হাজীগঞ্জ প্রথমবারের মতো ঈদ সামগ্রী পেল গ্রাম পুলিশরা

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) মো. সোহেল মাহমুদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও দিক-নির্দেশনায় এবং হাজীগঞ্জ থানা পুলিশের আয়োজনে এই প্রথম ঈদ সামগ্রী পেল গ্রাম পুলিশরা। সোমবার (১০ মে) দুপুরে থানা চত্বরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শতাধিক গ্রাম পুলিশ ও থানার চতুর্থ শ্রেণির স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মচারীদের মাঝে এই ঈদ সামগ্রী (পোশাক এবং সেমাই, চিনি, দুধ, বাদাম ও কিসমিছ) বিতরণ করা হয়।
থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনুর রশিদের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ঈদ সামগ্রী বিতরণকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) মো. সোহেল মাহমুদ বলেন, আপনারা (গ্রাম পুলিশ) আমাদের পরিবারের সদস্য। করোনাকালীন এই সময়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দে অংশিদারিত্বে লক্ষ্যে সামান্যতম উপহার সামগ্রী নিয়ে আপনাদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। আশা করি সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ উদযাপন করবেন।
ইউনিয়নের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় আপনাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে গ্রাম পুলিশদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা নিজ নিজ দায়িত্বের প্রতি আরো বেশি সচেতন হবেন। কোথাও কোন ধরনের দেশ বিরোধী বা আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হয়, এমন আশংকা দেখা দিলে, সাথে সাথে ইউনিয়নের বিট কর্মকর্তা অথবা অফিসার ইনচার্জ কিংবা প্রয়োজনে আমাকে জানাবেন।
এ সময় তিনি নিজ নিজ এলাকায় অপরিচিত বা প্রতিবেশ দেশ ভারত থেকে কেউ আসলে তাকে হোম কোয়ারেন্টাইন মেনে চলার প্রতি খেয়াল রাখার নির্দেশনা দেন সোহেল মাহমুদ। যদি কেউ হোম কোয়ারেন্টাইন না মানেন, তাহলে থানায় জানানোর অনুরোধ জানান।
এদিকে এই প্রথম ঈদ সামগ্রী পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন গ্রাম পুলিশের সদস্যরা। তারা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) ও হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে গ্রাম পুলিশ সংগঠনের জেলা সাধারণ সম্পাদক নিত্য নন্দন সূত্রধর বলেন, চাকরি জীবনে এই প্রথম থানা থেকে ঈদ উপলক্ষে উপহার সামগ্রী বলেন।
ঈদ সামগ্রী বিতরণে সার্বিক সহযোগিতা করেন থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল, সেকেন্ড অফিসার এসআই সৈয়দ মো. মোশারফ হোসেন, তৃতীয় কর্মকর্তা এসআই মো. আব্দুল আলীম, এসআই মো. জয়নাল আবেদীন-১ সহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। উল্লেখ্য, হাজীগঞ্জ উপজেলায় মোট ৯৭ জন গ্রাম পুলিশের সদস্য রয়েছেন। এই ৯৭ গ্রাম পুলিশের পুরুষ সদস্যদের মাঝে লুঙ্গি এবং নারী সদস্যসহ থানার চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের মাঝে শাড়িসহ সেমাই, চিনি, দুধ, বাদাম ও কিসমিছ বিতরণ করা হয়।

১১ মে, ২০২১।