কিস্তির টাকায় নির্মিত ঘরসহ সাজানো গৃহস্থালি পুড়ে ছাই
মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
৪৫ বছর বয়সি দিনমজুর হারুন অর রশিদ। প্রায় ত্রিশ বছরের সংসার জীবন। ঋণের টাকায় বসতঘর নির্মাণ। সেই ঋণ পরিশোধ করে আবারো ঋণ। এভাবে একেক করে আসবাবপত্র, টিভি, ফ্রিজসহ বসতঘরকে সাজানোর যা কিছু প্রয়োজনীয় সবকিছুই তিনি ক্রয় করেন। আর কায়িক পরিশ্রম করে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেন। সবকিছু মিলে সুখের জীবন।
কিন্তু সেই সুখ কপালে সইলো না তার। মাত্র আধাঘণ্টার মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে তার বসতঘরটি। বলছি, হাজীগঞ্জ উপজেলার বাকিলা ইউনিয়নের গোগরা গ্রামের হাওলাদার বাড়ির মরহুম সোলেমান হাওলাদারের ছেলে মো. হারুন অর রশিদের কথা। তিনি হারুন হাওলাদার নামেই পরিচিত।
সোমবার (১৫ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে আগুনে হারুন হাওলাদারের চৌকাঠে নির্মিত বসতঘর ও ঘরে থাকা আসবাবপত্র, তৈজসপত্র, টিভি, ফ্রিজ, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, পোশাক ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে পরনের কাপড় ছাড়া তার ও পরিবারের কোনো কিছুই অবশিষ্ট নেই। এখন তিনি স্ত্রী, সন্তান নিয়ে খোলা আকাশের নিচে। ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক সর্ট-সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত।
স্থানীয়রা বলছেন, আগুনে বসতঘর পুড়ে ছাই হয় নাই। পুড়েছে দিনমজুর হারুন হাওলাদারের কপাল। জানা গেছে, এদিন বেলা আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে ওই বাড়ির হারুন হাওলাদারের বসতঘরে আগুন দেখে নিজ বাড়ির লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। এসময় প্রতিবেশীরা ফায়ার সার্ভিসে ফোন দেন এবং তারা শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। কিন্তু ভয়াবহ আগুনের কাছে তারা অসহায়।
মাত্র আধঘণ্টার আগুনে হারুন হাওলাদারের বসতঘরটি পুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। খবর পেয়ে কয়েক শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশুদের ভিড় জমে ওই বাড়িতে। এসময় হারুন হাওলাদারের পরিবারের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বাবারে আমার সব শেষে হয়ে গেছে। আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি।
বাড়ির লোকজন জানান, হারুন হাওলাদার বিভিন্ন এনজিও থেকে কিস্তির (ঋণ) টাকা উঠিয়ে ঘর নির্মাণ করেন এবং ঘরের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই কেনেন। কিন্তু তার ঘরটি আগুনে পুড়ে যায়। তিনি নিঃস্ব হয়ে গেছেন। তাই প্রশাসনসহ বিত্তবানদের প্রতি হারুন হাওলাদারকে সহযোগিতার আহ্বান জানান এলাকার লোকজন।
এ ব্যাপারে বাকিলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান মিলন জানান, সব শুনেছি। লোকটি আসলেই নিঃস্ব। আমরা তাকে কিছু সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি।
১৬ জানুয়ারি, ২০২৪।
