চাঁদপুরের ৫ আসনে আ.লীগের প্রতিপক্ষ আ.লীগ

এস এম সোহেল
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর জেলার ৫টি আসনেই আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ। ভোটের আর বাকি ১ দিন। তেমন নির্বাচনি উত্তাপ না থাকলেও তলে তলে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মূল প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ। আগামিকাল ৭ জানুয়ারি নির্বাচনকে সামনে রেখে শুক্রবার সকাল ৮টায় শেষ হয়েছে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা। মূলত ইসির নিয়মানুযায়ী- ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে শেষ করতে হয় প্রচার-প্রচারণা। সেই নিয়ম মেনেই সারা দেশে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সকল ধরনের প্রচার-প্রচারণার সমাপ্তি হয়েছে।
চাঁদপুরের রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক প্রদানের পরে জেলার সর্বত্র আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সরব উপস্থিতিই দলটির জয়ের পথকে প্রতিনিয়তই অনেকটা উন্মুক্ত করে দিয়েছে। এ নিয়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মী ও সমর্থকরা উজ্জীবিত হয়ে উঠছে।
এদিকে মাঠ পর্যায়ে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ না করায় নৌকার প্রার্থীদের প্রধান প্রতিপক্ষ স্বতন্ত্র পরিচয়ধারী আওয়ামী লাগের প্রার্থী। আর এ কারণে নৌকার প্রার্থীদের জয় সহজ হবে না। তবে দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে তৃণমূল অনেকটাই হতাশ হয়ে পড়ছে।
চাঁদপুরের সচেতন মহল বলছে, জেলার রাজনীতির একটা সৌহার্দ্যতা রয়েছে। তাই আগামি ৭ জানুয়ারি যে জয়লাভ করুক মূলত জয় হবে গণতন্ত্রের। আর ভোটাররাও প্রত্যাশা করছে ভোটের দিন তাদের পছন্দের প্রতীকেই ভোট দিবে। তারা চায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ। এজন্য তারা সরকারি দল আওয়ামী লীগের কাছেই বেশি প্রত্যাশা করছে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায়ের জন্য।
চাঁদপুরের ৫টি সংসদীয় আসনে নির্বাচন কমিশনের হালনাগাদ ভোটার তালিকা অনুযায়ী মোট ভোটার ২১ লাখ ৫৬ হাজার ৬শ’ ৯ জন। তাদের প্রায় অর্ধেকই নারী ভোটার। মোট নারী ভোটার হলেন- ১০ লাখ ৪৪ হাজার ৩২ জন। পুরুষ ভোটার ১১ লাখ ১২ হাজার ৫শ’ ৭৭ জন। এ জেলায় হিজড়া ভোটার আছে মাত্র ৬ জন।
জেলা নির্বাচন অফিস আরো জানায়, ৮ উপজেলায় মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৭শ’। চাঁদপুর-১ (কচুয়া) ১শ’ ৯টি। চাঁদপুর-২ (মতলব দক্ষিণ ও উত্তরে) ১শ’ ৫৫টি। চাঁদপুর-৩ (চাঁদপুর সদর ও হাইমচরে) ১শ’ ৬৫টি। চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জে) ১শ’ ১৮টি ও চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) ১শ’ ৫৩টি ভোট কেন্দ্রে রয়েছে।
চাঁদপুরের ৫টি সংসদীয় আসনের ৩৯ জন প্রার্থী। চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ড. সেলিম মাহমুদ (নৌকা), ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মনোনীত মো. সেলিম প্রধান (চেয়ার), জাসদ মনোনীত প্রার্থী সাইফুল ইসলাম (মশাল) প্রতীক পেয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।
এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১০৯টি। মোট ভোটার ভোটার ৩ লাখ ২৫ হাজার ৭শ’ ৫৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৯ হাজার ৩শ’ ৩১ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪শ’ ২৮ জন।
চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ) আসনে আওয়ামী লীগের মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী পেয়েছেন (নৌকা), জাতীয় পার্টির এমরান হোসেন মিয়া (লাঙ্গল), সুপ্রিম পার্টির মোহাম্মদ মনির হোসেন বেপারী (একতারা), স্বতন্ত্র এম. ইসফাক আহসান (ঈগল), জাসদের মোহাম্মদ হাছান আলী শিকদার (মশাল) প্রতীক পেয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।
এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৫৫টি। মোট ভোটার ভোটার ৪ লাখ ৬৭ হাজার ২শ’ ২৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬শ’ ৩৪ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ২৮ হাজার ৫শ’ ৯৪ জন।
চাঁদপুর-৩ (সদর ও হাইমচর) আসনে আওয়ামী লীগের ডা. দীপু মনি (নৌকা), জাতীয় পার্টির অ্যাড. মো. মহসীন খান (লাঙ্গল), বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্টের আবু জাফর মো. মাঈনুদ্দিন (মোমবাতি), বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মো. মিজানুর রহমান পেয়েছেন (ফুলের মালা), জাকের পার্টির মো. কাওছার মোল্লা (গোলাপ ফুল), স্বতন্ত্র ড. মোহাম্মদ শামসুল হক ভূঁইয়া (ঈগল) মো. রেদওয়ান খান (ট্রাক) প্রতীক পেয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।
এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৬৫টি। মোট ভোটার ভোটার ৫ লাখ ৮ হাজার ৯শ’ ৩২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬৩ হাজার ৮শ’ ৯৩ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯ জন।
চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের মুহম্মদ শফিকুর রহমান (নৌকা), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম) ড. মুহাম্মদ শাহজাহান (নোঙর), জাতীয় পার্টির সাজ্জাদ রশিদ (লাঙ্গল), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির আব্দুল গনি (আম), বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের বাকী বিল্লাহ মিশকাত চৌধুরী (ফুলের মালা), তৃণমূল বিএনপির মো. আব্দুল কাদের (সোনালী আঁশ), স্বতন্ত্র ড. মোহাম্মদ শামসুল হক ভূঁইয়া (ঈগল), জালাল আহমেদ (ট্রাক) প্রতীক পেয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।
এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১১৮টি। মোট ভোটার ভোটার ৩ লাখ ৬৯ হাজার ১শ’ ২৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯২ হাজার ৭শ’ ৬৮ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩শ’ ৬১ জন।
চাঁদপুর-৫ আসন (শাহারাস্তি ও হাজীগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম পেয়েছেন (নৌকা), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ সৈয়দ বাহাদুর শাহ মোজাদ্দেদী (চেয়ার), বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের বাকী বিল্লাহ মিশকাত চৌধুরী (ফুলের মালা), জাসদ মনোনিত (মশাল) প্রতীকের মো. মনির হোসেন মজুমদার, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের আক্তার হোসেন (ছড়ি), স্বতন্ত্র গাজী মো. মাঈনুদ্দিন (ঈগল) মো. শফিকুল আলম (ট্রাক) প্রতীক পেয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।
এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৫৩টি। মোট ভোটার ভোটার ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৫শ’ ৬১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯শ’ ৫১ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩৭ হাজার ৬শ’ ১০ জন।

০৬ জানুয়ারি, ২০২৪।