্ষক দাদা সুলতান কবিরাজ (৬৫) পালিয়ে যান।
এরপর মঙ্গলবার রাত থেকে সুলতান কবিরাজকে আটকের জন্য পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এবং গতকাল বুধবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। বুধবার দুপুরে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হলে, আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এদিকে ধর্ষক সুলতান কবিরাজ আটকের ঘটনায় পুলিশের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন কিশোরীর বাবা ও মা। তারা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন রনি বলেন, অভিযুক্ত সুলতান কবিরাজকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে এবং কিশোরীর মেডিকেল রিপোর্ট জন্য প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।