নানা জটিলতায় এক বছর ধরে চাঁদপুরের ১৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ রয়েছে। ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর চাঁদপুর ১৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ হয়। এরপর কয়েকদফা চেষ্টা করেও চালু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। যদিও ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চালু হওয়ার কথা ছিলো ১৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি কিন্তু এলসি সংক্রান্ত জটিলায় তা একবছরেও চালু করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন চাঁদপুর ১৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাঃ প্রকৌশলী) মোহাম্মদ নূরুল আবছার।
২০১০ সালের ২৫ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এক হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করে চায়না চেংদা ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড। ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরুর পর ২০১৩ সালের ২০ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রথমদিকে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা থাকলেও গ্যাসনির্ভর এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নিয়মিতভাবে ১৬০ থেকে ১৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে যাচ্ছিল। কিন্তু দিন দিন গ্যাসসহ বড় বড় যন্ত্রপাতি ও মেশিন অকেজো হয়ে যাওয়ার কারণে এখন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে চাঁদপুর ১৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
এ বিষয়ে চাঁদপুর ১৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বা. প্রকৌশলী) মোহাম্মদ নূরুল আবছার বলেন, মূলত ২০২২ সালে ৬ ডিসেম্বর রক্ষাণাবেক্ষণ কাজের জন্য বন্ধ হয় এখানে দুটি ইউনিট। একটি ৫০, আরেকটি ১০০ মেগাওয়াট। ১০০ মেগাওয়াটের ইউনিটটি সংস্কার ও রক্ষাণাবেক্ষনের পরে ৭ ফেব্রুয়ারি চালু করার জন্য উদ্যোগ নেই। কিন্তু অনাকাক্সিক্ষত কারণে একটি গ্যাস বুস্টারটি চালু না হওয়ায় আমরা আর চালু করতে পারিনি। সেই গ্যাস বুস্টারটি আমরা দেশীয় লোকবল এবং দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে পরীক্ষা করে চালু করার চেষ্টা করি। কিন্তু পরীক্ষা করে দেখা যায় এটি ভিতরগত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আমরা সমস্যা সমাধান করার জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া গ্রহণ করে সম্পন্ন করি। আমরা প্লান ছিল গ্যাস বুস্টারটি সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করে নভেম্বরের ১৫ তারিখ চালু করবো কিন্তু এলসি সংক্রান্ত জটিলতায় আমরা পিছিয়ে পড়ি। ব্যাংকের আর্থিক যে কার্যক্রম সেগুলো একটু বেশি সময় লাগায় আমাদের প্লানমত এগুতে পারিনি। তবে বর্তমানে আমরা এলসি সংক্রান্ত কার্যক্রম সমাপ্ত হয়েছে। আমরা আশা করি ডিসেম্বর মাসের ২০-২১ তারিখ চাঁদপুর ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রে এসে মালামাল স্টোরে এসে পৌঁছবে। এরপর ৩ সপ্তাহ অর্থাৎ জানুয়ারি মাসে ১০-১২ তারিখের মধ্যে গ্যাস বুস্টারের কাজ শেষ করে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু করতে পারবো বলে আমরা আশা করি।
এদিকে দীর্ঘদিন চাঁদপুর ১৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির বন্ধ থাকা প্রসঙ্গে সুশাসনের নাগরিক (সুজন) চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা বলেন, সরকারের বিশাল অর্থের বিনিময়ে চাঁদপুরে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি তৈরি করা হয় কিন্তু দুঃখজনক বিষয় এটি এক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। আমি মনি করি এটির জন্য সংশ্লিষ্ট যারা আছেন, তাদের দায়িত্বে চরম অবহেলা রয়েছে। এভাবে অব্যবস্থাপনায় পড়ে রয়েছে, যা একেবআরেই কাম্য নয়। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি একবছর ধরে বন্ধ থাকায় মেশিন ও যন্ত্রপানি অকেজো হয়ে পড়েছে। এরজন্য সংশ্লিষ্ট দায়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে অচিরেই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির বাংলাদেশ এর তথ্যমতে, চাঁদপুর জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ১৮৫ মেগাওয়াট। কিন্তু চাহিদানুযায়ী সরবরাহ হচ্ছে ১৪৫ মেগাওয়াট। মূলত চাঁদপুর শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ। আর গ্রামের বিদ্যুৎ সরবার করে চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ও ২। এসবের মধ্যে চাঁদপুর গ্রিডে চাহিদা ৮০ মেগাওয়াট, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ৯০ মেগাওয়াট এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ ৫৪ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ বিদ্যুৎ এর চাহিদা রয়েছে। তবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সংকট থাকায় চাঁদপুরে চাহিদার তুলনায় মাত্র ৫০% বিদ্যুৎ পাচ্ছে গ্রাহকরা। যার কারণে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন স্থানে লোডশেডিং হয়ে থাকে।
০৮ ডিসেম্বর, ২০২৩।

