হাইমচরে জোয়ারের পানিতে অসংখ্য গ্রাম প্লাবিত

বেড়ি বাঁধে ভাঙন

সাহেদ হোসেন দিপু
মেঘনা নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে হাইমচর উপজেলার ৬টি বাজারসহ বেড়ি বাঁধের বাইরে থাকা গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন ওইসব গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। পানির স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অভ্যন্তরীণ সড়ক, ভেসে গেছে পুকুর ও ঘেরের মাছ। পানির নিচে তলিয়ে গেছে পানের বরজ, ফসলী জমিসহ ঘর-বাড়ি। গবাদি পশু, গরু, ছাগল, হাস-মুরগি বেড়ি বাঁধের উপরে নিয়ে রাখা হয়েছে।
কিছু কিছু জায়গায় বেড়ি বাঁধের উপরে দিয়ে পানি প্লাবিত হয়ে বেড়ির ভিতরের অনেক বাড়ি-ঘর পানিতে প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে হাজার-হাজার মানুষের স্বপ্ন। নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছে কৃষক ও মৎস্যজীবী পরিবারগুলো। নদীর পশ্চিম পাড়ে প্রতিটি ঘর তলিয়ে গেছে জোয়ারের পানিতে। চরাঞ্চলে পানির স্রোতে বসতঘর ভেঙে পড়ে অনেকে আহত হওয়ারও খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ করে মেঘনার জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বাড়তে থাকে। বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে জোয়ার স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট বেড়ে মেঘনা নদীর তীরবর্তী চরভৈরবী বাজার, আমতলি বাজার, চরভৈরবী নতুন বাজার, হাইমচর বাজার, তেলির মোড় বাজার, কাটাখালি বাজারসহ জালিয়ারচর, আমতলি, গাজীনগর, হাইমচর, চরভাঙ্গা, পশ্চিম চরকৃষ্ণপুর, কাঠাখালী ও লামচরি গ্রামসহ প্রায় ৩০টি গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে যায়। চরভৈরবী, কালাচকিদার মোড়, তেলির মোড় এবং মহজমপুর বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে পানি ঢুকে যায়।
মহজমপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর জানান, আমার ঘরের ভিতরে কোমড় পরিমাণ পানি। ঘরের আসবাবপত্র চকির উপরে উঠিয়েও রক্ষা হয়নি। পানিতে ভেসে গেছে হাঁস-মোরগসহ ঘরের আসবাবপত্র। এমন পানি আমার জীবনে কখনো দেখিনি। হঠাৎ করে ঘর-বাড়ি, পথ-ঘাট সব তলিয়ে গেল।
পশ্চিমচর কৃষ্ণপুর এলাকার মৎস্যজীবী জসিম জানান, জোয়ারের পানিতে তার মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। জায়ারের পানিতে তার মৎস্য ঘেরের প্রায় ১০ লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে।
চরভৈরবী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আহমেদ আলী মাস্টার জানান, উপজেলার মধ্যে সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমার ইউনিয়নের বাসিন্দাদের। আমার ইউনিয়নে প্রায় আড়াই হাজার পরিবার এখনো পানিবন্দী হয়ে আছে। প্রায় ৪শ’ মাছ ব্যবসায়ীর ঘের পানিতে তলিয়ে মাছ ভেসে গেছে। ব্যাপক ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়ে প্রায় ৫শ’ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমতলী সড়কটির উপর দিয়ে পানি প্লাবিত হয়ে সড়কটি ভেঙে গেছে।
গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান গাজী জানান, অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে তার ইউনিয়ন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। জোয়ারের স্রোতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য ঘর-বাড়ি। তিনি বলেন, আমার ইউনিয়নে ১০ থেকে ১২টি ঘর পানির স্রোতে ভেঙে গেছে। অনেকেই আহত হয়েছে। তাদের উদ্ধার করার জন্য আমার ছেলেসহ লোকজন পাঠিয়েছি। আমার ইউনিয়নসহ চরাঞ্চলের প্রতিটি ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

০৫ আগস্ট, ২০২০।