চাঁদপুরে আসামি পক্ষের হুমকিতে ধর্ষণ মামলার বাদী পরিবার

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের খেরুদিয়া গ্রামের খলিফা বাড়িতে আনোয়ার হোসেন আনুর ছেলে মো. রাসেল খলিফার ধর্ষণের শিকার হন একই বাড়ির মনির হোসেন খলিফার ভাগ্নি মুন্নি আক্তার। ধর্ষণের পরে ওই মেয়েটি জটিল রোগে মৃত্যুবরণ করেন। কিন্তু মুন্নির জন্ম দেয়া একটি কন্যা শিশু সুমাইয়া আক্তার এখনও আছে। সে মাদ্রাসায় শিশু শ্রেণিতে পড়ে। ধর্ষণের ঘটনায় মুন্নির মামা মো. মনির হোসেন খলিফা ২০১১ সালে ১৮ মার্চ চাঁদপুর মডেল থানায় মো. রাসেল খলিফাকে আসামী করে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করে। মামলাটি বর্তমানে আদালতে চলমান। ওই মামলার আসামির বাবা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ মো. আনোয়ার হোসেন (আনু) প্রকাশ্যে বাদী পক্ষকে বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছে বলে নতুন করে অভিযোগ উঠেছে।
মামলার বাদী বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের খেরুদিয়া গ্রামের মৃত শুক্কুর খলিফার ছেলে মনির হোসেন জানান, বিবাদী পক্ষ মো. রাসেল খলিফার পিতা মো. আনোয়ার হোসেন আনু গ্রাম পুলিশ হওয়ার কারণে বিভিন্নভাবে প্রভাব খাটায়। আমি একজন নিরীহ মানুষ। আমার ভাগ্নির মৃত্যুর পর আমাদের সংসার এলোমেলো হয়ে যায়। আরেকটি ভাগ্নি প্রতিবন্ধী। আমার বোন অসুস্থ্য। মুন্নির রেখে যাওয়া সন্তান সুমাইয়াকেও আমার দেখতে হয়। আমি একজন খেটে খাওয়া মানুষ। এরপর বিবাদী পক্ষের হুমকিতে সব সময় নিরাপত্তাহীনতায় থাকতে হয়। যার ফলে আমি নিরাপত্তার স্বার্থে চলতি বছরের ৯ জুলাই চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নাসিম উদ্দিন বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি।
অভিযোগকৃত ব্যক্তিরা হলেন- একই বাড়ির বিবাদী মো. আনোয়ার হোসেন আনু, মো. রাসেল খলিফা, মনু মিয়া, সহিদুল্লা (কুট্টি), হালিমা বেগম, সাহিদা বেগম, আ. রহিম ও মিনু বেগম।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, আসামি মো. রাসেল মিয়া ধর্ষণ মামলায় জেল খাটেন। পরবর্তীতে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে তার পরিবারের লোকদের নিয়ে বাদী পরিবারের উপর কয়েক দফা হামলা এবং প্রাণনাশের হুমকি ধমকি প্রদর্শন করে। যার কারণে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে বাদী মনির হোসেন খলিফা গত ১৮ জুন নতুন করে আবারও থানায় এবং ৯ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরার অভিযোগ করেছেন। তিনি বিবাদী পক্ষের এই ধরণের কর্মকান্ড থেকে রক্ষা পেতে প্রশাসন ও বিচার বিভাগের সহযোগিতা কামনা করেন।
অপরদিকে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় বাদী পক্ষের পরিবারটি খুবই নীরিহ। ধর্ষণের শিকার মুন্নির মা আরেকটি প্রতিবন্ধী মেয়ে ও নাতনি নিয়ে খুবই অসহায় জীবন যাপন করছে। থাকার মত কোন ঘরও নেই। বর্তমানে ভাইয়ের ঘরেই বসাবাস করেন।
বাদী পক্ষ জানিয়েছে, ডিএনএ টেস্ট করে আসামি রাসেল ও মুন্নির শিশু কন্যা সুমাইয়ার রক্তের মিল পেয়েছে পুলিশ। যা আদালতে জমা দেয়া হয়েছে।
ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত মো. রাসেল খলিফার পিতা মো. আনোয়ার হোসেন আনু জানান, মো. মনির হোসেন সম্পর্কে তার চাচাত ভাই। তিনি তাকে কোন ধরনের হুমকি ধমকি দেননি। তার বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। বরং তিনি এই মামলার নিস্পত্তি চান। যদি মনির হোসেন রাজি থাকে তাহলে তিনি মুন্নির রেখে যাওয়া কন্যাকে কিছু টাকা পয়সা দিয়ে মামলা তুলে নিতে রাজি আছেন।
২৯ অক্টোবর, ২০২০।