হানারচর বটতলায় মাছের ঝিলের নামে কাটা হচ্ছে ফসলি জমি

এস এম সোহেল
চাঁদপুর সদর উপজেলার হানারচর ইউনিয়নের গোবিন্দিয়া বটতলা ৮নং ওয়ার্ডে মাছের ঝিলের নামে কৃষি জমির মাটি ভেকু দিয়ে কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছেন হানু খান ও আনু খান নামের দুই ভাই। তারা হঠাৎ মাটি কাটায় পাশর্^বর্তী জমিগুলো ভেঙে পড়ছে এবং ওই মাঠের পানি নিস্কাশনের খালও বন্ধ করা দেয়া হয়েছে। আর এসব মাটি বিক্রি হচ্ছে পাশর্^বর্তী চান্দ্রা ইউনিয়নের মদনা ইটভাটায়। হঠাৎ করে জমির উর্বর মাটি (ওপরের মাটি) বিক্রি করে দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
সরেজমিন ওই মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, দুটি ভেকু মেশিন দিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে গভীর করা হচ্ছে। রাতের আঁধারে পিকআপ ভ্যান দিয়ে মাটি অন্যত্র বিক্রি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি জমির মাটি কাটা চলছে। আর দিনের বেলা ভেকু দিয়ে মাটি কেটে লোক দেখানো ঝিলের পাড় মাটি দিয়ে বাঁধা হয়। মাটি কাটতে গিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ওই মাঠের পানি নিস্কাশনের জন্য একমাত্র খালটি। যে খালটি দিয়ে বর্ষা মৌসুমে এই মাঠে পানি প্রবেশ করে এবং নিস্কাশন হয়। বর্ষায় পানি প্রবেশ করার কারণে জমিতে পলি পড়ে উর্বর হয় এবং একাধিক ফসল উৎপাদন হয়। কিছুদিন আগেও জমিতে ধান হয়, তার চিহ্ন জমিতে রয়েছে।
স্থানীয় কৃষক আনোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন জানান, যুগ যুগ ধরে এই মাঠে ফসল করে আসছি আমরা। ধান, আলু, ভুট্টা ও শাক-সব্জি আবাদ হয় এসব জমিতে। মাত্র কয়েকজন কৃষক হঠাৎ করে এই জমিতে মাছের খামার করবেন বলে জমিগুলোর মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছেন। এই ব্যপারে আমাদের সাথে কোন ধরণের আলাপ করেননি। তাদের ভয়ে কেউ কিছে বলেন না।
আরো কয়েকজন কৃষক জানান, এলাকার চেয়ারম্যানের ভাই কাদের রাঢ়ী মাটি কাটার টেন্ডার নিয়েছেন। তিনি ইটভাটার মালিকের সাথে চুক্তি করে ফসলি জমিগুলোর ক্ষতি করছেন। তারা আমাদের জমির পাশ থেকে গর্ত করে মাটি কাটছে। আমাদের জমিগুলোতেও এখন আর ফসল হবে না। সারা বছর জমিতে পানি আটকে থাকলে ফসল হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। আমরা এই বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
ভেকু দিয়ে মাটি কাটার টেন্ডার নেয়া কাদির রাঢ়ী এই বিষয়ে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
আনু খান মুঠোফোনে জানান, আমার ভাই হানু খান আমাদের জমিতে ফসল না হওয়ায় মাছের ঝিল করছেন। আমরা আমাদের জমিতে কাজ করছি। হুমকিস্বরূপ তিনি বলেন, আপনি যে মিডিয়ার হন না কেন এখন আপনাকে ‘চ্যানেল আই’ থেকে ফোন করবে।
চাঁদপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আয়শা আক্তার বলেন, জমির উপরের অংশের মাটি কেটে বিক্রি করা খুবই ক্ষতিকর। কারণ এই মাটি খুবই উর্বর থাকে। একবার মাটি কাটা হলে ১৫-২০ বছরও সেই ক্ষতি পূরণ হয় না। অর্থাৎ জমির উর্বরতা ফিরে আসে না। হানারচরে কৃষি জমির যে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি হচ্ছে জেনেছি। আমি বিষয়টি তাৎক্ষণিক উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়েছি।
চাঁদপুর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হেদায়েত উল্যাহ বলেন, বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুসারে কৃষি জমি থেকে মাটি ড্রেজিং কিংবা অন্য কোনভাবে কেটে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করার সুযোগ নেই। কেউ যদি করে থাকে তাহলে তার বিষয়ে আমরা সোচ্চার আছি। আমরা জেনেছি হানারচরে কৃষি জমির মাটি কাটা হচ্ছে। আমরা অতি শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ করবো।

২৫ ডিসেম্বর, ২০২২।