এস এম সোহেল
চাঁদপুর সদর উপজেলার ১২টি কলেজের মধ্যে ৩৪জন জিপিএ-৫ পেয়ে শীর্ষে রয়েছে চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ। ২১ জন জিপিএ-৫ পেয়ে দ্বিতীয় আল-আমিন একাডেমি। ১৫ জন জিপিএ-৫ পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে চাঁদপুর সরকারি কলেজ। শতকরা হারে শীর্ষ ড্যাফোডিল কলেজ, দ্বিতীয় চাঁদপুর সরকারি কলেজ এবং সর্বনি¤েœ কামরাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। গতকাল বুধবার উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি)’র ফলাফল প্রকাশের পর এসব তথ্য জানাগেছে।
প্রাপ্ত ফলাফল থেকে জানা গেছে, চাঁদপুর সরকারি কলেজে পরীক্ষার্থী ছিলো ৫৩৬ জন, কৃতকার্য হয়েছে ৪৮৬ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ জন, পাসের হার ৯০.৬৭%। আল-আমিন একাডেমি স্কুল এ- কলেজ পরীক্ষার্থী ছিলো ৪৭৭ জন, কৃতকার্য ৪১৭ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২১জন, পাসের হার ৮৭.৪২%। ড্যাফোডিল কলেজে পরীক্ষার্থী ছিলো ১৬৫জন, কৃতকার্য হয়েছে ১৬০জন, জিপিএ-৫-৭জন, পাসের হার ৯৬%। পুরাণবাজার ডিগ্রি কলেজে পরীক্ষার্থী ছিলো ৪২৪ জন, কৃতকার্য হয়েছে ৩৫৯ জন, জিপিএ-৫ শূন্য, পাসের হার ৮৪.৬৭%। চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজে এ বছর পরীক্ষার্থী সংখ্যা ছিলো ৯৩৬জন, কতৃকার্য হয়েছে ৭৭৯জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৪জন, পাসের হার ৮৩.২৩%। বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে পরীক্ষার্থী ছিলো ৪২৬ জন, কৃতকার্য হয়েছে ৩৩৯জন, ২জন জিপিএ-৫, পাসের হার ৭৯.৫৮%। খেরুদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে পরীক্ষার্থী ছিলো ৫৩জন, কৃতকার্য ৪০জন, পাসের হার ৭৫.৪৭%। ফরক্কাবাদ ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষার্থী ছিলো ৩৭৫জন, কৃতকার্য হয়েছে ২৬১জন, জিপিএ-৫ শূন্য, পাসের হার ৬৯.৬০%। চাঁদপুর রেসিডেন্সিয়াল কলেজে পরীক্ষার্থী ছিলো ৬৯জন, কতৃকার্য হয়েছে ৪২জন, জিপিএ-৫ শূন্য, পাসের হার ৬০.৮৭%। চাঁদপুর সিটি কলেজে পরীক্ষার্থী ছিলো ৪৬ জন, কৃতকার্য হয়েছে ২৪জন, জিপিএ-৫ শূন্য, পাসের হার ৫২.১৭%। কামরাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে পরীক্ষার্থী ছিলো ৪০ জন, কৃতকার্য হয়েছে ২০জন, জিপিএ-৫ শূন্য, পাসের হার ৫০%।
১২টি কলেজের মোট জিপিএ-৫ সংখ্যা ৭৯ এবং পাসের হার ৮১%। চাঁদপুর সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এবছরই ৯০% পাস করেছে। ১২ কলেজের মধ্যে ৭টি কলেজ রয়েছে জিপিএ-৫ শূন্য।
চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এ.এস.এম দেলায়ার হোসেন বলেন, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করে চাঁদপুর সরকারি কলেজের মুখ উজ্জ্বল করেছে। তাদের এই ফলাফলের জন্য আমরা আনন্দিত ও গর্বিত। বর্তমান সরকার শিক্ষাকে ব্যাপক গুরুত্ব দিয়েছে। মানসম্মত শিক্ষা প্রসারে আমরা বদ্ধপরিকর। ২০১৮ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় চাঁদপুর সরকারি কলেজে গড় পাসের হার ছিল ৭২.৮২। এ বছর ভালো ফলাফলের জন্য আমরা শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানাই। আমরা শিক্ষার্থীদের যেভাবে অধ্যায়ন করাচ্ছি তাতে আগামিতে এ কলেজের ফলাফল আরো ভালো হবে।
চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মাসুদুর রহমান বলেন, তাদের কলেজ থেকে এ বছর ভালো ফলাফল অর্জন করেছে। আর এই ভালো ফলাফলের জন্য তিনি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শিক্ষার্থীরা যদি কলেজে মনোযোগী হয় তাহলে আগামিতে আরো ভালো ফলাফল করা সম্ভব হবে।
আল-আমিন স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ড. মো. শাহাদাত হোসেন সিকদার জানান, তাদের কলেজ থেকে এ বছর ৪শ’ ৭৭ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ২১ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। আল-আমিন স্কুল এন্ড কলেজের ফলাফল আরো ভালো হওয়া প্রয়োজন ছিল। তবে আগামিতে যেন আরও ভালো ফলাফল করা যায় আমরা সেই চেষ্টাই করবো।
১৮ জুলাই, ২০১৯।