হাজীগঞ্জে কাউন্সিলর রিটন সাহার অত্যাচার থেকে বাঁচার আকুতি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন

সাংসদ, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে

হাজীগঞ্জ ব্যুরো
হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর রিটন চন্দ্র সাহার অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে অসহায় একটি পরিবার। প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ, জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতে শুক্রবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে স্থানীয় একটি রেস্তোরায় ওই ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত গৌরাঙ্গ সাহার ছেলে সুধীর সাহা (৭০) এই সংবাদ সম্মেলন করেন।
লিখিত বক্তব্যে সুধীরা সাহা বলেন, আমার ছেলে কার্তিক সাহা হাজীগঞ্জ বাজারের একজন ব্যবসায়ী। তার স্ত্রীকে লোভ-লালসায় ফেলে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে ব্যাভিচারে লিপ্ত রয়েছেন কাউন্সিলর রিটন চন্দ্র সাহা। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালেও কোন বিচার পাইনি। এমনকি থানায় কয়েকটি অভিযোগ দিলেও এর সুরাহা হয়নি। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে একটি ব্যাভিচার মামলা আদালতে চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার ছেলে প্রতিবাদ এবং আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করলে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় নামে-বেনামে ডাকাতি, হত্যা, রাহাজানিসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে মিথ্যা মামলার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে রিটন চন্দ্র সাহা এবং আমার পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে সে। এতে করে আমি ও আমার ছেলে কার্তিক সাহা, আমার ২ নাতিনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জীবন হুমকির মুখে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে সুধীর সাহা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলের ২টি কন্যা সন্তান রয়েছে। বর্তমানে রিটন সাহার অবৈধ সম্পর্কের কারণে ২টি মেয়ের ভবিষ্যৎ জীবন প্রশ্নের সম্মুখীন। আমরা সামাজিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছি এবং আমার ২টি নাতিনও সমাজে চলতে লজ্জিত হচ্ছে। তার কারণে আমার ছেলে ও নাতনির সুখের সংসার এখন ধ্বংসের পথে।
সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের সাংসদ মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সুধীর সাহা বলেন, ঈশ^র ছাড়া আমাদের আর কেউ নেই। এই অত্যাচারী জালিমের (কাউন্সিলর রিটন চন্দ্র সাহা) হাত থেকে আমরা বাঁচতে চাই। আমাদের নিরাপত্তা দিন। এ সময় তিনি ও তার স্ত্রী দীপালি সাহা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রচার সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সিফাতের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্যবৃন্দসহ উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
৩০ জানুয়ারি, ২০২১।