প্রকাশ হলো কাদের পলাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘স্মৃতির স্লোগান’

স্টাফ রিপোর্টার
জাতীয় গ্রন্থমেলায় প্রকাশ হলো কাদের পলাশের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘স্মৃতির স্লোগান’। বইটি প্রকাশ করেছে পরিবার পাবলিকেশন্স। প্রচ্ছদ এঁকেছেন ইউনুস নাজিম। বইটিতে বিভিন্ন সময়ে লেখা ৪০ কবিতা স্থান পেয়েছে। বইটির শুভেচ্ছা মূল্য রাখা হয়েছে ১৪০টাকা। কাদের পলাশ দীর্ঘদিন ধরে সাহিত্য চর্চার সাথে সম্পৃক্ত। এর আগে তার দীর্ঘশ্বাসের শব্দ (২০১৭)ও ইচ্ছেরা উড়ে গেছে (২০১৯) নামের দুইটি গল্পগ্রন্থ প্রকাশ হয়েছে। এছাড়া গবেষণাধর্মী সম্পাদনা গ্রন্থ যাপনে উদযানে ইলিশ (২০১৮) ‘বিরুদ্ধ স্রোতের মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন’ (২০২০) এবং বিস্মৃতির চাঁদপুর (২০২১) প্রকাশ হয়।
কাদের পলাশ ১৯৮৬ সালের ১৫ নভেম্বর চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। মূলত গল্প ও কবিতা লিখেন। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম তিনি নিয়মিত লেখালেখি করেন। তিনি অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। দৈনিক শপথ পত্রিকা সম্পাদনাসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। লিটলম্যাগ ত্রিনদী সম্পাদনার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে তিনি সম্পৃক্ত।
প্রথম কবিতার বই প্রকাশ সম্পর্কে কাদের পলাশ বলেন, কৈশরের এক উদাস দুপুরে সহপাঠিদের ভিড়ে এক সৌন্দর্যের গহীনে বিলীন হই। অনুভূতি ছড়াই গুটি কতেক শব্দ মিলনে। বিংশ শতাব্দির একেবারেই শেষপ্রান্তে প্রথম লেখাটি বন্ধুবর পলাশ-কে দেখাই। সে ভালো কি মন্দ কিছু না বলে আমার দিকে তাকিয়ে ছিলো অপলক। বন্ধুর সে কথা মনে আছে কিনা জানি না। সেই থেকে লেখার হাতেখড়ি। তারপর একবিংশ শতাব্দির সিকি পার হতে চলেছে। চলছে আমার লেখালেখিও।
মাধ্যমিকের আগেই লেখা হয়েছে অর্ধ শতাধিক কবিতা। যা সংরক্ষণে নেই। উপন্যাস লেখার চেষ্টা করি। উপন্যাস হয়ে উঠেনি বলে ইচ্ছে করেই ছুড়ে ফেলেছি। এর জন্যে অভিমানও কম ছিলো না। ক্ষাণিক বিরতির পর ২০০৭ সালে একটি অনুগল্প দিয়ে আবার প্রত্যাবর্তন। গল্প আর কবিতার মাঝেই চলতে থাকি নিয়মিত। প্রথমদিনের লেখা পংক্তিগুলো হারিয়ে গেছে। যে সুন্দর্য লিখতে শিখিয়েছে, অথচ; সে জানে না; কখনো জানবেও না হয়তো। সেই পংক্তিমালার তালাশে আমার সুন্দরের সাথে পথচলা। প্রয়াত কয়েকবছরের লেখা থেকে এ বইয়ে কিছু পংক্তি উপস্থাপিত হয়েছে।
আমি মনে করি, পৃথিবীর সকল মানুষের ভালোলাগা, মন্দলাগা, রাগ, ক্রোধ, প্রতিবাদ সর্বপরি আবেগ অভিন্ন। তবে প্রকাশ ভঙ্গি ভিন্ন। তাই ঘুরে ফিরে লেখকরা একই বোধ বোঝান হরেক বয়ানে। আমিও বুকের ভেতর সযতনে লালন করা কথাগুলো এ বইয়ের পাতায় পাতায় তুলে ধরেছি। কবিতা হয়ে উঠেছে কী না বিচারের দায় পাঠকের। পাঠকের ভালোবাসায় আমাকে কবিতার গন্তব্যে পৌঁছাতে সাহস যোগাবে বিশ্বাস করি।
০৭ এপ্রিল, ২০২১।