সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুরক্ষা ও সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ শীর্ষক আলোচনা সভা

খুৎবায় সামাজিক অবক্ষয়ের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিতে হবে
………..জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান

সজীব খান
চাঁদপুর জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুরক্ষা ও সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৯ জুন) সকাল ১০টায় সদর উপজেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, মুসলমানের ধর্ম তো একটাই। ইসলাম ধর্ম হচ্ছে সবচাইতে সহজ ও শান্তির ধর্ম। আমরা হচ্ছি উত্তরাধিকার সূত্রে মুসলমান, বাপ-দাদা থেকে শুরু করে বংশ-পরম্পরায় আমরা মুসলমান। ইসলাম সব সময় শান্তির কথা বলে। সামনে আমাদের কোরবানি আসছে, এ কোরবানি মাংস গরিবদের কয় ভাগ হবে- এটা নিয়েও অনেক মতাদর্শ রয়েছে। কারণ বর্তমান সময় ইউটিউবে নিজেদের ব্যবসার জন্য অনেক অসত্য তথ্য দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। এ বিষয়গুলো সবাইকে জানাতে হবে। আমাদের গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনো ইসলামের সঠিক বার্তা পৌঁছেনি। সে বিষয়টিও গুরুত্ব দিতে হবে। করোনার ৪র্থ দাপ বাড়ছে। আমাদের কোভিডের হার বাড়ছে। করোনা থেকে সুরক্ষা থাকতে হলে সবাইকে মাস্ক পড়তে হবে। সচেতনতার বিষয়ে জোরদার করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশ অনেক এগিয়ে আসছে। ২০৪১ সালে বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে, গড় মাথাপিছু আয় বাড়বে। অগ্নি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। প্রতিবাদ করেন, কিন্তু প্রতিবাদ যাতে মিছিলের দিকে না যায়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে বক্তব্য দিতে হবে। দেশ ও রাষ্ট্রের যাতে কোন প্রকার ক্ষতি না হয়। উস্কানিমূলক কোন প্রকার কথা বলা যাবে না। খুৎবায় সামাজিক অবক্ষয়ের বিষয়ে সবাইকে জানাতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন করার জন্য মসজিদে মসজিদে খুৎবায় বললে দেশ থেকে মাদক নির্মূল হবে।
তিনি বলেন, একটা সম্মিলিত স্থানে সবাইকে আসতে হবে। করোনাকালীন সময়ে অনেকেই নামাজ পড়েছেন, নামাজি হয়েছে, দান-খয়রাত করেছে। সুন্দর ও সম্প্রীতির পথে আমাদের সবাইকে থাকতে হবে, অন্যের ধর্মের প্রতি সুন্দর আচারণ করাই আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। অনেকে বিভিন্ন সমাবেশে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে আসছে, সে বক্তব্য শান্তির পক্ষে বলতে হবে। শান্তিপূর্ণভাবে আলোচনা প্রতিবাদ করতে হবে। কয়েকদিন আগে ভারতের একটি রাজনীতিক দলের নেতা আমাদের নবীজিকে নিয়ে কটূক্তি করেছে। এটা নিয়ে বিশ্বের মুসলমানদের মনে কঠিনভাবে আঘাত করেছে।
তিনি বলেন, আমাদের পদ্মা সেতু উদ্বোধন হয়েছে। আমাদের টাকায় পদ্মা সেতু তৈরি করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্ব তা সম্ভব হয়েছে। নতুন প্রজন্মকে ইসলামিক শিক্ষায় সুশিক্ষিত করতে হবে। দেশের বা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ইমামরা কঠিনতম দায়িত্ব পালন করছে। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলার বিষয়ে মুসল্লিদের জানাচ্ছেন। একজন মানুষ জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সব বিষয়ে পবিত্র কোরআনে আছে। কোরআন একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। পারস্পরিক ধর্মকে যাতে আঘাত না আসে সে বিষয়ে ইমামরা ওয়াজ মাহফিলে ভালোভাব তুলে ধরলে দেশ থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি বজায় থাকবে। কোরআনকে আকড়ে ধরতে হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইমতিয়াজ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফিল্ড অফিসার মাও. মো. বিল্লাল হোসেনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদ, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নাজিম দেওয়ান, সদর ইউএনও (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফাহমিদা হক, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি গিয়াসউদ্দিন মিলন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ খলিলুর রহমান, জেলা ইমাম মুয়াজ্জিন কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাও. মো. আব্দুর রহমান গাজী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন মাও. সোলাইমার। নাতে রাসুল পাঠ করেন মাও. গোলাম কিবরিয়া।
এসময় জেলার প্রখ্যাত আলেম, সুশীল সমাজ, সরকারের বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

৩০ জুন, ২০২২।