করোনা মহামারিতে মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শিক্ষায়তন। বাড়ি বা জমি ভাড়া দিতে অপারগ প্রতিষ্ঠানসমূহ বন্ধের পথে। করোনাকালীন সময়ে টিউশন ফি আদায়ের সরকারি নির্দেশনা থাকলেও বেসরকারি
কেজি স্কুল তা আদায়ে ব্যর্থ হয়েছে। অপপ্রচার আর গুজবেরও শিকার হতে হয়েছে ভর্তি কার্যক্রমে, সরকারি বই পাবে না এ আশংকায় অনেক অভিভাবক পা দিয়েছে প্রাথমিকের কিছু অসাধু শিক্ষকের ফাঁদে। যদিও ডিপিইও অফিস তা অস্বীকার করেছেন। এমতাবস্থায় বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন চাঁদপুর জেলা শাখার আবেদনে সাড়া দিয়ে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন ভবন ও জমি মালিকদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এসোসিয়েশন নেতারা দাবি করেন, সরকারি-বেসরকারি-এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের রয়েছে নিজস্ব ভবন। শিক্ষকরা প্রতি মাসেই বেতন পান সরকারি কোষাগার হতে। অন্যদিকে কিন্ডারগার্টেনগুলো শতভাগ ছাত্র বেতন তথা টিউশন ফি’র উপর নির্ভরশীল। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত শিক্ষা উদ্যোক্তা হিসাবে কিন্ডারগার্টেনগুলোর পরিচালকরা নিজস্ব অর্থায়নে, ধার কর্জ, ঋণ নিয়ে স্কুলগুলো প্রতিষ্ঠা করে সরকারের সার্বজনীন বাধ্যতামূলক শিক্ষা কার্জক্রম বাস্তবায়নকে সহায়তা করে আসছে। দেশে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষা বিস্তারে কেজি স্কুল প্রায় ৪০% অবদান রাখছে।
স্কুলগুলোর ৯৫% চলছে ভাড়া করা ভবন অথবা জমিতে। শুধুমাত্র বিনামূল্যের বই প্রাপ্তি ছাড়া সরকারি-বেসরকারি কোন সাহায্য-সহযোগিতা পাচ্ছে না কেজি স্কুলগুলো।
করোনায় স্কুল বন্ধ থাকায় ছাত্র বেতন বা টিউশন ফি দিচ্ছেন না অভিভাবকেরা। ফলে একদিকে শিক্ষক কর্মচারীরা বেতন না পেয়ে অমানবিক জীবন যাপন করছেন, অন্যদিকে স্কুল ভবনের ও জমি ভাড়াও বকেয়া পড়েছে দীর্ঘদিনের। ফলে কেজি স্কুলে শিক্ষা উদ্যোক্তারা দিশেহারা অবস্থায় পড়েছেন। যদিও অতি সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছেন যে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র ছাত্র বেতন বা টিউশন ফি আদায় করতে পারবে। অনেক দেরিতে হলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ ঘোষণার সুফল শহর কেন্দ্রিক নামীদামি কিছু স্কুল পেলেও অধিকাংশ কেজি স্কুলই অভিভাবকদের কাছ থেকে কোন বেতন পাচ্ছে না।
সারাদেশের কেজি স্কুলগুলোর এই ভয়াবহ বিপর্যস্ত অবস্থায় যখন কোন প্রকার সরকারি বেসরকারি সহযোগিতা হতে বঞ্চিত, তখন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসন মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন।
করোনা মহামারীর ভয়াবহ সময়ে চাঁদপুর জেলা কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামানের সহযোগিতায় এবং জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান সামান্য সাহায্যের হাত প্রসারিত করেছিলেন, যা নিতান্তই অপ্রতুল ছিল।
সর্বশেষ গত ১০ নভেম্বর চাঁদপুর জেলার সব স্কুল ভবন ও জমির মালিকগণ বরাবর করোনায় বন্ধ থাকাকালীন সময়ের ভাড়া মওকুফ চেয়ে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন চাঁদপুর জেলার করা আবেদন পত্রে ‘বিষয়টি সুদৃষ্টিতে দেখার জন্য অনুরোধ করা হলো’ মন্তব্য করে ভাড়া মওকুফের জন্য সুপারিশ করেছেন জেলা প্রশাসন। যাতে কেজি স্কুলগুলো টিকে থেকে নব উদ্েযামে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে পারে।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সেক্রেটারী এএইচএম আহছানউল্লাহ বলেন, করোনাকালীন সময়ে কেজি স্কুলগুলোর ভবন ভাড়া ও জমি ভাড়া মওকুফের জন্য মালিকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, সবাই মিলে বেসরকারি শিক্ষা খাতটিকে টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রাখা উচিত।
ঐ আবেদন ও প্রশাসনের সুপারিশ বিবেচনায় বাড়ি ও জমি ভাড়া মওকুফ করবেন সংশ্লিষ্টরা, এ আশাবাদ ব্যক্ত করে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এসোসিয়েশনের জেলা সভাপতি ওমর ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক সবুজ ভদ্র দীপু।
৩০ ডিসেম্বর, ২০২০।
- Home
- চাঁদপুর
- চাঁদপুর সদর
- করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত কিন্ডারগার্টেন চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের সুপারিশ
