মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
সড়কের পরিস্থিতি ভালো হওয়া সত্ত্বেও চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কসহ আশপাশের সড়কগুলোতে দিন-দিন বেড়েই চলছে দুর্ঘটনা। এতে প্রাণহানিসহ পঙ্গুত্ববরণ করছেন অনেকেই। হচ্ছে বিপুল পরিমাণে সম্পদহানী। সড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচলরত যানবাহনের বেপরোয়া গতি, অবৈধ যানবাহন চলাচলের সংখ্যা বৃদ্ধি ও চালকদের প্রতিযোগিতা এবং চালক, যাত্রী ও জনসাধারণের অসচেতনতার কারণেই এসব দুর্ঘটনা ঘটছে।
এছাড়া সড়কে ভটভটি, সিএনজিচালিত স্কুটার, মিশুক, অটোরিক্সা আর মোটরসাইকেলের দৌরাত্ম্যে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। বিশেষ করে প্রতিনিয়তই সিএনজিচালিত স্কুটারের ছোট-খাটো দুর্ঘটনা খবর শুনতে পাওয়া যায়। বিআরটিএ, প্রশাসন ও ট্রাফিক বিভাগের নাকের ডগায় এসব যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চালালেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সকালে হাজীগঞ্জ-কচুয়া-গৌরিপুর সড়কের হাজীগঞ্জের বদরপুর এলাকায় রামগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী আল-আরাফাহ পরিবহনের একটি বাস দুর্ঘটনার শিকার হয়। এই দুর্ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও দুইটি পরিবহনের পরস্পর প্রতিযোগিতা করে গাড়ি চালানোর কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় ও পুলিশ জানিয়েছে।
একই দিন সকাল ৯টার দিকে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের হাজীগঞ্জের বাকিলা ইউনিয়নের গোগরা এলাকায় সামনের চাকা বাস্ট হয়ে সড়কের পাশের ডোবায় গিয়ে পড়ে কুমিল্লাগামী জ্বালানি তেল পরিবহনের একটি ট্রাক। দুর্ঘটনায় চালক রক্ষা পেলেও তেলের মালিক কুমিল্লা মনোহরগঞ্জের রাজাপুর গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার ছেলে আ. রব (৪৫) জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে বলে জানা গেছে। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এর আগের দিন বুধবার দিবাগত রাতে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের হাজীগঞ্জের সাতবাড়িয়া এলাকায় ফ্রেশ গ্রুপের একটি কাভার্ড ভ্যান রাতের আঁধারে সড়কের পাশে গাছের সাথে প্রচন্ড বেগে ধাক্কা মারে। এতে করে চালক-হেলপারসহ ৪ জন আহত হলেও ২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় গাড়িটির ইঞ্জিনসহ কেবিন বক্স ভেঙ্গে দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
চালক, যাত্রী ও পথচারীরা দুর্ঘটনার কারণ হিসাবে সড়কে অনুমোদন ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি অবাধ চলাচল, অদক্ষ ও অপেশাদার চালক দ্বারা গাড়ি চালানো, বেপরোয়া গতি ও চালকদের প্রতিযোগিতা, সড়ক চিহ্ন বা সড়ক আইন সম্পর্কে না জানা, প্রয়োজনের তুলনায় সড়কে অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক ব্যবস্থা, চালক, যাত্রী, পথচারীদের নিয়ম না মানা ও অসচেতনতাকে দায়ী করছেন।
এছাড়া বিআরটিএ, প্রশাসন ও ট্রাফিক বিভাগের যথাযথ ব্যবস্থাগ্রহণ না করাকে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসাবে মনে করছেন সচেতনমহল। তারা মনে করেন, বিআরটিএ ও ট্রাফিক বিভাগের মধ্যে সমন্বয় না থাকার কারণে দিন-দিন দুর্ঘটনা বাড়ছে। তাই আর দেরী না করে বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে সড়ক আইন কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নেয়া এবং কয়েকটি ঘটনার কারণ খুঁজে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।
তার পাশাপাশি চালক, যাত্রী ও পথচারী নিয়ম মানতে উৎসাহী করার জন্য গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ এবং শুধু চালক বা পরিবহন মালিক নয় দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে যদি পথচারীও দায়ী হয়ে থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের সচেতনতার লক্ষ্যে সড়ক চিহ্ন ও সড়ক আইন জানা ও মানার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
০৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২২।
