চাঁদপুরে ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধীসহ ২শ’ ৮৪ জন পেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর উপহার

সাধ্যমত সহযোগিতা নিয়ে আপনাদের পাশে আছি….. অঞ্জনা খান মজলিশ

শাহ্ আলম খান
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী ও দুঃস্থ ২শ’ ৮৪ জন নারী-পুরুষকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেয়া হয়েছে। উপহার সামগ্রীর মধ্যে ছিলো ৫ কেজি করে চাল এবং নগদ ৫শ’ টাকা। সোমবার (১৯ জুলাই) দুপুরে চাঁদপুর জেলা স্টেডিয়ামে এসব লোকদের হাতে উপহার সামগ্রী তুলে দেন জেলা প্রশাসক বেগম অঞ্জনা খান মজলিশ।
উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী সব সময়ই আপনাদের কথা চিন্তা করেন। বিশেষ করে করোনাকালীন সময়ে আপনাদের পাশে থাকার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। আমাদের সাধ্যমত সহযোগিতা নিয়ে আপনাদের পাশে আছি এবং করোনাকালীন সময়ে প্রশাসন পাশে থাকবে।
জেলা প্রশাসন কর্তৃক গঠিত স্বেচ্ছাসেবক দল প্রধান ওমর ফারুকের পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমতিয়াজ হোসেন, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী প্রমুখ।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কঠোর লকডাউন থেকে শুরু করে অদ্য পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের দু’টি হটলাইন নম্বর এবং ‘৩৩৩’ কলে আবেদনকারী ৯৫৫ জনকে তাদের বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পৌঁছে দিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক টিমের বাইকার বাহিনী।
এছাড়া স্টেডিয়াম থেকে, চালক, শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার ৯৫৫ জনকে উপহার হিসেবে চাল প্রদান করা হয়। ১৮ ও ১৯ জুলাই দু’দিনে নগদ ৫শ’ টাকা ও ৫ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে ৪৬৭ জনকে।
উল্লেখ্য, চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশের নির্দেশে প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণ করা হয়। জেলা প্রশাসনের হটলাইন নম্বরে ফোন করে কর্মহীন অসহায় পরিবারের মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার যাবে বাড়ি (খাদ্য সহায়তা) পৌঁছে দিয়েছে জেলা প্রশাসন কর্তৃক গঠিত স্বেচ্ছাসেবক টিমের সদস্যরা।
বিধি-নিষেধ লকডাউন প্রথম দিনে (২ জুলাই) উপহার পৌঁছে দিয়েছে ৬০ পরিবারকে। দ্বিতীয় দিন (৩ জুলাই) উপহার পৌঁছে দিয়েছে ৯৬ পরিবারকে। তৃতীয় দিন (৪ জুলাই) সিএনজি ও অটো/ইজিবাইক চালকদের মধ্যে উপহার দেওয়া হয় ৪শ’ ৬ পরিবারকে। চতুর্থ দিন (৫ জুলাই) সিএনজি ও অটো/ইজিবাইক চালকদের মধ্যে উপহার দেওয়া হয় ৩শ’ পরিবারকে। পঞ্চম দিন (৬ জুলাই) বেদে সম্প্রদায় ও তৃতীয় লিঙ্গের মধ্যে উপহার দেওয়া হয় ২শ’ ৫৯ এবং হটলাইন এর মাধ্যমে ৫০ পরিবারকে। ষষ্ঠ দিন (৭ জুলাই) হটলাইনের মাধ্যমে ৮০পরিবারকে। সপ্তম দিন (৯ জুলাই) হটলাইনের মাধ্যমে ১শ’ ৫৪পরিবারকে। অষ্টম দিন (১০ জুলাই) হরিজন সম্প্রদায়ের মধ্যে উপহার দেওয়া হয় ২শ’ ৪২ এবং হটলাইন এর মাধ্যমে ৬৫ পরিবারকে। নবম দিন (১১ জুলাই) সড়ক পরিবহন শ্রমিকের মধ্যে উপহার দেওয়া হয় ২শ’ ৫০ এবং হটলাইনের মাধ্যমে ৮০ পরিবারকে। দশম দিন (১২ জুলাই) দুস্থ অসহায় মানুষের মধ্যে উপহার দেওয়া হয় ১শ’ ৮৪ এবং হটলাইনের মাধ্যমে ৬৫ পরিবারকে। ১১তম দিন (১৩ জুলাই) দুঃস্থ অসহায় মানুষের মধ্যে উপহার দেওয়া হয় ২শ’ এবং হটলাইনের মাধ্যমে ৬৫ পরিবারকে।
১২তম দিন (১৪জুলাই) পরিবহন চালক শ্রমিকদের দুস্থ অসহায় মানুষের মধ্যে উপহার দেওয়া হয় ২শ’ ৫০ এবং হটলাইনের মাধ্যমে ৭০ পরিবারকে। ১৩তম দিন (১৫ জুলাই) হটলাইনের মাধ্যমে বাইকার বাহিনী নিয়ে বাড়িতে পৌঁছে দেয় ৮২ পরিবারকে। ১৪ তম দিন (১৭ জুলাই) হটলাইনের মাধ্যমে বাইকার বাহিনী নিয়ে বাড়িতে পৌঁছে দেয় ৩৬ পরিবারকে। ১৫ তম দিন (১৮ জুলাই) আবাসিক হোটেল শ্রমিক, পত্রিকার হকার, জেলা পরিষদ দুস্থ অসহায় মানুষের মধ্যে উপহার দেওয়া হয় ১৮৩জনকে প্রত্যেককে নগদ ৫শ’ টাকা ও ৫ কেজি চাল এবং হটলাইনের মাধ্যমে বাইকার বাহিনী নিয়ে বাড়িতে পৌঁছে দেয় ৫২ পরিবারকে। ১৬ তম দিন (১৯ জুলাই) ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী, দুস্থ অসহায় মানুষের মধ্যে উপহার দেওয়া হয় ২শ’ ৮৪ জনকে নগদ ৫শ’ ও ৫ কেজি চাল এবং উপস্থিত ১২ পরিবারকে। মোট উপহার পৌঁছানো হয়েছে ৯শ’ ৫৫ পরিবারের মাঝে ও বিভিন্ন সম্প্রদায় মাঝে ২ হাজার ৪ শ’ ৫৪ জন এবং সর্বমোট ৩ হাজার ৪শ’ ২৫ পরিবাকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেওয়া হয়েছে।

২০ জুলাই, ২০২১।