ইলশেপাড় রিপোর্ট
বহুল সমালোচিত ও সদ্য বদলিকৃত চাঁদপুর সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার নাজমা বেগম অবশেষে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছেন। গত ১৩ মার্চ তিনি দায়িত্ব হস্তান্তরের কাগজ সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসে পাঠান। সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবদুল হাই সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব বুঝে নেন। তিনি বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাবেক শিক্ষা অফিসার নাজমা এই ১৫ দিন ঐ দায়িত্ব না প্রদান করায় অফিসের কাজ-কর্মে নানা জটিলতা দেখা দেয়।
এদিকে প্রায় ১৫ দিন বদলিকৃত চাঁদপুর সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার নাজমা বেগম অবশেষে দায়িত্ব হস্তান্তর না করায় অভিভাবকহীন হয়ে পরেছিল অফিসটি। দীর্ঘ ৮ বছর একই কর্মস্থলে থাকার সুবাদে নাজমা বেগম জড়িয়ে পরে নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতায়। তবে তিনি এককভাবে অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে থাকলেও নারী কর্মকর্তা হিসেবে নানা ছলে তা কাটিয়ে উঠতেন। উপজেলার শিক্ষকদের তার ব্যক্তিগত কর্মচারী বলে মনে করতেন। এমনকি শিক্ষকদের দেয়া বেতনসহ অন্যান্য বিল-ভাউচারে সই করতেনও অনেক যন্ত্রণা দিয়ে। শিক্ষকদের মাসিক সভায়ও তিনি বলতেন, ‘আমি শিক্ষকদের বেতন দেই’। মনে হতো তিনি তার পৈত্রিক সম্পদ বিক্রি করে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা দেন। ফলে মননশীল পেশাধারী শিক্ষকরা ভেতর-ভেতর ফুঁসে থাকতেন। কিন্তু চতুর নাজমা ঊর্ধ্বতনদের ম্যানেজ করে বছরের পর বছর চাঁদপুর সদর উপজেলায় কাটিয়ে গেলেন। এছাড়া তিনি সপ্তাহে ৩/৪ দিনের বেশি অফিস করতো না। আর অফিসে আসলেও দুপুরের পর তো তাকে পাওয়া যেতো না।
অপরদিকে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবির প্রেক্ষিতে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি নাজমা বেগমকে ফেনী সদর উপজেলায় বদলি করা হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি তার সেখানে যোগদান করা কথা থাকলেও উর্ধ্বতনদের ম্যানেজ করে চাঁদপুরে থাকার চেষ্টা-তদবির অব্যাহত রাখায় নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেনি।
এদিকে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চাঁদপুর সদর উপজেলা শিক্ষা অফিস অভিভাবকহীন ছিল। অফিসটির সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবদুল হাই সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে প্রাথমিক দায়িত্ব পালন করলে দাপ্তরিক সব কাজ করতে পারতেন না বলে জানা গেছে। অফিসটির সূত্রে জানা যায়, দুর্নীতিবাজ নাজমা বেগম আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর না কারায় এমন সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।
ঐ অফিসটির সূত্রে জানা গেছে, আলোচিত-সমালোচিত নাজমা বেগম ফের চাঁদপুরে যোগদানের জন্য রাজনৈতিক দৌড়ঝাঁপ অব্যাহত রাখছেন। এমন খবরে সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসসহ সব শিক্ষক-কর্মচারীদের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এজন্য সংশ্লিষ্টরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
উপজেলার শিক্ষক নেতারা দাবি করছেন, নাজমা বেগম সদর উপজেলায় ফের যোগদান করতে না পারলে তিনি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান করবেন। এছাড়া তিনি চাঁদপুরের অন্য কোন উপজেলায় যোগদানের জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে হাইমচর বা কচুয়া উপজেয়ায় যোগদানে আগ্রহী নাজমা। এজন্য তিনি উর্ধ্বতন কর্তাদের ম্যানেজ করার জন্য তদবির অব্যাহত রাখছেন। শিক্ষক নেতাদের অভিযোগ এই কর্মকর্তা চাঁদপুরে ফিরলে এক ধরনের সংকট সৃষ্টি হবে। অনেক শিক্ষকই বিব্রতবোধ করবেন।
কারণ হিসেবে নেতারা বলছে, কর্মস্থল ফাঁকি দেয়া ও রাজনৈতিক নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে পরা শিক্ষা অফিসার নাজমা বেগমের সাথে অনেক শিক্ষকেরই দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। এখন তিনি রাগ-বিরাগের মাধ্যমে শিক্ষকদের হয়রানি করবেন। এজন্যই তার চাঁদপুরে যোগদান করা শিক্ষকদের জন্য মঙ্গলময় হবে না।
এজন্য উপজেলার শিক্ষক-কর্মকর্তারা দাবি জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর যেন নাজমা বেগমের মতো দায়িত্বহীন কর্মকর্তাকে চাঁদপুরে ফের পদায়ন না করে। এ জেলার শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন ও চৌকশ কোন কর্মকর্তা পদায়ন করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক নেতাসহ সাধারণ শিক্ষকরা।
ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার আ. হাই
অবশেষে চাঁদপুর সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসারের ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ আবদুল হাই। সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে গত ১৩ মার্চ তিনি দায়িত্ব বুঝে নেন। আ. হাই বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
উল্লেখ্য, সদ্যবদলিকৃত চাঁদপুর সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার নাজমা বেগম এদিকে প্রায় ১৫ দিন যাবত দায়িত্ব হস্তান্তর না করায় অফিসটির নানা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছিল।
এদিকে চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে চাঁদপুর সদর উপজেলার সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল হাইকে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার হিসেবে নিয়োগ দিতে চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাহাবউদ্দিন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের চিঠি দিয়েছেন।
১৫ মার্চ, ২০২২।
