হাজীগঞ্জে ৬ লাখ টাকা নিয়ে চম্পট, আটক ১

সৌদি রিয়ালের পরিবর্তে কাগজ



হাজীগঞ্জ ব্যুরো
হাজীগঞ্জে সৌদি রিয়াল বিক্রি করে দিলেন কাগজ। পরে ৬ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়েছে ৪ প্রতারক। এ ঘটনায় মো. আল আমিন (২৫) নামের এক প্রতারককে আটক করে পুলিশ। গতকাল শনিবার তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। আল আমিন গোপালগঞ্জ জেলার মোকসুদপুর থানার লোহাইড় গ্রামের মোক্তার হোসেনের ছেলে।
গত বুধবার দুপুরে এই প্রতারণার ঘটনা ঘটে এবং শুক্রবার (২০ মার্চ) চারজনকে আসামি করে হাজীগঞ্জ থানায় একটি মামলা (নং-২৫) দায়ের করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত মো. আব্দুল হান্নান। তিনি হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন বলাখাল আবাসিক এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
মামলার অপর আসামিরা হলেন- গোপালগঞ্জ জেলার মোকসুদপুর থানার লোহাইড় গ্রামের পশ্চিম পাড়া ধরানী বাড়ির মৃত ইমান উদ্দিন সর্দার ওরফে গেদা সর্দারের ছেলে নুরু সর্দার (৫০), আবু বক্কর মাতাব্বর বাড়ির আসমত শেখের ছেলে লাভলু শেখ (৪০) ও শ্রীরাপুর গ্রামের মৃত সামছু মিয়ার ছেলে মহসিন মিয়া (৪৫)।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ মার্চ বাদী আব্দুল হান্নান হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদ থেকে আছর নামাজ পড়ে বের হওয়ার সময় বিবাদী নুরু সর্দারের সাথে তার পরিচয় হয়। এ সময় অপর তিন বিবাদী (আল আমিন, লাভলু শেখ ও মহসিন মিয়া) সাথে ছিলেন। কথা বার্তার এক পর্যায়ে বিবাদীরা কিছু সৌদি রিয়াল ভাঙ্গানো কথা বলে।
পরদিন বুধবার (১৮ মার্চ) তাকে (বাদী আব্দুল হান্নান) ৩০ হাজার রিয়াল দেখায়। তখন বাদী ব্যাংক থেকে ৬ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। এবং এই টাকা বিবাদী লাভলু শেখ ও মহসিন মিয়াকে দিয়ে ৩০ হাজার রিয়েল ভর্তি ব্যাগ নিয়ে বাড়িতে আসেন আব্দুল হান্নান। কিন্তু ব্যাগ দেয়ার সময় তারা (বিবাদীরা) ব্যাগটি পরিবর্তন করে দেয়। যার ফলে বাড়িতে এসে ব্যাগে রিয়ালের পরিবর্তে কাগজ দেখতে পান আব্দুল হান্নান।
আব্দুল হান্নান বলেন, পরবর্তীতে আমি স্থানীয়ভাবে বিবাদীদের খোঁজ করি এবং শুক্রবার ১নং বিবাদী আল আমিনকে দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেই। পরে থানার এসআই জয়নাল আবেদীন তাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি সৌদি আরবে ব্যবসা করি। তাই সৌদি রিয়ালগুলো কিনি। কিন্তু এরা যে আমার সাথে প্রতারণা করবে, তা বুঝতে পারিনি। এখন আমি টাকাগুলো উদ্ধারে থানায় মামলা করেছি।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলমগির হোসেন রনি বলেন, মামলার ১নং বিবাদী আল আমিনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে বলে তিনি জানান।