চাঁদপুরে শিক্ষার্থীদের মোলহেডসহ বিভিন্ন স্থানে অবাধ ঘোরাফেরা

প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা

ইলশেপাড় রিপোর্ট
সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র মাহে রমজানে এ বছর দেশ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সে মোতাবেক প্রাথমিক থেকে শুরু করে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি নির্ধারিত নির্দেশনা মেনে বিদ্যালয়ের শ্রেণি কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ছিলো সন্তোষজনক।
কিন্তু রোববার (৩ এপ্রিল) রমজানের প্রথম দিনে চাঁদপুর শহরের বেশ কয়েকটি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের অবাধে জুঁটি বেধে ঘুরতে দেখা গেছে। শিক্ষার্থীরা ক্লাশে উপস্থিত না হয়ে বড়স্টেশন মোলহেড, প্রেসক্লাব লাগোয়া ডাকাতিয়া নদী, চাঁদপুর সেতুসহ শহরতলীর বেশ কিছু পার্কে তাদের অবস্থান করতে দেখা গেছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রমজানে যেখানে সবাই আত্মশুদ্ধির জন্য ইবাদত বন্দেগী করতে ব্যস্ত ঠিক তখনি উঠতি বয়সী শিক্ষার্থীরা প্রকাশ্য দিবালোকে অবাধে ঘোরাফেরা ও একত্রে সময় কাটানোর দৃশ্যগুলো অনেকটাই সামাজিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী। প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ছাড়া এসব শিক্ষার্থীদের যেমন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, তেমনি তাদের শ্রেণিমুখী করাও সম্ভব নয়।
শহরের বেশ কয়েকজন শিক্ষক ইল্শেপাড়কে জানান, যেসব অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্কুল-কলেজে পঠানোর পর কোন খোঁজ-খবর রাখেন না, কেবল সেসব শিক্ষার্থীরাই অবাধে যেখানে-সেখানে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। এসব শিক্ষার্থীদের আবার সংঘবদ্ধ চক্রও আছে। স্থানীয়রা তাদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারে না।
এদিকে চাঁদপুরে শিক্ষার্থীদের এমন বিচরণে প্রায় সময় সিনিয়র-জুনিয়র নিয়ে সংঘাত-সংঘর্ষ হারহামেশাই ঘটতে দেখা যাচ্ছে। প্রাণহানির মতো ঘটনা না ঘটলেও বেপরোয়া হয়ে উঠছে কিশোর গ্যং চক্র। যার কারণে এদের বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পায় না।
রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে ফিরিয়ে আনতে চিহ্নিত ও নির্ধারিত ঐ স্থানগুলোতে পুলিশি টহল জোরদারের দাবি জানিয়েছেন কেউ কেউ। প্রয়োজনে মৃদু শাস্তির ব্যবস্থা করা হলে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিমুখী হবে বলে অভিমত অনেকের। অন্যথায় যে কোন সময় ঘটতে পারে অরাজকতা কিংবা প্রাণহানীর মতো ঘটনা।
এ বিষয়ে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ ইল্শেপাড়কে জানান, শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের উচিত তাদের সন্তানরা কোথায় যাচ্ছে এবং কার সাথে চলাফেরা করছে তা তদারকি করা। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানসহ অন্য শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের উপর বিশেষ নজর রাখলে ও কোন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকছে তাদের খোঁজ-খবর রাখা প্রয়োজন।

০৪ এপ্রিল, ২০২২।