লিবিয়ায় গিয়ে ছেলেকে মুক্ত করে আনলেন দেবীদ্বারের এক দুঃসাহসী মা

জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল
লিবিয়ায় গিয়ে মানবপাচারকারী মাফিয়াদের বন্দীদশা থেকে একমাত্র ছেলেকে মুক্ত করে আনলেন কুমিল্লার দেবীদ্বারের এক দুঃসাহসী মা শাহিনুর বেগম। তিনি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের আবুল খায়েরের স্ত্রী। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ৩ মাসের দুঃসাহসিক প্রচেষ্টায় গত মার্চ মাসে ছেলে ইয়াকুবকে নিয়ে দেশে ফেরেন তিনি।
জানা যায়, জীবিকার তাগিদে ২০১১ সালে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ লিবিয়ায় পারিজমান কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের আবুল খায়ের। আর্থিক অবস্থার খুব একটা পরিবর্তন না হওয়ায় আবুল খায়ের ২০১৯ সালে এক মাত্র ছেলে ইয়াকুবকেও কাজের জন্যে লিবিয়ায় পাঠান। সেখানে গিয়ে তরুণ ইয়াকুব মানব পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে আরো উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখে। ভাগ্যের চাকা বদলাতে ২০২১ সালে গোড়াতে মানব পাচারকারীদের দেখানো পথে নৌকায় করে ইতালির উদ্দেশ্যে রওনা হয় ইয়াকুব। আর বিপত্তি ঘটে এখানেই। ইতালি যাওয়ার নামে মানবপাচারকারীদের হাতে বন্দি হয় ইয়াকুবসহ অন্তত আরো ৩শ’ বাঙালি। এরপর থেকে পরিবারের সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় ইয়াকুবের। ইতালি যাবার সময় সাগর পথেই মাফিয়াদের হাতে আটক হয় তারা। এরপরই শুরু হয় দুঃসহ জীবন। খাবার সংকট। তার উপর চলে নির্যাতন।
এদিকে একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা আবুল খায়ের। শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। বাঙালি দালালদের টাকা দিলেও তারা টাকা নিয়ে কেটে পড়ে। শেষমেশ ছেলেকে আনতে ধারকর্য করে লিবিয়ায় যান ইয়াকুবের মা আবুল খায়ের স্ত্রী শাহীনুর বেগম। প্রবাসী বাঙালি এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার মাধ্যমে ফিরে পান ইয়াকুবকে। বাংলাদেশ দূতাবাস এবং আইওএম’র সহযোগিতায় ইয়াকুব ও তার মা শাহিনুর গত ২১ মার্চ লিবিয়া থেকে কুমিল্লায় ফেরেন। তবে আবুল খায়ের জীবিকার তাগিদে লিবিয়াতেই রয়ে গেছেন।
ইয়াকুবকে ফিরে পেতে জাহাঙ্গীর নামের সিলেটের এক দালালের কাছে সর্বশেষ চার লাখ টাকা দিয়েছিলেন শাহীনুর বেগম। টাকা নিয়ে কেটে পড়ে দালাল জাহাঙ্গীর। এভাবে ছেলেকে ফিরে পেতে ২০ লাখ টাকা ব্যয় করে পরিবারটি। বিক্রি করে দেন বাড়ি-ঘর। ছেলেকে ফিরে পেতে বাড়ির জমি-গরু বেঁচে বাংলাদেশি দালালদের যে বিশ লাখ টাকা দিয়েছেন তা ফেরত চান এই ভুক্তভোগী মা। এসব বাঙালি দালালদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
জেলা শ্রম ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক দেবব্রত ঘোষ জানান, ইয়াকুবের পরিবারের কাছ থেকে সব তথ্য নেয়া হয়েছে। তাদের সব ধরনের আইনী সহযোগিতা দেয়া হবে।

১৩ এপ্রিল, ২০২২।