হাজীগঞ্জে পাড়া-মহল্লায় আড্ডায় মেতেছে লোকজন

প্রশাসনের নতুন নির্দেশনা, অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা : ইউএনও



মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জ বাজারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া জনসচেতনতার লক্ষ্যে শ্রমজীবী মানুষ এবং বাজারে আসা নারী-পুরুষদের প্রয়োজন ছাড়া বাসা-বাড়ি থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তিনি গতকাল বুধবার থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলমগীর হোসেনসহ পুরো বাজার ঘুরলেন। সামনে যাকে পেয়েছেন, তাকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ করলেন।
পৌরসভাধীন ৮নং ওয়ার্ডের টোরাগড় দক্ষিণ পাড়া, ৭নং ওয়ার্ড টোরাগড় উত্তর পাড়ায় ও মমিন রোডের শেষ মাথায় কংগাইশ ও রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় পুলিশের অবস্থান। দোকানে এবং খেলারত কিশোর-যুবক ও শ্রমজীবী মানুষের জনসমাগম। প্রশাসন ও পুলিশ সবাইকে জনসমাগম বিষয়ে নিরুৎসাহিত করলেন। লোকজন যার যার অবস্থান থেকে চলে গেলেন। ইউএনও এবং পুলিশ ফিরে এলো।
ঘড়ির কাটায় মাত্র ১০ মিনিট পার হতে না হতেই, সব স্থানেই সেই আগের অবস্থান। প্রশাসন ও পুলিশকে ফাঁকি দিচ্ছে লোকজন। এ যেন লুকোচুরি খেলা। এভাবেই হাজীগঞ্জে পাড়া-মহল্লায় কিশোর-যুবকেরা খেলা ও আড্ডা এবং শ্রমজীবি মানুষেরা আড্ডায় মেতে উঠেছে। করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে মানুষজনকে ঘরে থাকার জন্য বার বার তাগিদ দিচ্ছে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। কিন্তু কে শুনে কার কথা?
হাজীগঞ্জ বাজারসহ উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে লকডাউনের কারণে বদলে গেছে চিরচেনা ব্যস্ততার ছবি। সরকারের নিষেধাজ্ঞা আর প্রশাসনের নজরদারিতে প্রধান সড়কগুলোতে মানুষের উপস্থিতি হাতে গোনা। চলছে না তেমন গাড়িও। তবে ভিন্ন চিত্র অলি-গলিতে। সেখানে অবাধে ঘুরছে লোকজন। জমিয়ে দিচ্ছে আড্ডাও।
যখনি প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পাচ্ছে, তখন লোকজন কিছু সময়ের জন্য ঘরে ফিরে গেলেও খানিক পর আবারও ফিরে আসছে রাস্তায়, দোকানে কেউবা খেলার মাঠে। সামাজিব দূরত্ব না মানার এই চিত্র পৌরসভাসহ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে। এ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আমাদের সতর্ক ও সচেতন এবং দায়িত্বশীল হতে হবে।
আমাদের শিক্ষা নিতে বিশ্বের অর্থনৈতিক ও সামরিক পরাক্রমশালী দেশ আমেরিকা এবং ইতালি, ব্রিটেন, ফ্রান্স, স্পেন ও ইরানসহ অন্যান্য সমৃদ্ধশালী দেশ থেকে। উল্লেখিত সমস্যা মোকাবেলায় যাদের সক্ষমতা আমাদের চেয়ে হাজার গুণ বেশি। অথচ তাদের চোখ আজ ছানাবড়া। প্রতিদিন অসংখ্য লোক মারা যাচ্ছে সেসব ক্ষমতাধর ও উন্নত দেশে। তাই মহা-বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পেতে আজই সরকারি বিধি-নিষেধ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অবশ্যই মেনে চলতে হবে।
এদিকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে জনসমাগম এবং সম্ভাব্য বিস্তার ঠেকাতে উপজেলা প্রশাসন তথা সরকারকে সহযোগিতা করার জন্য আবারো অনুরোধ জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া, দিয়েছেন হুঁশিয়ারিও।
গতকাল বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা জানিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন ইউএনও বৈশাখী বড়ুয়া। নির্দেশনা অনুযায়ী পহেলা মার্চ থেকে আগামি ৭ মার্চ পর্যন্ত সকাল ৮ টা হতে দুপুর ২টা পর্যন্ত শুধুমাত্র কাঁচাবাজার, মুদি দোকান ও সার-বীজের দোকান খোলা রাখার সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে।
নির্দেশনা বলা হয়েছে, শুধুমাত্র ফার্মেসী বা ঔষধের দোকান ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। দুপুর ২টার পর ঔষধের দোকান ছাড়া অন্য কোন দোকান খোলা রাখা যাবে না। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অযথা বাইরে ঘুরাঘুরি বা চলাফেরা করা থেকে বিরত থাকা। প্রয়োজনে বাইরে বের হলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। সব ধরনের রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা সামাজিক জনসমাবেশ বন্ধ রাখা, ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, সকল প্রকার যানবাহন চলাচল নিরুৎসাহিত করার বিষয়ে জনসাধারনের বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।
উল্লেখিত এ আদেশ জনস্বার্থে জারি করা হলো। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া। বুধবার উপজেলা প্রশাসনের সাথে সেনাবাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। মাঠে রয়েছে পুলিশও।