আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বড়কুল পূর্ব  আ.লীগের সম্মেলন 

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বড়কুল পূর্ব ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে সভাপতি পদে আবু তাহের ও সাধারণ সম্পাদক পদে ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন মিয়াজী নির্বাচিত হয়েছেন।
জানা যায়, সহকারী জজ আদালতে গত ২৫ নভেম্বর ওই ইউনিয়নের সোনাইমুড়ী গ্রামের মৃত আ. লতিফের ছেলে ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মো. আহসান হাবীব বাদী হয়ে চলমান ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্যসহ ৬ নেতাকে বিবাদী করে মামলা (নং-২৭৪/১৯) দায়ের করেন।
মামলার বিবাদীরা হচ্ছেন- হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ মো. ইউসুফ গাজী, হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ হেলাল উদ্দিন মিয়াজী, সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মো. মাঈনুদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হারুনুর রশিদ মুন্সী, বড়কূল পূর্ব ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মফিজুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান কবির হোসেন মিয়াজী।
অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ১৬ জুন জেলা আওয়ামী লীগের সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যে নিয়ম বলা হয়েছে, তা না মেনে হঠাৎ করে ২৮ নভেম্বর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। নিয়ম অমান্য করে এজাহারভূক্ত ২ ও ৩নং বিবাদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উক্ত সম্মেলনের কাউন্সিলরদের ভোটার তালিকা ছায়ালিপি নেতৃবৃন্দের মাঝে বিতরণ করেননি।
আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের ৪০নং অনুচ্ছেদের ‘ঘ’ বিধি মোতাবেক ওয়ার্ড থেকে ১৯জন, কো-অপশনকৃত ১৫ জন নিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কাউন্সিল গঠিত হবে। কিন্তু উক্ত ইউনিয়নের ভোটার তালিকা কাউন্সিলের তিনদিন আগে সব কাউন্সিলরদের প্রেরণ করার কথা থাকলেও তা না করে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা পাওয়ার পরও এজেহারভূক্ত বিবাদীরা তড়িগড়ি করে ২৮ নভেম্বর সম্মেলন তারিখ ঘোষণা করে। যা আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করে অবৈধ কমিটি গঠনের শামীল বলে তৃণমূল নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ।
অভিযোগ অনুযায়ী দেওয়ানী কার্যবিধি ৩৯ নিয়মে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা হিসাবে ইতোপূর্বে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন স্থগিত করা হয়। বাদীপক্ষ আহসান হাবিব একজন বৈধ প্রার্থী হওয়া সত্ত্বে¡ও নির্বাচনের আগেরদিন পর্যন্ত ভোটার তালিকা না পাওয়ায় ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা করার সুযোগ পাবে না। তাই সুষ্ঠ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন স্থগিত করা হলো। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
এ বিষয়ে বাদী মো. আহসান হাবিব বলেন, ভোটার তালিকা প্রকাশ না করে দায়সারা নির্বাচন প্রস্তুতি নিচ্ছে জেনে আমি গত ২৪ নভেম্বর একাধীকবার আওয়ামী লীগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করি। তারা বিষয়টি আমলে না নেয়ায়, আমি আদালতের শ্মরণাপন্ন হই। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তারা সম্মেলন সম্পন্ন করেছে। যার ফলে একজন প্রার্থী হিসেবে আমি বঞ্চিত হয়েছি। তাই ভোটার (কাউন্সিলর) তালিকা হালনাগাদ করে পুনরায় সম্মেলনের দাবি জানান তিনি।
চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আলহাজ ইউসুফ গাজী সংবাদর্মীদের বলেন, নিষেধাজ্ঞার খবর শুনেছি। কিন্তু বর্তমানে আমি ঢাকায় আছি, সে কারণে বিষয়টি আমার নজরে আসেনি। বাকি কার্যক্রম সম্পর্কে কোন প্রকার অবগত নেই বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরো বলেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সম্মেলন সম্পন্ন করা ঠিক হয়নি।
হাজীগঞ্জ থানার পুলিশ পরির্দশক (তদন্ত) মোহাম্মদ আবদুর রশিদ বলেন, আমরা আদালতের নিষেধাজ্ঞার কপি হাতে পাওয়ার আগেই সম্মেলনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।