যানজটে নাকাল চাঁদপুর শহরবাসী

অপ্রতুল ট্রাফিক ব্যবস্থা ও ফুটপাত হকারের দখলে

ইলশেপাড় রিপোর্ট
চাঁদপুর শহরের যানজট নিরসনে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখছে না শহরবাসী। এতে করে প্রতিদিনই যানজট নামের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে সর্বসাধারণকে। যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্টদের নীরবতাকেই দায়ী করছেন শহরবাসী। একটি পরিচ্ছন্ন ও যানজটমুক্ত শহরের লক্ষ্য রেখে ‘ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর’ নামে জেলাটিকে ব্র্যান্ডিং করা হয়। যা বর্তমানে কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ বলে মনে করছেন কেউ কেউ।
যদিও চাঁদপুর পৌরসভা থেকে শহরকে যানজটমুক্ত করতে ভ্যানসহ ভ্রাম্যমাণ হকার উচ্ছেদের কার্যক্রম নেয়া হয়। কিন্তু এতে তেমন একটা ফল পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে ব্যাটারিচালিত অটো ও ব্যাটারিচালিত রিক্সার নিয়ন্ত্রণ না থাকায় যানজট থেকে মুক্ত হতে পারছে না শহরবাসী। দ্রুত এ ব্যাপারে পৌরসভার সাঁড়াশি অভিযান না চালালে ভবিষ্যতে লোকজন রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকবে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।
এছাড়া রয়েছে রাস্তার পাশে সিএনজিসহ যানবাহন পাকির্ং করে রাখা। ট্রাফিক পুলিশের এতে তেমন কোন ভূমিকা না থাকায় ছোট-ছোট রাস্তার প্রায় পুরোটাই আটকে থাকে। ফলে যানজট লেগে থাকে দীর্ঘসময়।
কি কারণে এমন পরিস্থিতি আর এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির উপায় কি এ নিয়ে সর্বমহলেই আছে নানা মত আর পরিকল্পনা। কিন্তু কেউই কোন দৃশ্যমান অগ্রগতি করতে সক্ষম হচ্ছে না। এতে করে শহরের স্বভাবিক সৌন্দর্য্য অনেকাংশেই নষ্ট হয়ে পড়ছে। তবে যানজট বৃদ্ধির পেছনে অতিরিক্ত ব্যাটারিচালিত অটোকেই দায়ী করা হলেও তা নিয়ন্ত্রণের কথা কেউই ভাবছে না বলে অভিযোগ উঠছে সবমহল থেকেই।
শহরের অভ্যন্তরে কি পরিমাণ অটো চলাচল করবে তা নির্ধারণ করার দায়িত্বই মূলত পৌর কর্তৃপক্ষের। তাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার অভাবেই মূলত বাড়ছে ব্যাটারিচালিত অটোর চাপ। পাশাপাশি শহরের প্রতিটি সড়কেই প্রকাশ্যেই ফুটপাত দখল করে রাখছে হকাররা।
অপরদিকে ট্রাফিক পুলিশের স্বল্পতা তো আছেই। প্রতিটি মোড়ে মোড়ে পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ কিংবা যানবাহন তদারকি করার জন্য নেই জনবল। সব মিলিয়ে হ-য-ব-র-ল অবস্থায় পড়েছে পুরো পরিস্থিতি। আর সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এখন চরম পর্যায়ে রয়েছে। ট্রাফিকের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি পৌর কর্তৃপক্ষের প্রয়োজন নিজস্ব ভলেন্টিয়ার সেবার।
যানজটকে নিয়ন্ত্রণ কিংবা কমিয়ে আনতে শহরবাসী সড়কগুলোকে ওয়ানওয়ে করার দাবি করে আসলেও বাস্তবায়নে তেমন কোন দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখছে না কেউ। পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিটি সড়ক প্রশস্থ করার জোরালো দাবি থাকলেও সংশ্লিষ্টরা বরাবরই নির্বিকার।
এমন পরিস্থিতিতে শহরের যানজট সামনের দিনগুলোতে কোন পর্যায়ে থাকবে তা কেউ হলফ করে বলতে পারছে না। তবে শহরবাসী বলছে সাবেক পুলিশ সুপার শামছুন্নাহার ও জেলা প্রশাসক আবদুস সবুর মন্ডলের সময়কালে কমবেশি যানজট নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ছিলো লক্ষ্যনীয়। এছাড়া অধিকাংশ সময়েই হকারমুক্ত থাকতে দেখা যেত শহরের সড়কগুলেকে।
চাঁদপুর শহরের সর্বসাধারণ বলছেন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের ত্রয়ী পরিকল্পনাই পারে একটি যানজটমুক্ত শহর উপহার দিতে। এজন্য সংশ্লিষ্টরা একটু কঠোর হলেই তা দৃশ্যমান করা সম্ভব। কারণ হিসেবে সবাই বলছে, পর্যটন শহর হিসেবে চাঁদপুরকে দেশ-বিদেশে পরিচয় করিয়ে দিতে হলে সবার আগে এই ছোট্ট শহরটিকে পরিকল্পতিভাবেই সাজাতে হবে।
সড়কগুলোর পাশাপাশি শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়কের লেকটি’র দু’পাশকে সজ্জিত করা সময়ে দাবি। পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন রুপে শহরটিকে গড়ে তুলতে একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়নের দাবি করছেন কেউ কেউ।
তবে বর্তমানে ফুটপাতকে দখলমুক্ত, ব্যাটারিচালিত সুনির্দিষ্ট রংয়ের অটো ও সিএনজিকে শহরের প্রবেশাধিকার দিয়ে প্রাথমিকভাবে যানজটকে কমিয়ে আনা সম্ভব। এছাড়া পুরান বাজার থেকে ওয়্যারলেস মোড় পর্যন্ত কোন যানবাহন সংস্থাকে দিয়ে ক্ষুদ্র পরিসরের সিটি বাসের আদলে গণপরিবহন সিস্টেম চালু করা সম্ভব হলে অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে যানজট নামক যন্ত্রণা।
এখন দেখার বিষয় সংশ্লিষ্টরা চাঁদপুর শহরটি সুন্দর শহর হিসেবে গড়ে তুলতে কতটা আন্তরিকতার পরিচয় দেন।

০৯ আগস্ট, ২০২২।