প্রাথমিকের উপবৃত্তি নিয়ে চাঁদপুরে শিক্ষকরা বিপাকে!

অসাধু চক্রের তৎপরতা বন্ধ না হওয়ায়

ইলশেপাড় রিপোর্ট
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সরকার উপবৃত্তির বিতরণ ব্যবস্থা নিয়ে চাঁদপুরে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উপবৃত্তির টাকা সঠিকভাবে সুবিধাভোগীদের মাঝে না পৌঁছার কারণে এ জেলার কর্মরত প্রাথমিকের শিক্ষকরা চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে। একটি অসাধু প্রতারক চক্র পিন নম্বর জোগাড় করে সুবিধাভোগীদের টাকা উঠিয়ে নিয়ে যায়। যার কারণে শিক্ষকরা বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন হরহামেশাই।
প্রায় এক বছর বন্ধ থাকার পর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ও শিক্ষা উকরণ কেনার ভাতা বিতরণ শুরু করছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এজন্য মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’ এর মাধ্যমে ইতোমধ্যেই টাকা বিতরণ অব্যাহত রাখছে। যদিও ইতোপূর্বে ‘শিওর ক্যাশে’র মাধ্যমে এই উপবৃত্তির টাকা দেওয়া হতো।
‘নগদ’ এর কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রতারক চক্র আগেই কোনো না কোনোভাবে গোপন পিন নম্বর জোগাড় করে টাকা উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, নগদের সঙ্গে এই চক্রের গোপন যোগাযোগে থাকায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি অভিযোগ তাদের।
চাঁদপুরের শিক্ষকদের অভিযোগ, আগে যখন উপবৃত্তি প্রদান করা হতো তখন প্রধান শিক্ষকদের আগেই জানিয়ে দিত সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা অফিসাররা। শিক্ষকরা অভিভাবকদের জানিয়ে দিতেন। এখন সেভাবে তথ্য না দেয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা যথাযথভাবে উপবৃত্তির টাকা পায় না।
শিক্ষকরা দাবি করছেন, সরকার যেভাবে কৃষকদের ১০ টাকা দিয়ে অ্যাকাউন্ট চালু করেছে ঠিক সেভাবেই উপজেলা শিক্ষা অফিসের তদারকিতে সরাসরি এনআইডির বিপরীতে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রদান করা হলে ভোগান্তি শুন্য পর্যায়ে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।
শিক্ষার্থীদের এই উপবৃত্তি নিয়ে চাঁদপুরের শিক্ষকদের আরো অভিযোগ রয়েছে, উপবৃত্তির তথ্য সংগ্রহ ও অনলাইন আপলোড নিয়ে স্ব-স্ব শিক্ষা অফিস এবং প্রধান শিক্ষকদের মাঝে টানাপোড়ন সৃষ্টি হয়। শিক্ষা অফিস হঠাৎ অফিস আদেশ প্রদান করে দেয় আগামি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নির্ধারিত ওয়েব পোর্টালে তথ্য আপলোড করার জন্য। কিন্তু এমন তথ্য আপলোডের জন্য দক্ষ অপারেটরের প্রয়োজন বলে শিক্ষকরা জানান। অবশ্য শিক্ষা অফিসারদের দোষই কি? প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে এভাবেই নির্দেশনা দেন সংশ্লিষ্টরা।
এ জেলার কোন প্রাথমিক বিদ্যালয়েই দক্ষ অপারেটর নাই। যার কারণে অনেক সময় সুবিধাভোগীদের এনআইডি, জন্ম রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও মোবাইল নম্বর এন্টি করলে কোন না কোন তথ্য ভুল হয়ে যায়। এই ভুল কোন অবস্থায় এক বছরের মধ্যে সংশোধন করা যায় না। যার কারণে সুবিধাভোগীদের বিপাকে পড়তে হয়। তেমনি শিক্ষকরা অভিভাবকদের কাছে নাজেহাল হতে হয়।
এই ভুল সংশোধনের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসের কোন ধরনের সহযোগিতা করার সুযোগ থাকে না। পাশাপাশি অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ তথ্য অনলাইনে আপলোডের জন্য নির্দেশ বাস্তবায়ন করাও শিক্ষকদের জন্য এক ধরনের মানসিক চাপ। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের পাঠদান ছাড়াও নানা কাজ করতে হয় শিক্ষকদের। তার উপর উপবৃত্তির মতো এমন তথ্য আপলোডের বিষয়ে শিক্ষকদের স্বল্প সময়ের চাপ অব্যাহত থাকায় শিক্ষকরা তাদের মানসিক চাপের বিষয়টি সংশ্লিষ্টরা নজরে রাখেন না।
এছাড়া সুবিধাভোগীদের উপবৃত্তির টাকা যখন প্রতারক চক্র নিয়ে যায় তখন উপজেলা কিংবা জেলা শিক্ষা অফিস তাৎক্ষণিক কোন ব্যবস্থাগ্রহণ করেন না। এতে করে ভুক্তভোগী অভিভাবকরা শিক্ষকদের নানাভাবে চাপসহ হয়রানি করেন। এতে করে সাধারণ শিক্ষকরাও থাকেন বিপাকে। যা শিক্ষকদের জন্য অপমান ও লজ্জাজনক। এমন বিষয়টিও সংশ্লিষ্টদের ভাবা উচিত বলে মনে করেন শিক্ষকরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক শিক্ষার উপবৃত্তি প্রদান প্রকল্প-তৃতীয় পর্যায়ের উপবৃত্তি ও কিটস অ্যালাউন্স বাবদ ৮শ’ ৬৪ কোটি ২০ লাখ ৩ হাজার ৫শ’ টাকা সুবিধাভোগীদের অ্যাকাউন্টে বিতরণের জন্য ভাতা ও উপবৃত্তি বিতরণকারী সংস্থা হিসেবে ‘নগদ’-এর সঙ্গে নতুন চুক্তি করে সরকার।

০৭ জুলাই, ২০২২।