রামগঞ্জ-হাজীগঞ্জ-কচুয়া সড়কের হাজীগঞ্জ অংশে বেড়েই চলেছে ছিনতাই
মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
রামগঞ্জ-হাজীগঞ্জ-কচুয়া সড়কে বেড়েই চলেছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। সড়কের হাজীগঞ্জ বাজার থেকে কাঁঠালি-বাদামতলী বাজার পর্যন্ত সড়কের ঘটছে এসব ছিনতাই। সড়কে ছিনতাইকালে বিভিন্ন ছোট পরিবহনের যাত্রী ও চালককে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে রক্তাক্ত করার ঘটনাও ঘটেছে। তবে কোন ঘটনায় থানায় অভিযোগ হয়নি।
এর মধ্যে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৫টার দিকে হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন মকিমাবাদ তাকওয়া মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় একটি মাইক্রো (হাইস) গাড়ি গতিরোধ ও ভাংচুর করে ওমরা ফেরত ৩ যাত্রীর তিনটি ট্রলিসহ অন্যান্য মালামাল নিয়ে যায়। ট্রলিতে একটি নতুন ল্যাপটপ ও স্বর্ণালংকার গুরুত্বপূর্ণ মালামাল ছিলো বলে জানা গেছে।
এসময় ছিনতাইকারীদের মারধরে মাইক্রো চালকের হাত কেটে যায়। ওমরা যাত্রী ও মাইক্রো চালক জানান, একটি পিকআপ (মিনি ট্রাক) এসে তাদের গাড়ি গতিরোধ করে। এসময় তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গাড়ির গ্লাস ভাংগে এবং চালককে মারধর শুরু করে। পরে তারা গাড়িতে থাকা তিনটি ট্রলিসহ অন্যান্য মালামাল নিয়ে যায়।
তারা আরো জানান, কচুয়া থেকেই তাদের ফলো করা হয়েছে। তবে তারা বিষয়টি বুঝতে পারেননি। ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন- লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের চরপাগলা গ্রামের মৃত মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে মাহবুবুর রহমান, তার মা ও স্ত্রী।
এক নারীর ফেসবুক লাইভ থেকে জানা গেছে, তিনিসহ আশপাশের লোকজন ডাক-চিৎকার শুনে বের হয়েছেন। ঘটনাস্থলে এসে দেখেন মাইক্রো গাড়ির গ্লাস ভাঙ্গা, চালকের হাত থেকে রক্ত ঝরছে। তিন যাত্রী ওমরা করে দেশে এসে নিজ বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর ফেরার পথে সর্বস্ব লুটের শিকার হন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও ছিনতাইয়ের শিকার লোকজনের সাথে কথা বলেছেন হাজীগঞ্জ থানার এসআই আবু আব্দুল্লাহ ও আবু সায়েম।
কিছুদিন আগে একই সড়কের কাজীরগাঁও-বদরপুর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় একটি সিএনজিচালিত স্কুটার (সিএনজি) গতিরোধ করে কামাল হোসেন ও আব্দুল জলিল নামের বিদেশগামী দুইজন যাত্রীর কাছ থেকে নগদ প্রায় ৮০ হাজার টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরাসহ সিএনজি চালক সজিব জানান, একটি মোটরসাইকেলের পাশে দাঁড়ানো তিনজন ব্যক্তি টার্গেট লাইট আলো দিয়ে তাদের সিএনজি গতিরোধ করেন। এরমধ্যে একজন পুলিশি পোশাক পরিহিত ও অস্ত্রধারী ছিলেন। পরে সিএনজি থামালে তারা যাত্রীদের তল্লাশি ও মারধর করে নগদ প্রায় ৮০ হাজার টাকা নিয়ে চলে যায়।
তিনি বলেন, তারা টার্গেট লাইট দিয়ে আমাকে গাড়ি থামাতে ইশারা করে। এসময় আমি গাড়ি স্লো করি এবং একজনের পরনে পুলিশের পোশাক ও হাতে গুলি (রাইফেল) দেখে গাড়ি থামাই। এসময় তারা যাত্রীদের তল্লাশি করে জোরপূর্বক টাকা-পয়সা নিয়ে যায়। বাঁধা দিলে তারা যাত্রীদের মারধর করে।
এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ না দিলেও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা হাজীগঞ্জ থানার ওসির (অফিসার ইনচার্জ) কাছে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজন।
কথা হয় কয়েকজন সিএনজি চালক ও স্থানীয়দের সাথে। তারা জানান, প্রায় সময় এ রকম ছিনতাইয়ের ঘটনা শুনি। তবে আগে মাঝে-মধ্যেও শুনলেও, এখন প্রায় দিনই চুরি-ছিনতাই কথা শুনতে পাচ্ছি। তাদের দাবি, পুলিশি টহল জোরদার এবং বিভিন্ন স্পটে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হোক। এতে সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়া সহজ হবে।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ফারুকের সাথে সংবাদকর্মীদের কথা হলে তিনি জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে আমরা খোঁজÑখবর নিচ্ছি এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।
০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫।
