মতলব দক্ষিণের দুই গ্রামে দুর্ধর্ষ ডাকাতি

২০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট, আহত ৮

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব
মতলব দক্ষিণে দুই গ্রামে দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংগঠিত হয়েছে। গত সোমবার গভীর রাতে উপজেলার খাদেরগাঁও ইউনিয়নের মিরামা তালুকদার বাড়ি এবং নারায়ণপুর ইউনিয়নের বাগিচাপুর গ্রামের জুনাব আলী মিয়াজী বাড়িতে এ ডাকাতি সংগঠিত হয়। এসময় নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় সংঘবদ্ধ ডাকাতের দল। এসময় জান মাল রক্ষা করতে গিয়ে ডাকাত দলের হামলায় দুই গ্রামে কমবেশি আহত হয়েছেন ৮ জন।
আহতরা হলেন- মিরামা গ্রামের ইসমাইল তালুকদার, স্ত্রী ফাতেমা আক্তার বিউটি, ছেলে বাধন, ববি, এবং বাগিচাপুর গ্রামের জুনাব আলী ও তার স্ত্রী কুলসুমা বেগম এবং পাশের ঘরের মাও. আবুল হোসেন ও তার মেয়ের জামাতা রেদওয়ান উল্লাহ।
জানা যায়, সোমবার রাত ২টার দিকে ১৫/২০ জনের মুখোশধারী একটি ডাকাতের দল উপজেলার খাদেরগাঁও ইউনিয়নের মিরামা তালুকদার বাড়ির ইসমাইল তালুকদারের বাড়ির প্রধান গেট কেটে বাড়িতে প্রবেশ করে। পরে সংঘবদ্ধ ডাকাতদল থানা পুলিশের পরিচয় দিয়ে দরজা খুলে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় ব্যবসায়ী ইসমাইল তালুকদার এবং স্ত্রী-সন্তানকে অস্ত্রের মুখে বেঁধে আলমারি ভেঙে স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ও মূল্যবান কাপড়সহ প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এসময় স্বর্ণের কথা বলতে রাজি না হওয়ায় ডাকাতদল ইসমাইল তালুকদারের স্ত্রী ফাতেমা আক্তার বিউটিকে বেধড়ক মারধর করে। প্রায় দুই ঘণ্টা ডাকাতদল ঘরে অবস্থান শেষে সবাইকে বাঁধা অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
অন্যদিকে একই কায়দায় উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের বাগিচাপুর মিয়াজী বাড়িতে একতলা বিল্ডিংয়ের কলাপসিবল গেটের তালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে ডাকাতের দল। এ সময় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ এক লাখ ত্রিশ হাজার টাকা ও প্রায় ১৫ ভরী স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায় ডাকাত দল। এসময় পাশের ঘরের লোকজন টের পেয়ে ঘর থেকে বের হলে আবুল হোসেন ও তার মেয়ের জামাতা বদরপুর গ্রামের মো. রেদওয়ান উল্লাহকে এলোপাতাড়ি মারধর করে আহত করে। পরে আহতরা মতলব দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত মিরামা গ্রামের ইসমাইল হোসেন তালুকদার বলেন, ডাকাতের দল আমার বাড়ির কলাপসিবল গেটের তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে আমাকে ও আমার স্ত্রী-সন্তানকে বেঁধে এক কক্ষে আটকে রাখে। পরে অস্ত্রের মুখে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে চাবি নেয় ও ঘরের যা কিছু ছিল সব লুটে নেয়। চাবি দিয়ে খুলতে না পেরে সবকিছু ভেঙে তছনছ করে চলে যায় তারা।
বাগিচাপুর গ্রামের জুনাব আলী মিয়াজীর পুত্রবধূ সুমি আক্তার বলেন, বিল্ডিংয়ের গেটের তালা ভেঙে অস্ত্রের মুখে আমার সন্তানদের জিম্মি করে আলমারীর চাবি নিয়ে যায় এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে পালিয়ে যায় ডাকাতরা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মিয়া, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ মনজুর হোসেন রিপন, খাদেরগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ঢালী, ইউপি সদস্য মো. সুরুজ্জামান ও মহিলা সদস্য রানু বেগম।

০৫ জানুয়ারি, ২০২২।