চট্টগ্রাম রেলওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের ঘটনাস্থল পরিদর্শন

চাঁদপুরে ট্রেনের নিচে যুবকের আত্মহত্যা

স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুরে মাহাতাব উদ্দিন খান আজিম নামে এক যুবক চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে রহস্যজনক আত্মহত্যার ঘটনায় বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পরিদর্শনে আসেন। রেলওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুর গফুরসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন, নিহত মাহাতাব উদ্দিনের পরিবার, এলাকাবাসী ও তার অভিভাবকের মুখোমুখি হয়ে তাদের সাথে ব্যাপক আলোচনা করেন এবং তাদের বক্তব্য শুনে তা’ মামলার প্রয়োজনে লিপিবদ্ধ করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুর গফুর রোববার (২৯ আগস্ট) চট্টগ্রাম থেকে সকাল ১০টায় চাঁদপুর এসে দিনব্যাপী ব্যাপক তদন্ত শেষে রাতে চাঁদপুর ত্যাগ করেন। এর আগে চাঁদপুর রেলওয়ে পুলিশের এক প্যারেট অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন তিনি।
জানা যায়, চাঁদপুর শহরের বিষ্ণুদী ব্যাংক কলোনী এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. নূর হোসেনের একমাত্র ছেলে একই এলাকার সানফ্লওয়ার নামে একটি কিন্ডারগার্টেন নামক শিশু বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ছিল মাহাতাব উদ্দিন খান আজিম। এলাকাবাসী জানান, আজিম করোনা মহামারির কারণে প্রায় দেড় বছর যাবত বিদ্যালয়টি বন্ধ রাখতে হয়েছে। এতে করে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও মাহাতাব উদ্দিন নিজে আর্থিক সংকটে পড়েন।
এরই মধ্যে বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের জায়গাটি নিয়ে তাদের পারিবারিকভাবে পক্ষে-বিপক্ষে চলতে থাকে ঝগড়া-বিবাদ। এলাকার সচেতন অনেকেই জানান, বিদ্যালয়ের জায়গাটি তার বাবা একমাত্র ছেলের নামে না দিয়ে তার মেয়ের নামে লিখে দেন। তা’ নিয়ে গত শুক্রবার দিনব্যাপী ঝগড়া চলতে থাকে।
এলাকাবাসী আরো জানান, শুক্রবার ঝগড়ার এক পর্যায়ে পরিবারের লোকজন মাহাতাব উদ্দিন খান আজিমকে অকর্মা বলে এবং কাজ ছাড়া বসে খাওয়াসহ বিভিন্ন কথা বলে উত্তেজিত করে এবং পরিবারের পক্ষ থেকে নাকি বলা হয়, ‘ট্রেনের নিচে পড়ে মরতে পারোছ না।’ তাতে আজিম নিজেকে সামাল দিতে না পেরে হয়তো আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
চাঁদপুর রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মুরাদ উল্যাহ্ বাহার নিহত আজিমের লাশ সনাক্ত করার পর তার পরিবারের সাথে আলাপ-আলোচনায় ও এলাকাবাসীর সাথে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারে নিহত যুবককে তার পরিবার থেকে নির্যাতন ও জমি সংক্রান্ত ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের কারণ।
যার কারণে মৃত্যুটি একটি রহস্যজনক মৃত্যু। এ সংক্রান্ত রিপোর্ট রেলওয়ে থানার ওসি মো. মুরাদ উল্যাহ্ বাহার চট্টগ্রামে তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানান। সে প্রেক্ষিতে রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুর গফুরসহ কর্মকর্তারা গতকাল রোববার সকাল ১১টা থেকে দুর্ঘটনাস্থল শহরের ওয়ারলেছ মুন্সিবাড়ি এলাকায় পরিদর্শনসহ ব্যাপক তদন্ত করেন এবং নিহত আজিমের পরিবারের সাথে দেখা করে তাদের মুখোমুখি হন। এ সময় তাদের কাছে এ মৃত্যুর বিষয় জিজ্ঞাসাবাদ করলে, পরিবারের পক্ষ থেকে নিজেদের অপরাধ আড়াল করতে নিহত মাহাতাব উদ্দিন খান আজিমকে নেশাগ্রস্ত ছেলে বলে জানানো হয়। এলাকাবাসী ও আজিমের সহকর্মীরা দাবি করেন, নিহত আজিম সিগারেট পর্যন্ত পান করে না। সেখানে অভিভাবক পুলিশের কাছে ছেলেটিকে নেশাগ্রস্ত বানিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রদান করে নিজেরা ভাল থাকার পক্ষ নিয়েছে।
রেলওয়ে থানার ওসি মো. মুরাদ উল্যাহ্ বাহার জানান, তদন্তকালে বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন প্রকার বক্তব্য দিবে। তার মধ্যে কোনটা সত্য কোনটা মিথ্যা সেটা দেখার দায়িত্ব তদন্তকারী কর্মকর্তার।
উল্লেখ্য, চাঁদপুরে পারিবারিক কলহের কারণে একটি কিন্ডারগার্টেনের অধ্যক্ষ মো. মাহাতাব উদ্দিন খান (৩৮) নামে এক যুবক মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে পড়ে আত্মহত্যা করে। ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার রাত পৌনে ১০টায় শহরের ওয়ারলেস মুন্সিবাড়ি এলাকায়।
৩০ আগস্ট, ২০২১।