কয়েক শতাধিক অতিথি নিয়ে
স্টাফ রিপোর্টার
করোনায় মৃত্যুর মিছিল চলছে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে প্রতিনিয়ত করোনায় মৃত্যু খবর পাওয়া যাচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যাটা দিন দিন বাড়ছেই চলছে। এ নিয়ে যখন সারা দেশে সতর্কতা জারি করে সরকার। তখনই শিক্ষা অফিসার মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে জনসমাগমের আয়োজন
করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছেন চাঁদপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. গিয়াস উদ্দিন।
অথচ দেশে সবাই করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কে। কিন্তু, কিভাবে শিক্ষকদের শীর্ষ কর্মকর্তা হয়েও তিনি এমন কাণ্ড করলে, সেই প্রশ্নে সচেতন মহলে সমালোচনা ঝড় উঠেছে। শুক্রবার জেলা শহরের শহরের প্রফেসর পাড়া পীর বাদশা মিয়া রোড এলাকায় নিজ বাসভবনে এই বিয়ের আয়োজন করেন মো. গিয়াস উদ্দিন। বিয়ের আয়োজনে শামিল হয়েছেন কয়েক শতাধিক মাধ্যমিক শিক্ষক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। বিয়েতে ৫ শতাধিক অতিথিকে আমন্ত্রণ করা হয়েছে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
জানা যায়, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. গিয়াস উদ্দিন তার মেয়েকে সফরমালী এলাকায় বিয়ে দেন। শুক্রবার (২ এপ্রিল) বিয়ের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিলো চাঁদপুর ক্লাবে সেখানে জেলা প্রশাসন নিষেধ করেন। পরে শহরের বিপণীবাগ পার্টি হাউজে আয়োজন করেন, সেখানেও জেলা প্রশাসন নিষেধ করেন। এরপর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. গিয়াস উদ্দিন গোপনে শহরের শহরের প্রফেসর পাড়া পীর বাদশা মিয়া রোড এলাকায় নিজ বাসভবনে এই বিয়ের আয়োজন করেন।
স্থানীয়রা জানান, করোনাভাইরাস আতঙ্কে সারাদেশে জনজীবন যখন থমকে যাওয়ার উপক্রম, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ। মরণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সরকারের পক্ষ থেকে গণজমায়েতসহ লোক সমাগম এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঠিক এমন সময় এই আয়োজন কোনোভাবে কোনো যৌক্তিক কারণ হতে পারে না। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. গিয়াস উদ্দিনের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান প্রথমে চাঁদপুর ক্লাবে আয়োজন করা হয়, সেখানে জেলা প্রশাসন বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে বিপণীবাগ পার্টি হাউজে তা আয়োজন থাকলে সেখানেও জেলা প্রশাসন তা বন্ধ করে দেন। পরে তিনি কাউকে না জানিয়ে শহরের প্রফেসর পাড়া পীর বাদশা মিয়া রোড এলাকায় বাড়িতে বিয়ের আয়োজন করেন।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে বিয়ে বাড়িতে দাওয়াত খেয়ে আসা এক শিক্ষক জানান, বাইরে বুঝার উপায় নেই ভেতরে বিশাল আয়োজন। বাড়ির ভেতরে ঘরের বিভিন্ন কক্ষে খাওয়ার আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, খাবারের তালিকায় ছিল পোলাও, গরুর মাংস, মুরগি, মাছ, বোতলজাত মিনারেল পানি ও কোমল পানীয় ছাড়াও খাবার শেষে পান-সুপারি দিয়ে আপ্যায়ন ছিল।
করোনাভাইরাসের মধ্যে বিয়ের আয়োজন প্রসঙ্গে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার গিয়াস উদ্দিন বলেন, বিয়ের তারিখ আমাদের আগে নির্ধারণ করা হয়েছিল। আমি কি আমার মেয়েকে বিয়ে দেবো না? এটি সাদামাটাভাবে ঘরোয়া আয়োজন করা হয়েছে। বিয়েতে কোনো জনসমাগম হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, করোনা ভাইরাসের জন্য জনসমাগম এড়িয়ে চলার জন্য সরকারের নির্দেশনা রয়েছে। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. গিয়াস উদ্দিনের মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান প্রথমে চাঁদপুর ক্লাবে আয়োজন করা হয় জেলা প্রশাসন বন্ধ করে দেয়। পরে বিপণীবাগ পার্টি হাউজে আয়োজন করলে সেখানেও জেলা প্রশাসন তা বন্ধ করে দেয়া হয়। সে যদি এরকম করে থাকে তাহলে বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
০৪ এপ্রিল, ২০২১।
