স্টাফ রিপোর্টার
জাটকা রক্ষায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে কাক্সিক্ষত ইলিশ মিলছে না জেলেদের জালে। নদী থেকে অনেকটা খালি হাতে ফিরছেন জেলেরা, উঠছে না খরচের টাকাও। এতে তারা হতাশ হয়ে পড়ছেন।
জাটকা নিধন বন্ধে পদ্মা-মেঘনা নদীতে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস সব ধরনের মাছ আহরণ নিষিদ্ধ ছিল। নিষেধাজ্ঞা শেষে গত ৩০ এপ্রিল রাত ১২টার পর থেকে আবার নদীতে ইলিশ ধরতে নেমেছেন জেলেরা। কিন্তু গত ৬ দিনেও কাক্সিক্ষত মাছ না পেয়ে হতাশ হাজার হাজার জেলে। এছাড়া অন্য যে মাছ পাচ্ছেন তাও পরিমাণে অনেক কম। নৌকা নিয়ে দিনে ও রাতে নদীতে থেকে হাতেগোনা কয়েকটি মাছ নিয়েই মৎস্যঘাটে ফিরছেন অনেক জেলে।
মৎস্য বিভাগ সূত্র জানায়, গত দুই মাসের নিষেধাজ্ঞায় চাঁদপুরের ৮ উপজেলায় ৮১৪টি অভিযান পরিচালনা করে ৩৭১ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। ১৬২টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে ৮৫ লাখ মিটার কারেন্ট আটক ও ৩৯ মেট্রিক টান জাটকা জব্দ করেছে। ৩৪৭টি মামলায় ৩৭১ জনকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।
চাঁদপুরের উত্তরে ষাটনল, দক্ষিণে চরভৈরবীতে মৌসুমের তীব্র তাপদাহ উপেক্ষা করে নদীতে জাল ফেলছেন জেলেরা। কিন্তু বিশাল এই পদ্মা-মেঘনার কোথাও জেলেদের জালে ধরা পড়ছে না ইলিশ। দিনভর নদীতে জাল ফেলে কাক্সিক্ষত মাছ না পাওয়ায় হতাশ এই জনপদের হাজারো জেলে। তাই এ সময় নদীপাড়ে জাল আর নৌকা নিয়ে অলস সময় পার করছেন তারা।
এদিকে সরেজমিন চাঁদপুর সদরের মেঘনা নদীর তীরবর্তী জেলেপল্লী ঘুরে দেখা যায়, দলবদ্ধভাবে নদীতে ইলিশ ধরতে গিয়েও খালি হাতে ফিরছেন জেলেরা। আর যে পরিমাণ মাছ পাচ্ছেন তা দিয়ে তাদের নৌকার জ্বালানি খরচও উঠছে না। ফলে দৈনন্দিন সাংসারিক খরচ মেটাতে গিয়ে নতুন করে দেনাগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন বলে জানান জেলেরা।
হানারচর ইউনিয়নের আখনের হাটের জেলে বিল্লাল বলেন, নিষেধাজ্ঞার পর ভেবেছি মাছ পাব, গত দুই মাস যে কষ্টে ছিলাম মাছ পেলে হয়তো কষ্টটা কষ্ট মনে হতো না। কিন্তু যে পরিমাণ ইলিশ মাছ পাই তা একেবারেই সামান্য। এ দিয়ে তাে নৌকার তেলের খরচ ওঠে না। আর সংসার চলে কী করে?
এদিকে শহরের বড় স্টেশন মাছ ঘাটে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ এক লাখ টাকা দরে। তবুও গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মাছ ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, দুই মাস বন্ধ থাকার পর আবারও সরগরম হয়ে উঠেছে মাছের এই পাইকারি আড়ত। মাছের বেচাকেনায় ব্যস্ত শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা।
মাছ ব্যবসায়ী মাসুদ রানার হাবিব আড়তে এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ টাকা মণ। প্রতি কেজির দাম পড়ছে ২ হাজার ৫০০ টাকা। ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকা। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা। তবে ইলিশের আমদানি কম। অন্য প্রজাতির অর্থাৎ পোয়া, আইড়, চেউয়া, চিংড়ি গুঁড়া ও পাঙাশ মাছের আমদানি শুরু হয়েছে।
সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তিন নদীর মোহনা, যমুনা রোড ও টিলাবাড়ী এলাকায় অবস্থান করে দেখা গেছে, রাতে যে জেলেরা নদীতে নেমেছেন; তাঁরা ঘাটে আসছেন মাছ বিক্রি করতে। আবার অনেক জেলে নৌকা নিয়ে নদীতে যাচ্ছেন। মাছ বিক্রি করার জন্য নিয়ে আসা নৌকাগুলো মাছ ঘাটের দক্ষিণে ডাকাতিয়ার পারে এনে রাখছেন। সেখান থেকে শ্রমিকেরা টুকরিতে করে আড়তে উঠাচ্ছেন।
চাঁদপুর জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক তছলিম ব্যাপারী বলেন, এ বছর প্রচুর পরিমাণে জাটকা ধরা হয়েছে। তবে এখন জেলেরা ইলিশ না পেলেও দেশীয় প্রজাতির মাছ পাবেন।
১০ মে, ২০২৩।
