হাজীগঞ্জে স্বপ্নসহ ৯ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা

সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নিরাপদ খাদ্য আদালত

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে বিশুদ্ধ ও নিরাপদ খাবার নিশ্চিতকরণে সুপারশপ, খাবার হোটেল ও রেস্টুরেন্টে অভিযান পরিচালনা করেছেন চাঁদপুর জেলার বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামাল হোসাইন। বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত তিনি হাজীগঞ্জ বাজারের সুপারশপ স্বপ্ন আউটলেট, বিশাল শপিং সেন্টারসহ বেশ কয়েকটি খাবার হোটেল ও রেস্টুরেন্টে অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযানে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামাল হোসাইনের নির্দেশে বাংলাদেশ স্টান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই) আইন-২০১৮ অনুযায়ী সুপারশপ স্বপ্ন আউটলেট ও ৭টি খাবার হোটেল-রেস্টুরেন্ট এবং নিরপাদ খাদ্য আইন-২০১৩ অনুযায়ী ১টি রেস্টেুরেন্টের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।
বিএসটিআই আইনে নিয়মিত মামলা দায়েরকৃত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- সুপারশপ আউটলেট ‘স্বপ্ন’, খাবার ও রেস্টেুরেন্টের মধ্যে স্টার হোটেল, গাউছিয়া হাইওয়ে, নারগিস হোটেল, বসুন্ধরা হোটেল, গাউছিয়া হোটেল, আল-মদিনা হোটেল ও খাওয়া-দাওয়া হোটেল। এছাড়া নিরাপাদ খাদ্য আইনে প্রিন্স হোটেলে এন্ড চাইনিজ রেস্টুরেন্টের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।
এ সময় স্বপ্ন আউটলেট থেকে খাদ্যসামগ্রীসহ ১৫টি পণ্য জব্দ করা হয় এবং পরবর্তীতে জব্দকৃত মালামালের বিপরীতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদর্শনের জন্য বলা হয়। অভিযানে সুপারশপ আউটলেট বিশাল শপিং সেন্টার ও তৃপ্তি হোটেল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয় এবং উল্লেখিত সব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য আইনের বিষয়ে দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামাল হোসাইন।
এ বিষয়ে সংবাদকর্মীদের সাথে কথা বলেন হাজীগঞ্জ উপজেলা স্যানেটারী পরিদর্শক শামসুল ইসলাম রমিজ। তিনি বলেন, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামাল হোসাইনের নেতৃত্বে হাজীগঞ্জ বাজারের বিভিন্ন সুপারশপ ও খাবার হোটেলে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে দেখা যায়, সরকারি যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া খাদ্য উৎপাদন ও বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া তাদের স্টাফদের কোন সার্টিফিকেট (সনদপত্র) নেই এবং প্রতিটি দোকানে খাদ্য খোলা অবস্থায় পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, এখানের (হাজীগঞ্জের) নামি-দামি রেস্টুরেন্টগুলোতে অত্যন্ত নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরি করা হচ্ছে। বিশুদ্ধ ও নিরাপদ খাবার নিশ্চিতকরণে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আজ এসেছেন এবং এখন থেকে নিয়মিত আসবেন। আমরাও নিয়মিত পরিদর্শন করবো। শামসুল ইসলাম রমিজ উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশে বলেন, আপনার এসবের বিষয়ে সুদৃষ্টি দিবেন এবং আমাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন।
অভিযানে বাংলাদেশ স্টান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট (বিএসটিআই) কুমিল্লা আঞ্চলিক অফিসের পরিদর্শক মো. আনিসুর রহমান ও মো. শহিদুল ইসলাম, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অফিসের সাঁট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. মোশাররাফ হোসাইন মারুফ, হাজীগঞ্জ থানার এসআই মো. মোশারফ হোসেন, জয়নাল আবেদীন ও মো. সেলিম মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

২৬ নভেম্বর, ২০২০।