এস এম সোহেল :
কচুয়া উপজেলার পাড়াগাঁও গ্রামে শাশুড়িকে হত্যার অপরাধে মেয়ের জামাতা এনায়েতুল ইসলাম সোহাগকে মৃত্যুদ- দিয়েছে আদালত। গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে ৩টায় চাঁদপুরের জেলা ও দায়রা জজ সালেহ উদ্দিন আহমদ এই রায় দেন। এছাড়া সোহাগকে ২ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর বিবাহের কাবিন করাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে শাশুড়ি খোদেজা বেগম (৪৮) কে হত্যা করে সোহাগ।
মৃত্যুদ-প্রাপ্ত এনায়েতুল ইসলাম সোহাগ (৩২) বড়গুনা জেলার পাথরঘাটা থানার নাছনা গ্রামের খান বাড়ির মৃত আলী আজম খানের ছেলে। হত্যার শিকার খোদেজা বেগম কচুয়া উপজেলার গোহট উত্তর ইউনিয়নের পাড়াগাঁও গ্রামের জয়নাল আবেদীনের স্ত্রী।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালে ১৬ এপ্রিল রাত ৮টায় খোদেজা বেগমের মেয়ে শারমিন আক্তার ও তার স্বামী এনায়েত উল্যাহর সাথে বিয়ের কাবিননামা করাকে কেন্দ্র করে ঝগড়া-বিবাদ শুরু হয়। এসময় এনায়েত ঘরে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে শারমিনকে আঘাত করে। এ অবস্থায় শারমিনের মা খোদেজা বেগম মেয়েকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তাকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। একই সময় শারমিনের ভাগিনা সোহাগকে কুপিয়ে জখম করে এনায়েত। তাদের চিৎকারে বাড়ির লোকজন এগিয়ে আসে এবং ঘটনাস্থল থেকেই এনায়েতকে আটক করে কচুয়া থানা পুলিশে সোপর্দ করেন।
ঘটনার ১৮ মাস আগে শারমিন ও এনায়েতের চট্টগ্রাম একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতে গিয়ে পরিচয় এবং বিয়ে হয়। তারা এরপর কচুয়ায় এসে কিছুদিন শারমিনদের বাড়িতে থাকেন। কিন্তু তাদের বিয়ের কাবিননামা হয়নি। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার সূত্রপাত। বিয়ের ১১ মাস পর তারা উভয়ে কুমিল্লায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নেয়। সেখান থেকে কচুয়ার বাড়িতে আসলে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পরদিন ১৭ এপ্রিল নিহতের ছেলে জসিম মোল্লা বাদী হয়ে এনায়েতের বিরুদ্ধে কচুয়া থানায় মামলা (নং-৫) দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কচুয়া থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নুরুল আমিন ওই বছর ৩০ জুন আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।
সরকার পক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাড. আমান উল্যাহ ও এপিপি অ্যাড. মোকতার আহমেদ অভি বলেন, এ ঘটনায় ১৯ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত। এতে আসামির অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তার উপস্থিতিতে প্যানাল কোডের ৩০২ ধারায় তাকে মৃত্যুদ- এবং ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সাথে স্ত্রীকে জখম করার অপরাধে প্যানাল কোডের ৩২৬ ধারায় ১০ বছর সশ্রম কারাদ- ও ১ হাজার টাকা জরিমানা এবং ভাগিনা সোহাগকে জখম করায় প্যানাল কোডের ৩২৪ ধারায় ৩ বছর কারাদ- এবং ১ হাজার টাকা জরিমানা করেন আদালত। আসামির পক্ষে আইনজীবী ছিলেন (স্টেট ডিফেন্স ল’ইয়ার) অ্যাড. আমিন আহমেদ।
- Home
- প্রথম পাতা
- কচুয়ায় শাশুড়ি হত্যায় জামাতার মৃত্যুদন্ড