আজ হাজীগঞ্জ পৌরসভায় সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের উদ্বোধন

দৈনিক ৪৩ লাখ ২০ হাজার লিটার বিশুদ্ধ পানি পাবে পৌরবাসী

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
আজ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎপাদনে যাচ্ছে বহুল প্রতিক্ষিত হাজীগঞ্জ পৌরসভার সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (পানি শোধনাগার প্রকল্প)। আজ রোববার (২০ জুন) বিকাল ৫টায় চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহারাস্তি) নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম এই সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের উদ্বোধন করবেন বলে পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে।
কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন মিঠানিয়া ব্রীজ সংলগ্ন পৌর কবরস্থানের পাশেই এই সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টটি প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মান করা হয়েছে। পাশাপাশি এই প্রকল্পের আওতায় নতুন করে বিভিন্ন আকার বা সাইজের প্রায় ৩১ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন করা হয়।
প্লান্ট থেকে দৈনিক ৪৩ লাখ ২০ হাজার লিটার বিশুদ্ধ সুপেয় পানি পাবেন পৌরবাসী। এতে নতুন করে ৪০ হাজার নাগরিক বা ৮ হাজার পরিবার বিশুদ্ধ ও আর্সেনিকমুক্ত পানির সুবিধা পাবে। যা আগামি ২০ বছর পর্যন্ত পৌর এলাকায় নতুন করে বিশুদ্ধ পানির চাহিদা থাকবে না বলে জানিয়েছেন পৌর মেয়র আ.স.ম মাহবুব-উল আলম লিপন। আজ এই প্লানটি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বিশুদ্ধ ও সুপেয় পানির আক্ষেপ ৩৬ বছর পর ঘুচলো।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌরবাসীর মধ্যে বিশুদ্ধ ও আর্সেনিকমুক্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপনের জন্য ২০১৭ সালের ৬ ফেব্রুয়ারী দরপত্র আহবান এবং ২০১৮ সালের ২০ জানুয়ারী ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। করোনা মহামারির কারনে নির্মাণ কাজ ও মেশিনারী স্থাপনসহ আনুসাঙ্গিক কাজে কিছুটা দেরি হয়।
অবশেষে পৌর মেয়র আ.স.ম মাহবুব-উল আলম লিপনের প্রত্যক্ষ তদারকীতে প্রায় ৩১ কিলোটিমার পাইপ লাইন স্থাপনসহ এই ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপনের কাজটি সম্পন্ন করা হয়। যা আজ রোববার বিকালে সাংসদ মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম কর্তৃক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পানি উৎপাদন শুরু করবে।
জানা গেছে, হাজীগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান জনসংখ্যা ১ লাখ ১ হাজার ৫৭০ জন। এই জনসংখ্যার মধ্যে বর্তমানে হাজীগঞ্জ পৌরসভায় ৫টি ডিপ টিউবওয়েলর মাধ্যমে ৮০টি উন্মুক্ত স্থানে এবং ৬০টি গভীর নলকূপের মাধ্যমে প্রায় ৬০ হাজার নাগরিক আর্সেনিকমুক্ত পানির সুবিধা ভোগ করছেন। এর মধ্যে ২৩৮০জন মাসিক (বিল) গ্রাহক রয়েছেন।
নব-নির্মিত এই সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট চালু হলে শতভাগ পৌরবাসী বিশুদ্ধ ও সুপেয় পানি পান করতে পারবেন। এই পানি আয়রন ও আর্সেনিক মুক্ত। এই ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের আওতায় পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের সাথে বাকি তিনটি ওয়ার্ডের (১০, ১১ ও ১২নং ওয়ার্ড) লোকজনও বিশুদ্ধ ও সুপেয় সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
প্রকাশ থাকে যে, এর আগে উল্লেখিত তিনটি ওয়ার্ডের জনগণ সাপ্লাইয়ের পানি থেকে বঞ্চিত ছিলো। তাদেরকে গভীর নলকূপের মাধ্যমে আর্সেনিকমুক্ত পানির ব্যবস্থা করে হাজীগঞ্জ পৌরসভা। বর্তমান মেয়র আ.স.ম মাহবুব-উল আলম লিপন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ১০, ১১ ও ১২নং ওয়ার্ডে নতুন করে বেশ কয়েকটি গভীর নলকূপ স্থাপন করেন এবং সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের পানি সরবরাহে জন্য ১ কোটি টাকা ব্যয়ে পাইপলাইন স্থাপনের কাজও শেষ করেন।
পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) ও ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক (পাস) মো. মাহবুবর রশীদ জানান, হাজীগঞ্জ বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ডাকাতিয়া নদী থেকে পানি তুলে এনে, সেই পানি পরিশোধন শেষে সরবরাহ লাইনে দেওয়া হবে। এতে করে পৌরসভার ৪০ হাজার নাগরিক বা ৮ হাজার পরিবার আয়রন ও আর্সেনিকমুক্ত বিশুদ্ধ পানির সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
এ বিষয়ে পৌর মেয়র আ.স.ম মাহবুব-উল আলম লিপন বলেন, এই সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টটি (পানি শোধনাগার প্রকল্প) চালুর মধ্য দিয়ে আগামী ২০ বছরেও পৌর এলাকায় বিশুদ্ধ ও সুপেয় পানির চাহিদা থাকবে না। এতে করে শতভাগ নাগরিক আর্সেনিক ও আয়রনমুক্ত পানি পান করতে পারবেন।
এছাড়া ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আরো একটি প্লান্ট স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে নতুন করে প্রকল্পের আবেদন করা হয়েছে বলে তিনি জানান। এ সময় তিনি পৌরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, পৌরবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জিং কাজ করতে পেরেছি।
উল্লেখ্য, এই সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লানটি নির্মাণের জন্য তৎকালীণ সময়ে দরপত্র আহবান করা হলেও কোন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশ গ্রহণ না করায়, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লানটি হাতছাড়া হতে যাচ্ছিল। এর মধ্যে নতুন মেয়র নির্বাচিত হলেন, আ.স.ম মাহবুব-উল আলম লিপন। বিষয়টি জানার পর তিনি তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টায় পৌরবাসীর জন্য এই সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লানটি উপহার হিসাবে নিয়ে আসেন।

২০ জুন, ২০২১।