চাঁদপুরের ৩ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আজ ভর্তি যুদ্ধ

হাসান আলী, মাতৃপীঠ ও সরকারি কারিগরি উবি

ইল্শেপাড় রিপোর্ট
২০২০ শিক্ষাবর্ষের জন্য আজ বৃহস্পতিবার চাঁদপুরের ৩টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ ও ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিদ্যালয় তিনটি হলো- হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়। সকাল ১০টায় হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজে শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষায় মোট ৩ হাজার ২শ’ ৭জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে। ইতোমধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার জন্য শিক্ষার্থীরা অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম শেষ করেছে।
শান্তিপূর্ণভাবে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত জেলার স্বনামধন্য সরকারি এই তিনটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হওয়ার জন্য প্রতি বছরই উদগ্রীব হয়ে থাকে। পাশাপাশি অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের ভর্তি করার জন্য দৌঁড়-ঝাঁপ অব্যাহত রাখেন সমানতালে। ফলে এই ভর্তি পরীক্ষাটি একটি ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের কাছে মেধার প্রতিযোগিতা না হয়ে যুদ্ধের মতো পরিণত হয় বলে অভিমত দেন জেলার শিক্ষাবিদরা।
ভর্তি পরীক্ষার সদস্য সচিব ও হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হোসেন জানান, ৩টি বিদ্যালয়ে ৪র্থ ও ৬ষ্ঠ শ্রেণির ৬শ’ কোটার বিপরীতে ৩ হাজার ২শ’ ৭টি অনলাইনে আবেদন জমা পড়েছে। তবে এর মধ্যে শতকরা ২১ ভাগ বিভিন্ন কোটা সংরক্ষিত রয়েছে। হাসান আলী ও মাতৃপীঠে ২ শিফট ও কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়ে এক শিফটে মোট ৬শ’ জন চূড়ান্তভাবে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে। তিনি আরো জানান, ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য হাসান আলীতে ১ হাজার ৮১ টি, মাতৃপীঠে ১ হাজার ৭শ’ ৭৭ টি ও কারিগরি বিদ্যালয়ে ৩শ’ ৮২টি আবেদন জমা পরেছে।
হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির প্রভাতী শাখায় ১শ’ ২০ জন ও দিবা শাখায় ১শ’ ২০ জন ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবে। মাতৃপীঠ বালিকা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির প্রভাতি শাখায় ১শ’ ২০ জন ও দিবা শাখায় ১শ’ ২০ জন ভর্তি হবে। এছাড়া সরকারি কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে মোট ১শ’ ২০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হবে।
জানা গেছে, প্রতি বছর জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে প্রতি বছর কোঠোর গোপনীয়তার মাধ্যমে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়ন করা হয়ে থাকে। পরীক্ষা অনুষ্ঠানের পর একইভাবে গোপনীয়তার মাধ্যমে খাতা পরীক্ষণ শেষে চূড়ান্ত মেধা তালিকা জেলা প্রশাসনের মাধ্যমেই প্রকাশ করা হয়ে থাকে। ফলে পরীক্ষা নিয়ে অনিয়ম কিংবা দুর্নীতির তেমন অভিযোগ উঠে না।
তবে দু’তিন বছর আগে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল অনলাইনে প্রকাশে নানা জটিলতার কারণে অভিভাবকরা কারচুপির অভিযোগ করেছিলো। পরে তা গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়ে পরলে তদন্তে শেষে তার সত্যতা পায় প্রশাসন। এজন্য অভিভাবকরা এবারো সতর্কতার সাথে প্রকৃত মেধাবীদের ভর্তির সুযোগ দিবেন বলেও আশা প্রকাশ করছেন।
উল্লেখ্য, মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতেও ভর্তি হওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে।