চাঁদপুর প্রেসক্লাবের অভিষেক, সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান

সাংবাদিকরা আমার আত্মার আত্মীয়
……….শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি

চাঁদপুর প্রেসক্লাবের ২০২০ সালের কার্যনির্বাহী পরিষদের অভিষেক, সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপিসহ অতিথিদের সাথে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ। -ইল্শেপাড়
চাঁদপুর প্রেসক্লাবের ২০২০ সালের কার্যনির্বাহী পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপির কাছ থেকে সংবর্ধনা ক্রেস্ট গ্রহণ করেন চাঁদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যোৎসাহী জয়নাল আবেদীন মজুমদার (সিআইপি)। -ইল্শেপাড়
চাঁদপুর প্রেসক্লাবের ২০২০ সালের কার্যনির্বাহী পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপির কাছ থেকে ক্রেস্ট গ্রহণ করেন প্রেসক্লাবের প্রচার সম্পাদক ও দৈনিক ইল্শেপাড়ের প্রধান সম্পাদক রোটারিয়ান মাহবুবুর রহমান সুমন। -ইল্শেপাড়
চাঁদপুর প্রেসক্লাবের ২০২০ সালের কার্যনির্বাহী পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপির কাছ থেকে ক্রেস্ট গ্রহণ করেন প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দৈনিক ইল্শেপাড়ের যুগ্ম-সম্পাদক শাহাদাত হোসেন শান্ত। -ইল্শেপাড়



স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর প্রেসক্লাবের ২০২০ সালের কার্যনির্বাহী পরিষদের অভিষেক, সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার বিকেলে চাঁদপুর প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আড়ম্বরপূর্ণ এ অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিশ^জয়ী অণুজীব বিজ্ঞানী ও হিরো অব বিল গেটস্ উপাধিতে ভূষিত প্রফেসর ড. সমীর কুমার সাহা ও চাঁদপুর জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যোৎসাহী জয়নাল আবেদীন মজুমদারকে (সিআইপি) সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, চাঁদপুরে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। তারপরও আরো অনেক কিছু করার আছে। চাঁদপুরকে নিয়ে আমার স্বপ্ন পূরণ করার সময় এসেছে। চাঁদপুরকে অনেক অনেক বাসযোগ্য আধুনিকায়ন করা হবে। যেখানে সবার মিলেমিশে থাকার ঐতিহ্য বজায় থাকবে। শহরের খালগুলো সংরক্ষণ করে এখানে একটা হাতিরঝিল করা, শহর রক্ষায় স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ, মেঘনার পাড় ঘেঁষে সেই হাইমচরের জালিয়ারচর পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভের আদলে রিভার ড্রাইভ নির্মাণ করা হবে। যাতে সারাদেশের পর্যটক এখানে আসতে পারে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের কলোনীগুলোতে বহুতল ভবন এবং চাঁদপুর আধুনিক নৌ-বন্দর হবে। এসব কাজ নিয়ে বড় বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী প্রজ্ঞা এবং সাহস, সর্বোপরি চাঁদপুরের মানুষের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ভালোবাসা সব অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলবে। এ জন্যে সবাইকে নৌকার পক্ষে এবং শেখ হাসিনাকে সরকারে রাখতে হবে।
তিনি আরো বলেন, আমার এলাকার মানুষ আমাকে অনেক ভালোবাসে বলেই তারা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করে আমাকে এতো কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমি একজন সংবাদসেবীর কন্যা। আমার বাবা রাজনীতির অংশ হিসেবে সংবাদসেবী ছিলেন এবং আমৃত্যু ইত্তেফাকে কাজ করেছেন। তাই সাংবাদিকরা আমার আত্মার আত্মীয়। প্রেসক্লাব আমার জন্যে তো বিশেষ আপন জায়গা। তাদের অনুষ্ঠানে আসতে পারাটাও আনন্দের।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এই এগিয়ে যাওয়া সারা বিশে^ বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। শেখ হাসিনার সৎ সাহস আছে বলেই তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। দুর্নীতিমুক্ত স্বদেশ চান বলেই তাঁর পক্ষে ডিজিটাল বাংলাদেশ সম্ভব হয়েছে।
ডা. দীপু মনি বলেন, আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, আমাদের যেতে হবে অনেক দূর। কেবল শিক্ষা হলেই হবে না, শিক্ষাটা হতে হবে মানসম্মত। বিশ^মানের শিক্ষার সাথে প্রযুক্তিগত শিক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীরা যেন বিশ^ নাগরিক হতে পারে সে লক্ষ্যে তিনি কাজ করছেন বলে জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক ড. সেলিম মাহমুদ এবং ভিডিওকলে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রিয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মাঈনুল হোসেন খান নিখিল।
চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এএইচএম আহসান উল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামাল হোসেন, ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল। এছাড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বক্তব্য রাখেন দুই সংবর্ধিত অতিথি।
সংবর্ধিত অতিথি বিশ^জয়ী অণুজীব বিজ্ঞানী প্রফেসর সমীর কুমার সাহা তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমি এই সম্মাননা প্রাপ্তিতে আনন্দিত ও অভিভূত। আমি আশা করি চাঁদপুর এ রকমই থাকবে, বার-বার চাঁদপুর আসবো।
তিনি বলেন, দীর্ঘ গবেষণা জীবনে অণুজীব বিজ্ঞানের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জার্নালগুলোয় আমার ১৫০টির বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলোকে বাংলায় অনুবাদ করে বই আকারে প্রকাশ করা হবে। সেই বই হবে মুজিব জন্ম শতবার্ষিকীতে আমার উপহার।
সংবর্ধিত অতিধিদের মধ্যে প্রফেসর ড. সমীর কুমার সাহার জীবনী পাঠ করেন চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কাজী শাহাদাত ও জয়নাল আবেদীন মজুমদারের জীবনী পাঠ করেন প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন সাংবাদিক মাও. আবদুর রহমান গাজী এবং গীতা পাঠ করেন প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি লক্ষ্মণ চন্দ্র সূত্রধর। এরপর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ‘৭১ ও পঁচাত্তরে যারা শহীদ হয়েছেন এবং চাঁদপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মরহুম কামরুজ্জামান চৌধুরীসহ প্রয়াত সাংবাদিক ও তাদের আত্মীয়-স্বজনদের রুহের মাগফিরাত কামনায় ও শিক্ষামন্ত্রীর স্বামীর সুস্থতা কামনায় দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন ফরিদগঞ্জ মজিদিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. একেএম মাহবুবুর রহমান।
স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান, মতলব দক্ষিণ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গিয়াস উদ্দিন, ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমান, মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ কুদ্দুসসহ প্রশাসনিক, রাজনীতিক, পেশাজীবী, সুধীজন এবং সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে ফুলেল শুভেচ্ছায় অতিথিদের বরণ করে নেয়া হয়।
প্রধান অতিথি সংবর্ধিত অতিথি, অভিষিক্ত ও আমন্ত্রিত অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছাসহ সম্মাননা তুলে দেন।