চাঁদপুর লঞ্চঘাটে যাত্রী ছাউনি দখল করে ফল ব্যবসা

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর লঞ্চঘাটের নৌ-টার্মিনালে যাত্রী ছাউনি দখল করে অবৈধভাবে ফল ব্যবসা করায় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এ যেন ‘জোর যার মুল্লুক তার’ এর মতো কাণ্ড। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দেখেও যেন না দেখার ভান করছে বলে স্থানীয়রা জানান।
সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, লঞ্চঘাটের যাত্রী ছাউনিতে তাদের অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু ঘাটে পর্যাপ্ত লঞ্চ না থাকায় এই অপেক্ষার প্রহর ঘণ্টার পর ঘণ্টাও হয়ে যায়। অথচ লঞ্চের তুলনায় যাত্রী বেশি হওয়ায় তাদের অবস্থানের একমাত্র অবলম্বন ঘাটের যাত্রী ছাউনিটি। নৌ-পুলিশের নাকের ডগায় যাত্রী ছাউনিটি দখল করে ফল ব্যবসা করছে এক ফল ব্যবসায়ী। গত মঙ্গলবার ঘাটে গিয়ে যাত্রীদের দুর্ভোগ দেখা যায়।
স্থানীয়রা জানান, যাত্রী ছাউনিটি দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করা ওই যুবকের নাম মো. আজিম উদ্দিন। সে নৌ-থানার পিছনেই নিশি বিল্ডিং এলাকার বাসিন্দার। স্থানীয় হওয়ার নৌ-পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে সে দীর্ঘদিন যাত্রী ছাউনি দখল করে ফল ব্যবসা করে আসছে।
যাত্রী ছাউনি দখল করা ব্যবসায়ী আজিম জানান, আমি লকডাউনের ৬ মাস আগে থেকেই এই যাত্রী ছাউনি দখল করে ফল ব্যবসা শুরু করেছি। তবে এজন্য আমার বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষকে প্রতি মাসে ১৫শ’ টাকা দিতে হয়। তবে বিআইডব্লিউটিএ’র কাকে টাকা দিচ্ছে তা সে বলতে অপরাগতা প্রকাশ করে।
অনেকের ধারণা এই ফল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নৌ-থানার কেউ হয়তো প্রতি মাসে টোকেন নিয়ে থাকে। যে কারণে যাত্রী দুর্ভোগ উপেক্ষা করে ওই যুবক প্রভাব বিস্তার করে এখানে ব্যবসা পরিচালনা করছে।
নৌ-থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, যাত্রী ছাউনি দখল করা আজিম নামের ফল ব্যবসায়ীর থেকে নৌ-থানার কেউ কোন টাকা-পয়সা নেয় না। তবে কয়েকবার তাকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। আমরা উচ্ছেদ করার পরও আজিম যাত্রী ছাউনি দখল করে ফল ব্যবসা করাটা দুঃখজনক। যাতে যাত্রী ছাউনি দখল করে আর ব্যবসা করতে না পারে আমরা সে ব্যবস্থাই করবো।
এদিকে মাসে ১৫শ’ টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন বিআইডব্লিউটিএ চাঁদপুরের বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা এ কে এম কায়সারুল ইসলাম জানান, যাত্রী ছাউনি দখল করে ব্যবসা করা সম্পূর্ণ অবৈধ। তাই এক্ষেত্রে টাকা নেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তবে আজিমের কাছ থেকে যদি কেউ টাকা নিয়ে থাকে, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যাত্রী ছাউনি দখলমুক্ত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।
সচেতন ট্রাক ঘাটস্থ বিআইডব্লিউটিএ’র কার্যালয়ের সামনের জায়গায়। অথচ কায়সারুল ইসলাম যোগদান করার পর আবারো ইট-বালু ব্যবসায়ীরা ঐ স্থাপনা দখল করে ফেলেছে।
তাই সচেতন মহল মনে করেন, সর্ষের মধ্যে ভূত থাকার মতো, বিআইডব্লিউটিএ’র মধ্যেও ভূত রয়েছে। তাই দখলমুক্ত জায়াগা আবার কিভাবে দখল হয়। তাও বিআইডব্লিউটিএ’র কার্যালয়ের সামনের স্থাপনা।
১৩ আগস্ট, ২০২০।
মহল জানান, বিআইডব্লিউটিএ চাঁদপুরের বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা এ কে এম কায়সারুল ইসলাম যোগদান করেন কয়েক মাস হলো। তিনি এসেই বলেছিলেন, আমি চাঁদপুরে দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে নতুন করে অবৈধভাবে কোন স্থান দখল করতে দেয়া হবে না। আগে যারা অবৈধভাবে দখল করে রয়েছে তাদেরও পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করে বিআইডব্লিটিএ’র সম্পত্তি দখলমুক্ত করবো- তার কথা যেন বলার জন্য বলা। কয়েক দফা জেলা প্রশাসনের আইন-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সভায় করে দখলমুক্ত করে লোকজনদের বসার জন্য বেঞ্চ স্থাপন করা হয়েছিলো