জেলা টাস্কফোর্স কমিটির প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

সবার সহযোগিতা নিয়ে সুষ্ঠুভাবে অভিযান সফল করতে চাই
……….জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান

স্টাফ রিপোর্টার
মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২২ বাস্তবায়ন বিষয়ক জেলা টাস্কফোর্স কমিটির প্রস্তুতিমূলক সভা সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (২ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান।
এসময় তিনি বলেন, এই অভিযানটি খুবই কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। তাই আমরা সবাই মিলে যদি এই অভিযানে সহযোগিতা করি তাহলে মা ইলিশকে ডিম ছাড়ার জন্য একটা সুন্দর পরিবেশ দিতে পারবো। আর এই কাজটি যদি সফল করতে পারি তাহলে ইনশাআল্লাহ আগামিতে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যাবে বলে আমি মনে করি। তাই বরিশাল, ভোলা, লক্ষ্মীপুর, শরীয়তপুর ও মাদারীপুর জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় সভা করে যৌথ অভিযানের আয়োজন করতে হবে। অস্থায়ী বাজার উচ্ছেদ করে দিতে হবে। লবণ মিল ও বরফ কল বন্ধ বা এদের দিকে নজরদারি বাড়াতে হবে। আমরা সবাই মিলে মাত্র ২২ দিন যদি একটু সচেতন থাকি তাহলে আমাদের চাঁদপুরের যে ইলিশ নিয়ে গৌরব সেটি আবার ফিরে আসবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা যেহেতু সিদ্ধান্ত নিয়েছি অভিযান হবে, তাহলে সেটি শক্তভাবে হবে। আমরা এই অভিযানটি সবাই মিলে, সবার সহযোগিতা নিয়ে সুষ্ঠুভাবে সফল করতে চাই।
সভায় পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, আমরা নিজেরা বিশেষ করে মৎস্য রিলেটেড যারা আছেন তারা যদি এই ২২ দিন ভালো থাকি তাহলে আর কিছুই লাগে না।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন নৌ-পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, প্রেসক্লাব সভাপতি গিয়াস উদ্দিন মিলন ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা গোলাম মেহেদী হাসান। উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমতিয়াজ হোসেন।
অনুষ্ঠানে উন্মুক্ত বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র ফরিদা ইলিয়াস, হাইমচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী মাস্টার, রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজি হযরত আলী বেপারী, হাইমচর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রশিদ, চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সভাপতি মানিক জমাদার, আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি আব্দুল মালেক দেওয়ান, কান্ট্রি ফিশিং বোট মালিক সমিতির সভাপতি শাহ আলম মল্লিক, সাধারণ সম্পাদক তসলিম বেপারী প্রমুখ।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত প্রচার প্রচারণা বিষয়ে সব প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াসহ স্থানীয় পত্রিকায় সচেতনতামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রচার, সাথে মাইকিং, ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার, লিফলেটের মাধ্যমে প্রচার করতে হবে এবং পদ্মা, মেঘনা, ডাকাতিয়া, ধনাগোদাসহ সব নদ-নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মৎস্য আহরণ, পরিবহন, মজুূদ, ক্রয়-বিক্রয়, বাজারজাত ও বিনিময় বন্ধ। বরফ কল বন্ধ রাখা। নদীতে ড্রেজিং বন্ধ রাখা। জেলেদের মাঝে ভিজিএফ বরাদ্দ দ্রুত সময়ে বিতরণ করা। সড়ক পথে চেকপোস্ট তথা বাস, ট্রাক, লঞ্চ, স্টিমার ও নৌযানে চেক করাসহ টহল জোরদার করা। যাত্রীবাহী ট্রলার নৌযান ছাড়া ব্যাক্তি মালিকানাধীন স্পিডবোট নিষিদ্ধকালীন সময়ে নদীতে নামতে পারবে না। মৌসুমী অসাধু জেলেদের গতিবিধি নজরদারিতে রাখতে হবে। অভিযান শুরুর আগেই নিষিদ্ধকালীন সময়ের জন্য নৌকার ইঞ্জিন খুলে নিজের হেফাজতে রাখাসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

০৩ অক্টোবর, ২০২২।