কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ
বিশেষ প্রতিনিধি :
মতলব আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র (আইসিডিডিআর,বি) কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। যে কারণে দীর্ঘ ৫১ বছরের ঐতিহ্য হারাতে বসেছে হাসপাতালটি। জনসাধারণের চিকিৎসা সেবা, গবেষণা এবং নতুন নতুন উদ্ভাবনীর মাধ্যমে চিকিৎসা জগতে দেশ-বিদেশে একটি সুপরিচিত নাম আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র (আইসিডিডিআর,বি)।
বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানের মতো চাঁদপুরের মতলবে একটি শাখা রয়েছে। ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে এর যাত্রা শুরু হয়। শুরু থেকেই এ হাসপাতালটি প্রমাণ করতে পেরেছে ‘মানবদেহে কলেরা নিয়ন্ত্রণে মাংসপেশীতে ইনজেকশন পুশ করা অকার্যকর, বরং খাওয়ার স্যালাইন অধিক কার্যকর’ এই স্লোগান সামনে রেখে মতলব আইসিডিডিআর,বি প্রতিবছর প্রায় ৩০ হাজার রোগীকে চিকিৎসা সেবা দেয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতার সাথে পৃথক পৃথক ওয়ার্ডে রেখে যন্ত সহকারে রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে সুস্থ করে তোলে। দিন দিন সুনাম যখন জেলা থেকে অন্য জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে। যখন উদারাময় রোগের চিকিৎসা সেবার প্রতিষ্ঠান হিসেবে মানুষের আস্থার একমাত্র ঠিকানা হিসেবে পরিচিতি লাভ করছে আইসিডিডিআর,বি ঠিক তখন’ই কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠলো।
গত ক’দিন ধরে এ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে রোগীদের সাথে আন্তরিকতাপূর্ণ সেবার অভাব, অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ করেছেন চিকিৎসা সেবা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা। গত ১০ নভেম্বর রাতে শাহরাস্তি উপজেলার রাড়া গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ির মৃত আব্দুল লতিফ মাস্টারের স্ত্রী মমতাজ বেগম (৬৫) হঠাৎ ডায়রিয়া আক্রান্ত হলে জরুরিভিত্তিতে মতলব আইসিডিডিআর,বিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে চিকিৎসা সেবা না দিয়ে বাড়িতে ফেরৎ পাঠায়। রোগীকে খাওয়ার স্যালাইনের পাশাপাশি কাঁচা কলার তরকারি খাওয়ালে ডায়রিয়া সেরে যাবে এমন পরামর্শ দিয়ে রোগীর অনিচ্ছাসত্ত্বেও হাসপাতাল ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন আচরণে নির্বাক হয়ে যান সাথে থাকা মমতাজ বেগমের ছোট ছেলে মো. মোরশেদ আলম। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে এ প্রতিনিধিকে জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমার মায়ের চিকিৎসা না করায় ওইদিন রাতেই অবস্থা বেগতিক দেখে ঢাকাস্থ মহাখালি আইসিডিডিআর,বিতে নিয়ে যাই। দীর্ঘ সময়ে চিকিৎসা সেবা থেকে দূরে থাকায় মমতাজ বেগম এখন মৃত্যুশয্যায়। এ ধরনের ঘটনা দুঃখজনক।
এ ব্যাপারে মতলব আইসিডিডিআর,বি’র প্রধান দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল ফজল খান মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, আমাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ২/৪জন এমন থাকতে পারে, যারা রোগীদের সাথে খারাপ আচরণ করতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেব। আমাদের ঐতিহ্য নষ্ট হতে দেবো না।