চাঁদপুরে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে পুলিশ

 

শাহ্ আলম খান
গত সোমবার বিকেলে চাঁদপুর শহরের আল-আমিন একাডেমি স্কুল এণ্ড কলেজের পিছনে কিশোর গ্যাং সদস্যদের হামলায় ৫ শিক্ষার্থী আহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় গণমাধ্যমে নিউজ প্রকাশিত হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ। শুরু হয়েছে সাঁড়াশি অভিযান এবং বখাটে টাইপের কিশোরদের চুল কাটা হচ্ছে সেলুনে নিয়ে।
পুরাণবাজার বিভিন্ন সেলুনে নিজেদের সন্তানদের রঙিন অর্থাৎ কালার ও বড় বড় সাইজের চুল কাটা হচ্ছে সেলুনে। বিষয়টি ইতিবাচক দেখছেন সচেতন মহল। পুরাণবাজার কিশোরদের চুল কাটানোর বিষয়টি সার্বক্ষনিক মনিটরিং করছেন পুলিশ পরিদর্শক ও পুরাণবাজার পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম।
এদিকে মঙ্গলবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আব্দুর রশিদের নেতৃত্বে বেশ কয়েকটি ভাগে মডেল থানা পুলিশ ৪৭জন কিশোর গ্যাং সদস্য আটক করেন। এই সংবাদটি ছড়িয়ে পড়েছে, জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে।
চাঁদপুর মডেল থানার নবাগত ওসি আব্দুর রশিদ বলেছেন, চাঁদপুর শহরীবাসীকে কিশোর গ্যাং মুক্ত শহর উপহার দিবেন। তাঁর এমন বক্তব্যকে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বাগত জানিয়েছেন।
চাঁদপুরের একজন সিনিয়র সাংবাদিক বলেন, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সংলগ্ন এলাকায় এদের আনাগোনা অনেক বেশি। ওই স্থানে কোন ভদ্রলোক যাওয়া খুবই দুস্কর। কারণ, কিশোরদের উৎপাত ওই স্থানে দৃশ্যমান।
তিনি বলেন, শহরে অর্ধ শতাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। পুলিশ এসব ক্যামেরার ফুটেজ দেখে এদের নিয়ন্ত্রণ আনার ব্যবস্থা করতে পারেন। এছাড়া কমিউনিটি পুলিশিংয়ের নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় পাড়া-মহল্লায় অভিভাবকদের সচেতন করার উদ্যোগ নেয়া একান্ত প্রয়োজন। বিশেষ করে করোনা পরিস্থিতির কারণে গত ১ বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। কবে বিদ্যালয় খুলছে, তার কোন ঠিক নেই। যার কারণে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে কিশোর বয়সী শিক্ষার্থীরা। আর এই সুযোগে তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছেন। বিষয়টি খুবই উদ্বেগজনক।
০৪ মার্চ, ২০২১।