স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর পৌরসভার ১৩নং ওয়ার্ডের খলিশাডুলি এলাকায় মামলাবাজ ও ভূমিদস্যুদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে পরেছে একাধিক নিরীহ পরিবার। বিশেষ করে দূর-দূরান্ত থেকে এসে জমি ক্রয় করে চাঁদা না দিয়ে বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করতে গেলে তাদের বাঁধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। শুধু তাই নয় এসব ভূমিদস্যুরা বসতবাড়ি, দোকানপাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জমি দখল করতে মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরীহ পরিবারদের একের পর এক হয়রানি করে জমি দখল করে নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, একটি সিন্ডিকেট চক্র নিরীহ ও সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে জমি দখল করে নিচ্ছে।
অভিযোগকারীদের মধ্যে মৃত কামরুল আহসানের স্ত্রী জেসমিন আহসান জানান, তার স্বামী ২৫ বছর যাবৎ (১৯৯৪ সাল) খলিশাডুলী এলাকায় ২৭ শতক জমি কিনে মাটি ভরাট করে মুরগির ফার্ম করে ব্যবসা ও বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে তার দেবররা তাদের ১৬ শতক জমি স্থানীয় মৃত আমির আলী মজুমদারের ছেলে জাপান প্রবাসী মো. পারভেজ আখতার হিমুর কাছে বিক্রি করেন। এরপর থেকে বাকি ১১ শতক জমির উপর ২০০৪ সাল থেকে কাটাতারের বেড়া দিয়ে স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। কিন্তু পারভেজ আখতার হিমু তাদের বসবাসরত বাকি ১১ শতক জমি ক্রয় করতে দালাল লেলিয়ে দেন। ২০১৫ সালের ২৯ এপ্রিল জেসমিন আহসানের স্বামী কামরুলর আহসানের মৃত্যুর পর পরিবারটি অসহায় হয়ে পরে। সেই সুযোগে পারভেজ আখতার হিমু জমিটি দখল করার জন্য স্থানীয় বখাটেদের তাদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়। তারা রাতের আঁধারে বাড়ির চালের উপর ডিল মারা, একাধিকবার চুরির ঘটনা ঘটিয়ে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকাসহ মালামাল চুরিসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করতে থাকে। তখন ৩ কন্যা সন্তান নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন বিধবা জেসমিন আহসান।
এদিকে স্থানীয়রা জানায়, ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ পূনরায় ক্ষমতায় আসার পর পারভেজ আখতার হিমুসহ তার সহযোগীরা হঠাৎ করে গাঢাকা দেয়। সেই সময় বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামি লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) এম রাশেদ চৌধুরীর হাজীগঞ্জ উপজেলায় রাশেদ চৌধুরীর ১.১৫ একর জমি জব্দ করে সরকার। সেই ভয়ে রাশেদ চৌধুরীর স্বজন (স্থানীয়দের তথ্য মতে খালাতো ভাই) এবং জাপানস্থ জামায়াতের অর্থ যোগানদাতা পারভেজ আখতার হিমু তার বিশাল সম্পদ রক্ষার্থে গাঢাকা দেয়। অপরদিকে চাঁদপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শাহজাহান গাজী জ্বালাও-পোড়াও মামলায় আটকের ভয়ে পুরো পরিবার নিয়ে ঢাকা চলে যায়।
এদিকে চলতি বছর জেসমিন আহসানের ১১ শতক জমির মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩ শতক জমির উপর এবং তার শিক্ষিত ৩ কন্যার কর্মস্থানের পাশাপাশি বর্তমান সরকার ঘোষিত আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা বিস্তারে স্থানীয় কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য ‘কে জি মর্ডান শিশু বিদ্যালয়’ নামে স্কুল নির্মাণের উদ্যোগ নেন। সেই লক্ষ্যে চলতি বছরের গত ১৪ জুন স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরীসহ আগত অতিথিরা নবনির্মিত স্কুলের ভিত্তিপ্রস্তর করেন।
ঢাকায় বসবাসরত পারভেজ আখতার হিমু স্কুল ভবনের কাজের খবর পেয়ে হঠাৎ করে লোকজন নিয়ে কাজ শুরুর আগে গত ২ মে এসে হুমকি-ধমকি দিয়ে কাজ না করতে নির্দেশ দিয়ে যায়। স্কুলের কাজের উদ্বোধনের খবর পেয়ে পরবর্তীতে ১৫ জুন পুনরায় লোকজন নিয়ে এসে স্কুলের ভবনের কাজ বন্ধ রাখতে আবারো হুমকি দেয় এবং তার সহযোগীরা চাঁদা দাবি করেন। এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের প্রকাশ হলে পারভেজ আখতার হিমু ঢাকায় চলে গেলেও তার লোকজনদের দিয়ে একের পর এক হয়রানি করে যাচ্ছে।
ভূমিদস্যুদের হাত থেকে রক্ষা পেতে বিধবা ও ৩ কন্যা সন্তানের জননী সাংবাদিকদের মাধ্যমে আইনী সহযোগিতা কামনা করেন।
১১ জুলাই, ২০১৯।