বাবুরহাটে খাস জমি ফের অবৈধ দখলের চেষ্টা

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর পৌরসভার ১৪নং ওয়ার্ডের বাবুরহাট বাজার সংলগ্ন পশ্চিম পাশে সরকারি খাস জমি থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পর আবার জোরপূর্বক অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে গত ১০ ফেব্রুয়ারি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন চাঁদপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশানার (ভূমি) মো. আল এমরান খাঁন।
জানা যায়, ৩০নং শিলন্দিয়া মৌজার ১৯৫নং খতিয়ানভুক্ত ১৬ ও ১৮ দাগে মোঃ ০.০৮২৫ একর ভূমিতে বেশ কয়েক বছর খলিশাডুলী মৌজার কিছু ভিপি সম্পত্তিতে লিজ নিয়ে মালিক ও দখলকার ছিলেন মিজান গাজী, সিরাজ গাজী (বশু), মায়া বেগম, জলেখা বেগম, আলেয়া বেগম, মিম আক্তার ও মহিন হোসেন। তারা উল্লেখিত সরকারি খাস সম্পত্তিতে দোকান নির্মাণ করে ভাড়া দিচ্ছিলেন। কিন্তু সেই সম্পত্তির অনেকদিন খাজনা না দেওয়াসহ ব্যবহারের শর্ত ভঙ্গ করেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার মৌখিকভাবে সতর্ক করে প্রশাসন। কিন্তু তারা কোন প্রকার কর্ণপাত করেনি। ফলে উপজেলা প্রশাসন বন্দোবস্ত বাতিলের প্রস্তাব পাঠালে জেলা প্রশাসন বিধি মোতাবেক তা অনুমোদন করে এবং উপর্যুক্ত খাসজমির বন্দোবস্ত বাতিল হয়। এর ফলে বর্ণিত খাসজমি পুনরায় সরকারের ১ নম্বর খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হয়।
এরপর চাঁদপুর সদর উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের মদনার মো. ছানাউল্ল্যাহ জমদারের ছেলে মো. বাতেন জমাদার ২৮ হাজার ১শ’ ৬৩ টাকা জমা দেওয়ার প্রেক্ষিতে অনুমতিপত্র অনুযায়ী ৩০নং শিলন্দিয়া মৌজার ১৯৫নং খতিয়ানভুক্ত ১৬ ও ১৮ দাগে মোঃ ০.০৮২৫ একর ভূমিতে প্রার্থীপক্ষ উপরোক্ত বর্ণিতমতে লিজ নিয়ে মালিক ও দখলকার বিদ্যমান হয় ও আছে।
সরকারিভাবে অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ করে গত ১০ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় জনগনের উপস্থিতিতে মো. বাতেনকে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা মোতাবেক তা বুঝিয়ে দেন চাঁদপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশানার (ভূমি) মো. আল এমরান খাঁন।
বাতেন তার লিজকৃত সম্পত্তি নিয়ে যেন তারা পাঁয়তারা না করতে পারে সেজন্য সিরাজ গাজী (বশু) সহ বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা (নং ১৭৬/২৫) দায়ের করেন।
সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, অবৈধভাবে সম্পত্তি দখলকারীরা সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে আবারো তা দখলের চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে নব্য লিজকৃত মো. বাতেন বলেন, আমি সরকারের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। সরকারি নিয়মনীতি মেনে আমি লিজ নেই এবং সরকারের পক্ষ থেকে আমাকে গত ১০ ফেব্রুয়ারি সম্পত্তি বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগ করতে গেলে কাউকে পাওয়া যায়নি।

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫।