মতলব দক্ষিণে ফুফুকে গলা কেটে হত্যা

মাহফুজ মল্লিক
মতলব দক্ষিণ উপজেলার উত্তর বাইশপুর গ্রামে ফুফু শামসুন্নাহার বেগম (৬৫) কে গলা কেটে হত্যা করেছে ভাইয়ের ছেলে পারভেজ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দিনের কোন এক সময় ফুফুকে হত্যা করে পালিয়ে যায় ভাইয়ের ছেলে ফয়সাল আহমেদ পারভেজ। শামসুন্নাহার বেগম ওই গ্রামের রাজ্জাক মুন্সীর স্ত্রী। বাবার বাড়িতেই স্বামীকে নিয়ে থাকতেন তিনি। ঘাতক ফয়সাল আহমেদ পারভেজ হচ্ছে বোরহান উদ্দিন মুন্সীর ছেলে। বর্তমানে নবকলস গ্রামেই তাদের বসবাস। হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআই।
পরিবার, এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, বুধবার সকালে শামসুন্নাহার বেগমের স্বামী রাজ্জাক মুন্সী নিজের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যান ডাক্তার দেখাতে। বাড়ি ও আশপাশের নাম প্রকাশ না করা শর্তে কয়েকজন মহিলা ও যুবক বলেন, রাজ্জাক মুন্সী বাড়ি থেকে যাওয়ার পর সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০ টায় পারভেজ তার ফুফু ঘরে আসে। আসার ঘণ্টাখানেক পর ফুফু ও ভাইপোর মধ্যে কথা কাটাকাটি ও ঝগড়ার আওয়াজ শুনতে পান। সন্ধ্যায় দেখতে পায় তাদের ঘরের দরজা বন্ধ। বাড়ির লোকজন শামসুন্নাহারদের হাঁস-মুরগী ঘরে নেয়ার জন্য ডাকাডাকি করলে কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা ধাক্কা দিয়ে দেখতে পায় গলা কাটা অবস্থায় শামসুন্নাহার নিচে পড়ে আছে।
তা দেখে বাড়ির লোকজনের চিৎকারে শত-শত মানুষ দেখতে আসে। পরে মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশকে জানানো হলে তাৎক্ষণিক তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। কি কারণে ফুফুকে হত্যা করা হয়েছে এ ব্যাপারে সঠিকভাবে কেউ কিছু বলতে পারছেন না। এদিকে হত্যাকারী ফায়সাল আহমেদ পারভেজ মতলব ফেরিঘাট দিয়ে পলায়নের চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুলিশ তাকে আটক করে।
থানার অফিসার ইনচার্জ স্বপন কুমার আইচ বলেন, হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। ফয়সাল আহমেদ পারভেজকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞেসাবাদ করা হলে জানা যাবে। সিআইডি ও পিবিআই টিম ঘটনাস্থলে এসেছে। আমরা প্রাথমকিভাব বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছি। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে কাজ করা হচ্ছে। সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হবে।
২৯ অক্টোবর, ২০২০।