হাজীগঞ্জে বোরো ধানের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

চালের চাহিদা পূরণে ৪৫০ জন কৃষককে আউশ প্রণোদনা

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
সারাদেশে অতিরিক্ত গরম ও তীব্র তাপপ্রবাহ চলছে। এর মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গত রোববার ও সোমবারের বৃষ্টিপাত মানুষের মাঝে অনেকটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। তবে এ বছর আবহাওয়ার এই উত্তাপ দেশব্যাপী ফসলের মাঠে কৃষকের মুখে এনে দিয়েছে হাসি। এর ব্যতিক্রম হয়নি হাজীগঞ্জেও।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবছর উপজেলায় চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্র ছাড়িয়ে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এখন চলছে ধান কাটার উৎসব। ইতোমধ্যে উপজেলার প্রায় ৫০ শতাংশ ধানা কাট হয়ে গেছে। তবে সোমবারের বৃষ্টি কৃষকের জন্য কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে পৌরসভাসহ উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ৬ হাজার ৬শ’ ১৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আবাদ হয়েছে ৬ হাজার ৬শ’ ২১ হেক্টার। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ হেক্টর বেশি জমিতে ধান চাষ হয়েছে।
চাষকৃত ধানের মধ্যে বি-আর ২৮, বি-আর ২৯, হীরা, হাইব্রিড-৭৫, ৮১, ৯১, সবুজ সাথী, বীনা ধান ২৫, ব্রী ধান-৯২, এসএলএইডএইচ, জাগরনীসহ বিভিন্ন প্রজাতির উচ্চ ফলনশীল ধান রয়েছে। এর মধ্যে বীনা ধানা ২৫ হচ্ছে বাসমতি চালের বিকল্প। সবমিলিয়ে এবছর ধানের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪০ হাজার ৫শ’ মেট্রিক টন ধান ছাড়িয়ে যাবে বলে কৃষি কর্মকর্তা আশা প্রকাশ করেছেন।
এদিকে ইরি-বোরো উৎপাদন বাড়াতে প্রতিবছরের মতো এবছরও সরকার কৃষকদের বীজ ও সার প্রণোদনা দিয়েছে এবং নিয়মিত প্রশিক্ষণও অব্যাহত আছে। পাশাপাশি বোরো ধান উৎপাদনের বিভিন্ন উপকরণ ন্যায্যমূল্যে সহজ প্রাপ্তি ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণেও অনেক কৃষক ধান চাষাবাদে উৎসাহিত হয়েছেন। অনেকে নতুন করে চাষাবাদও করেছেন।
গত সপ্তাহে উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এর মধ্যে কোন মাঠের ধান কাটা প্রায় শেষ পর্যায়ে, আবার কোন মাঠের ধান আধাপাকা। সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রচণ্ড রোদ উপেক্ষা করে মাঠে ধান কাটছেন কৃষকরা। বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাঁসি। তবে উত্তপ্ত রোদ ও তীব্র গরমের কারণে এবং শ্রমিক সংকটে কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে কৃষকদের।
কথা হয় কয়েকজন কৃষকের সাথে। তারা বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধান দ্রুত পেকে যাচ্ছে। যার ফলে এ বছর ধানের ফলনও ভালো হয়েছে, বাজারও ভালো (দাম ভালো পাচ্ছেন তারা)। তারা জানান, সাড়ে ৯ শ’ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা দরে প্রতি মন ধান বিক্রি করা হচ্ছে। অর্থাৎ সামনের দিনগুলোতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকদের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের ফসল পুরোটাই গোলায় তুলতে পারবেন।
হাজীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলরুবা খানম বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় সার বীজ কীটনাশক প্রয়োগ করায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এ বছর ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আমরা আশা করছি।
হাজীগঞ্জে চালের চাহিদা পূরণের জন্য কাজ করছি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, হাজীগঞ্জে এক ফসল চাষাবাদ হয়ে থাকে। বর্ষায় মাঠগুলো চাষাবাদহীন পড়ে থাকে। তাই, এবছর এবং এই প্রথম আউশ ধান চাষের জন্য উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার ৪শ’ ৫০ জন কৃষক বীজ ও সার প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ এপ্রিল দুপুরে আউশ ধানের চাষাবাদের লক্ষ্যে ৪৫০ জন কৃষকের মাঝে জনপ্রতি ৫ কেজি ধান বীজ, ১০ কেজি এমওপি এবং ১০ কেজি ডিএপি প্রদান করা হয়েছে। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে খরিপ/১ মৌসুমে উফশী ধানের বৃদ্ধির জন্য ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে এ বীজ ও সার বিতরণ করা হয়।

০৮ মে, ২০২৪।