হাজীগঞ্জে করোনা উপসর্গে তরুণী গৃহবধূ ও বৃদ্ধের মৃত্যু

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে করোনার উপসর্গ নিয়ে এক তরুণী গৃহবধূ ও এক বৃদ্ধ মারা গেছেন। মঙ্গলবার (৫ মে) দিবাগত রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে লিপি আক্তার (২০) নামে ঐ তরুণী মারা যান। লিপি পৌরসভাধীন ৩নং ওয়ার্ড ধেররা পাটোয়ারী বাড়ির ফারুক পাটোয়ারীর স্ত্রী।
অপরদিকে উপজেলার ৫নং সদর ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামের মিজির বাড়ির বাসিন্দা শহীদ উল্যাহ (৭৩) করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান। সোমবার দিবাগত রাতে তিনি নিজ বাড়িতে মারা যান।
জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে করোনা উপসর্গ নিয়ে লিপি আক্তারকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান তার স্বজনেরা। ভর্তির মাত্র ৯ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি মারা যান। মৃত তরুণীর করোনা পরীক্ষায় নমুনা সংগ্রহ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, লিপি আক্তার গত ৪/৫ দিন যাবৎ সর্দি-জ্বর, পাতলা পায়খানা ও গলা ব্যথায় ভুগছিলেন। এরপর তার বুমি শুরু হলে স্বজনেরা মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। রাত সাড়ে ৮ টায় হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এদিকে নিহত লিপি আক্তারসহ করোনা উপসর্গে উপজেলায় এ পর্যন্ত তিনজন মারা গেছেন। এর আগে ফাতেমা নামের হাজীগঞ্জের একজন নারী চাঁদপুরে করোনা উপসর্গে মারা যান। পরে নমুনা পরীক্ষায় তার করোনা পজেটিভ আসে।
অপরদিকে নিহত শহীদ উল্যাহকে মঙ্গলবার দুপুরে নিজ বাড়ির কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কিনা তা জানতে তার নমুনা সংগ্রহ করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ সফিকুল ইসলাম মীর জানান, শহীদ উল্যাহ গত কয়েকদিন ধরে জ্বর, সর্দি ও গলা ব্যথায় ভুগছিলেন। সোমবার রাতে তার পাতলা পায়খানা ও বমি হয় এবং এদিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন।
চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) মো. আফজাল হোসেন জানান, মৃত্যুর বিষয়টা জেনেছি। স্বাস্থ্য বিধি অনুযায়ী নিহত বৃদ্ধকে দাফন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত সোমবার করোনা উপসর্গ নিয়ে একই ইউনিয়নের মৈশাইদ উত্তর পাড়ার রেখা বেগম নামের একজন গৃহবধূও মারা যান।

০৬ মে, ২০২০।