চাঁদপুরে ব্যাপক আয়োজনের মধ্যে দিয়ে পয়লা বৈশাখ পালন

এস এম সোহেল
সামাজিক অবক্ষয়কে পেছনে ফেলে নতুন ও মঙ্গল কামনায় নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছে বাঙালি। করোনা মহামারির কারণে দুই বছর পর সারাদেশের মতো চাঁদপুরেও জেলা প্রশাসনের ব্যাপক আয়োজনের মধ্যে দিয়ে পালিত হলো পয়লা বৈশাখ বর্ষবরণ উৎসব ১৪২৯ বঙ্গাব্দ। বৈশাখকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নিতে দিবসের প্রথম প্রহরেই শুরু হয় কার্যক্রম। অনুষ্ঠানের ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার সকালে শহরের চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ, পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলালের নেতৃত্বে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা হয়।
মঙ্গল শোভাযাত্রায় শহরের বিভিন্ন সরকারি-বেরসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল কলেজ, সাংস্কৃতিক সংগঠন বর্ণিল সাঁজে সেঁজে অংশ গ্রহন করে। শোভাযাত্রাটি হাসান আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে শুরু হয়ে মূল আয়োজন স্থল চাঁদপুর শহরের প্রেসক্লাব সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে গিয়ে শেষ হয়।
সেখানে মনোরম পরিবেশে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে উৎসবের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ। পরে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পরিবেশিত হয়। আলোচনা সভা শেষে মঙ্গল শোভাযাত্রার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিরা।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন করেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বাঙালি আমাদের চেতনায়, আমাদের সংস্কৃতি মিশে আছে। বাংলা নববর্ষ আমাদের সার্বজনীন উৎসব। এই উৎসবে আমরা সব ধর্মের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে একসাথে অংশগ্রহণ করি। এটা আমাদের চেতনা মননে ও সংস্কৃতিতে আছে। বাঙালির এই দিনে আমরা মঙ্গল শোভাযাত্রা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিকসহ নানা কর্মকা- উদযাপন করি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, চাঁদপুর প্রেসক্লাব সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শাহাবউদ্দিন প্রমুখ।
পরে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক পারফরমেন্সের ফলাফল ঘোষণা করা হয় এবং বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। বিজয়ী দলগুলোর মাঝে পুরস্কার দেন অতিথিবৃন্দ।
এরপর শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে একে একে জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো গান, নৃত্য, কবিতা আবৃত্তিসহ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে।
পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে দুপুরে হাসপাতাল, কারাগার ও সরকারি শিশু পরিবারে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে।
এদিকে গত দুই বছরের ঘরবন্দি জীবন থাকায় বাঙালি বিশেষভাবে বৈশাখ উদযাপন করছে। ভোরে এই আনন্দ উদযাপনে ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে বের হয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ। পুরুষরা পাজামা-পাঞ্জাবি, নারীরা শাড়ি আর উজ্জ্বল পোশাকে শিশুরা ডাকাতিয়ার পাড়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। সেখানে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলায় মানুষ ভিড় জমান।
এভাবেই বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে দিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পশার মানুষ ১৪২৯ নববর্ষের দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। এছাড়া বাঙালি ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সকালে অনুষ্ঠিত হবে হালখাতা ও গদি সাঈদ। এদিন ব্যবসায়ীরা পুরানো খাতার হিসেব-নিকেশ চুকিয়ে নতুন খাতায় ১৪২৯ বঙ্গাব্দের হিসেবের যাত্রা শুরু করবে। জড়িয়ে ধরবেন একে অপরকে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে। কামনা করবেন নতুন বছর যেনো আনন্দঘন হয়ে উঠে সবার হৃদয়ে। এছাড়া চাঁদপুর জেলার প্রতিটি উপজেলায় ব্যাপকভাবে আয়োজন করা হয়েছে, বর্ষ বিদায় ও বর্ষবরণ পালন করেছে।

১৭ এপ্রিল, ২০২২।