হাজীগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে গোডাউন, দোকান ও বসতঘর পুড়ে ছাই

দেড় ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ, কোটি টাকার ক্ষতি

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে গোডাউন, দোকান ও বসতঘরসহ ১০টি ঘর ও মালামাল পুড়ে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। রোববার (৪ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে পৌরসভার টোরাগড় এলাকায় চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এসময় সড়কের দু’পাশে কয়েক শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।
আগুনে কামরুল কাজীর ভাঙারি দোকান, কাদের মোল্লার ভাঙারি দোকান, আউয়ালের ক্যারেটের (প্লাস্টিকের বড় ঝুুুড়ি) গোডাউন, নজরুল ইসলামের মুদি দোকান, কবির হোসেনের মুদি দোকান ও মজনুর মুদি দোকান, টিটুর ওয়ার্কশপ, নুরু ডাক্তারের ফার্মেসী, আফিজ উদ্দিন ও সাহাজ উদ্দিনের বসতঘর ও মালামাল পুুুুড়ে যায়। এ সময় কবিরের বসতঘর এবং একটি মোবাইল টাওয়ারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় রানা ও মিজান বেপারী জানান, এদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চারদিকে দমকা ও ঘূর্ণায়মান বাতাস শুরু হয়। রাত ৮টার দিকে বাতাসে টোরাগড় গ্রামের মনির ফিলিং স্টেশনের সামনে কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে একটি খেজুর গাছের শুকানো ডাল উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনের ট্রান্সফর্মারের উপর পড়ে। এতে আগুনের ফুল্কির সৃষ্টি হয়। আর এই ফুল্কি বাতাসে উড়ে গাছের নিচে রাখা প্লাস্টিকের ক্যারটের স্তূপে গিয়ে পড়লে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।
দমকা ও ঘূর্ণায়মান বাতাসে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং প্লাস্টিকের ক্যারটে দাউ-দাউ করে আগুন জ্বলে উঠে। আগুনের তীব্রতার ফলে কেউ ধারে-কাছেও যেতে পারেনি এবং আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে এবং শাহরাস্তি ও কচুয়া ফায়ার সার্ভিসে ফোন দেয়। পরে স্থানীয় ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় হাজীগঞ্জ, শাহরাস্তি ও কচুয়াসহ ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
আগুনে কামরুল কাজীর ভাঙারির দোকান, কাদের মোল্লার ভাঙারির দোকান, আউয়ালের ক্যারেটের (প্লাস্টিকের বড় ঝুুুড়ি) গোডাউন, নজরুল ইসলামের মুদি দোকান, কবির হোসেনের মুদি দোকান ও মজনুর মুদি দোকান, টিটুর ওয়ার্কশপ, নুরু ডাক্তারের ফার্মেসী, আফিজ উদ্দিন ও সাহাজ উদ্দিনের বসতঘর এবং দোকান গোডাউন, বসতঘর ও মাঠে থাকা সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এসময় কবিরের বসতঘর এবং একটি মোবাইল টাওয়ারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এতে কয়েক কোটির টাকার ক্ষতি হয় বলে ক্ষতিগ্রস্তরা দাবি করেন। এদিকে আগুন লাগার সাথে সাথে কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এসময় সড়কের দু’পাশে ছোট-বড় কয়েক শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে মারাত্মক দুর্ভোগ পড়ে যাত্রীরা। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পৌর মেয়র আ.স.ম মাহবুব-উল আলম লিপন, হাজীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ, স্থানীয় কাউন্সিলর হাজি মো. কবির হোসেন কাজী ও কাজী মনির হোসেনসহ হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ। জানা গেছে, একই স্থানে এর আগেও আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয় ঘরের মালিক ও ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ বলেন, প্রচন্ড বাতাস এবং গোডাউন, ভাঙারির দোকান ও দোকানের সামনের মাঠে থাকা ব্যবহৃত প্লাস্টিকের ক্যারেট ও টায়ার স্তূপ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে এই সংবাদ লেখা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা ও ফায়ার কর্মীরা ঘটনাস্থলে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করায় তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
০৫ এপ্রিল, ২০২১।