চাঁদপুরে গরু নিয়ে দুশ্চিন্তায় খামারিরা

সজীব খান
চাঁদপুরে গরু নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে খামারিরা। লকডাউনের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে পশুর হাট বন্ধ করেছে প্রশাসন। ফলে ক্রেতা-বিক্রেতা রয়েছেন সংকটে। ঈদের আগে পশুর হাট খুলবে কি না এ নিয়ে খামারি ও ক্ষুদ্র গরু ব্যবসায়ীরা শঙ্কায় পড়েছেন। তা ছাড়া অনলাইন পশুর হাটেও তেমন সাড়া মিলছে না। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে অনলাইনে পশু বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে অনেক খামারি।
‘পশুরহাট’ নামে অনলাইন পেজ খোলা হলেও এখন পর্যন্ত সাড়া মেলেনি বলে অনেক খামারী জানিয়েছে। জেলায় ছোট বড় মিলিয়ে কয়েকশত খামারী রয়েছে। এসব গরুর খামারে প্রচুর গরু রয়েছে। করোনা সংক্রমণ রোধের কারনে চাঁদপুরে গোহাটগুলো বন্ধ রয়েছে। করোনার কারণে এলাকার খামারিরা চাচ্ছেন দ্রুত তাদের পশু বিক্রি করতে। অন্যদিকে ক্রেতার অনেকে আগে ভাগে কোরবানির গরু কিনতে চান কিছু কম দামে। কিন্তু এবার হাট বন্ধ থাকায় তা-ও করতে পারছেন না অনেকে।
অন্যদিকে পশু মালিকরা বেশি দাম পাওয়ার আশায় বসে রয়েছেন। তাদের মতে, ঈদের আগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আরও অনেক হাট পাওয়া যাবে, সে সময় বেশি দামে বিক্রি করতে পারবেন। তবে বিক্রেতার কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন ঈদের আগে পশুর দাম কমে যেতে পারে। ঈদ সামনে রেখে ইলিশের জেলায় খামারিরা গরু পালন করেন। সারা বছর প্রতিপালন খরচের পর আশায় থাকেন গরু বিক্রি করে স্বাবলম্বী হওয়ার। এবার পশুর হাটগুলো বন্ধ থাকায় বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা গরু কিনতে আসতে পারছেন না। কোরবানিতে গরু বিক্রি করতে না পারলে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা তাদের। লকডাউনে জেলার গরুর হাটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দূরপাল্লার যানবাহন না চলায় অন্য জেলা থেকে কোনো ক্রেতা খামারেও আসছেন না।
করোনার কারণে হাট না বসায় এবার পশু বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় জেলার খামারিরা। চড়া দামে গোখাদ্যে কিনে গবাদি পশু পালন করে ন্যায্য দামে বিক্রি করতে না পারলে লোকসান গুনতে হবে।
এ অবস্থায় সরকারের কাছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোরবানির আগে হাট বসানোর পাশাপাশি পাইকারদের যাতায়াতের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
শাহমাহমুদপুরের খন্দকার এগো ফার্মের স্বত্বাধিকারী তিতু খন্দকার জানান, করোনা ও চলমান লকডাউনের কারনে গরু বেচা বিক্রিতে কিছুটা সমস্যা হবে, ক্রেতাগন আসতে না পারলে গরু বিক্রি করবো কিভাবে, দেশিয় পদ্ধতিতে গরু মোটা তাজা করা হয়েছে। খড়, ঘাস, ভুষি ও বিভিন্ন রকমের ফলফলাদি খাওয়ানো হয়েছে। একই কথা জানান, খামারী আবু বকর, এনামুল, সেলিম, দুলাল বেপারী।
চাঁদপুর জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, এ বছর চাঁদপুরের আট উপজেলায় ছোট-বড় তিন হাজার ২০০ খামারি ১ লাখ ১৭ হাজার গবাদি পশু মোটাতাজা করছে। এর মধ্যে গরু রয়েছে প্রায় ৭৮ হাজার এবং ছাগল ও ভেড়া রয়েছে ৩৯ হাজার। জেলায় কুরবানির চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ১৮হাজার পশুর।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. বখতিয়ার উদ্দিন বলেন, জেলায় পর্যাপ্ত কুরবানির পশু মজুদ রয়েছে। অবৈধভাবে বিদেশি পশু যেন দেশে ঢুকতে না পারে, সে ব্যাপারে সরকার পর্যবেক্ষণ করছে। তাছাড়া খামারিরা যেন কোনো নিষিদ্ধ ওষুধ ব্যবহার করতে না পারে সে ব্যাপারে জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস তৎপর রয়েছে।

১৩ জুলাই, ২০২১।