চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসারের অনৈতিকতায় বাড়ছে দুর্নীতি

গোবিন্দপুর উবি’র অফিস সহকারী সাইফুল প্রবাস থেকে এসে রীতিমতো বহাল

এস এম সোহেল
চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসার গিয়াসউদ্দিন পাটোয়ারীর অনৈতিকতায় জেলার শিক্ষাঙ্গনে অনিয়ম আর দুর্নীতি বৃদ্ধি পাওয়ার অভিযোগ উঠছে। শিক্ষা অফিসারের এমন বেশ কিছু অনিয়ম আর দুর্নীতির চিত্র ইলশেপাড়ের অনুসান্ধানে বেড়িয়ে এসেছে। শিক্ষা অফিসার নিজকে সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে জাহির করলেও জেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ে কর্মরত শিক্ষকরা তার বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থনৈতিক সুবিধা গ্রহণেরও অভিযোগ করছেন অনেকেই।
এছাড়া এই শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে তিনি ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর উ”” বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর প্রবাসী সাইফুল ইসলামকে অনৈতিক সুবিধার মাধ্যমে স্বপদে বহাল করার। তিনি ইতোমধ্যে সাইফুলকে প্রবাসকালীন সময়ে বন্ধ থাকা বকেয়া ভাতা সরকারি কোষাগার হতে পরিশোধের সব ধরনের ব্যবস্থা করছেন।
জেলার বেশ কয়েকজন শিক্ষাবিদ ইলশেপাড়কে জানিয়েছেন, বিভাগীয় অনুমতি ছাড়া কোন কর্মচারী কর্মস্থল ত্যাগ করে বিদেশ যেতে পারে না। আর প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে জেলা শিক্ষা অফিসার গিয়াসউদ্দিন পাটোয়ারী এমন বিষয় জানার কথা।
অথচ তথ্য গোপন করে গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী সাইফুল ইসলাম গত বছর করোনাকালীন স্কুল বন্ধের সুযোগে পাসপোর্ট তৈরিসহ শ্রমিক হিসেবে প্রবাসে চলে যায়। তার তথ্য গোপনের সংবাদটি দৈনিক ইলশেপাড়ে প্রকাশিত হলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি নিজেদের রক্ষা করার জন্য ফরিদগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আলী আশ্রাফের পরামর্শে সাইফুলকে মেডিকেল ছুটি দেখায় এবং তার বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেয়।
ঐ সময়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আলী আশ্রাফ ইলশেপাড়কে নিশ্চিত করেছেন সাইফুল দেশে ফিরবে না। আর যদি ফিরেও তাহলে পাসপোর্ট তলব করে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করবেন। একই সাথে জেলা শিক্ষা অফিসার গিয়াসউদ্দিন পাটোয়ারী ইলশেপাড়কে জানিয়েছিলেন, গোবিন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করে তিনি সাইফুলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করবেন।
অপরদিকে ইলশেপাড়ের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জেলা শিক্ষা অফিসার গিয়াসউদ্দিন পাটোয়ারী তার এক নিকটাত্মীয়ের মধ্যস্থতায় নগদ অর্থসহ বিদেশী বিভিন্ন উপঢৌকনের বিনিময়ে সাইফুলকে স্বপদে বহালের আশ্বাস দেন। তারপর সাইফুল গত ২৩ অক্টোবর দেশে ফিরে স্বপদে যোগদান করেন। তারপর থেকেই সাইফুল নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত হচ্ছেন।
এদিকে বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাইফুল গত ২৩ অক্টোবর দেশে আসলেও তাকে ১ অক্টোবর থেকে কর্মরত দেখায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি। গত ১২ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় খোলার পর ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সাইফুলকে অসুস্থ দেখিয়ে চাঁদপুরের একটি প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়।
জেলা শিক্ষা অফিসার গিয়াসউদ্দিন পাটোয়ারীর এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে হতবাক জেলার শিক্ষাঙ্গনের কর্মরত শিক্ষকরা। এছাড়া এই শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে জেলার বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করছেন, গত ১২ সেপ্টেম্বর বিদ্যালয় খোলার পর তিনি জেলার প্রত্যেক উপজেলায় বেশ কিছু বিদ্যালয় সরেজমিন পরিদর্শন করেন। প্রত্যেক বিদ্যালয় থেকেই তিনি উপঢৌকন হিসেবে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা করে গ্রহণ করেন বলে অভিযোগ উঠে। আর এমন অভিযোগেই সাধারণ শিক্ষকরা তাকে মিস্টার ‘৫ হাজার’ অফিসার হিসেবে ডাকেন।
ফরিদগঞ্জের সাইফুল কাণ্ডে এই জেলা শিক্ষা অফিসারের অনৈতিক কর্মকান্ডে জেলা প্রশাসনের তদন্তসহ বিভাগীয় ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য জেলার শিক্ষাবিদরা দাবি করছেন। অন্যথায় চাঁদপুরের স্থানীয় সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে বলে শিক্ষাবিদরা মনে করেন।
সাইফুল কান্ডে উপঢৌকন গ্রহণ প্রসঙ্গে জেলা শিক্ষা অফিসার গিয়াসউদ্দিন পাটোয়ারীর মোবাইল নম্বরে (০১৭৫২-৪৯৭…) ফোন করে কথা বলা যায়নি।
এদিকে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অভিযোগ করেছেন, অফিস সহকারী এই সাইফুল বিদ্যালয়ে নিয়োগের পরে সে বিদ্যালয়ের বেশ কিছু ছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অসামাজিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পরে। বিদ্যালয়ের এক অপ্রাপ্ত ছাত্রীকে প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ে করে। পরে ছাত্রীটির পরিবারের সাথে বিরোধ হলে পরে সাইফুল অন্যত্র দ্বিতীয় বিয়ে করে। শিক্ষার্থীসহ অভিভাবকরা সাইফুলের ফের যোগদান করায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা প্রকাশ করছে।

১১ নভেম্বর, ২০২১।