চাঁদপুরের ৮ উপজেলাই কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে



সজীব খান
করোনাভাইরাস প্রতিরোধের জন্য চাঁদপুরের ৮ উপজেলাই কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা করা হয়েছে। সম্প্রতি সারা পৃথিবীতে সবাই কোরানা আতংকে রয়েছে। বাংলাদেশে করোনা আক্রান্ত ৩ জন সনাক্ত হওয়ার পর সবাই সচেতন হতে শুরু করেছে।
সরকারও করোনাভাইরাস প্রতিরোধের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ হতে নিয়েছে। করোনাভাইরাস প্রতিরোধের জন্য চাঁদপুর জেলা সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্তের আলোকে চাঁদপুরের প্রতিটি উপজেলায় ১টি করে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের বিষয়ে কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা করা হয়। প্রতিটি উপজেলার জন্য স্কুল কিংবা কলেজ নির্ধারণ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় বরাবর প্রেরণের জন্য গত ১০ মার্চ প্রতিটি উপজেলায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ শাখা থেকে চিঠি প্রেরণ করেন। সে আলোকে জেলার প্রতিটি উপজেলায় ১টি করে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সম্প্রতি পৃথিবীতে এক আতংকের নাম করোনাভাইরাস। সে ভাইরাস দ্রুত প্রতিরোধের জন্য সরকারের নিদের্শনা অনুযায়ী এ স্থান নির্ধারণ করেন জেলা প্রশাসক।
চাঁদপুরের প্রতিটি উপজেলার জন্য প্রস্তাবিত কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থার স্থান তালিকা করে ইতোমধ্যে সিভিল সার্জন এবং পুলিশ সুপারকে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান শাখা। তারা প্রকৃতির দুর্যোগ ব্যবস্থা মোবাবেলা করার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়েও এসব তালিকা প্রেরণ করেছেন। সরকারি নিদের্শনা অনুযায়ী সারাদেশেই কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা তালিকা করেছেন। সে লক্ষ্যে চাঁদপুরেও কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেসব এলাকায় করোনাভাইরাস আক্রান্তের খবর পাওয়া যাবে, সেসব এলাকায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টাইনে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হবে।
চাঁদপুরে যেসব স্থানগুলোতে করোনাভাইরাস প্রতিরোধের জন্য কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে সেগুলো হলো- চাঁদপুর আক্কাস আলী রেলওয়ে একাডেমী, হাজীগঞ্জ আমিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়, কচুয়া ১৩৫নং বালিয়াতলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফরিদগঞ্জ বড়ালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মতলব উত্তর ওটারচর উচ্চ বিদ্যালয়, শাহরাস্তি মেহের ডিগ্রি কলেজে কোয়ারেন্টাইনের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া মতলব দক্ষিন ও হাইমচরেও কোয়ারেন্টাইনের স্থান ব্যবস্থা করা হবে।
চাঁদপুরে কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির সাথে আলাপ করলে তারা বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের সবাইকেই সচেতন হতে হবে। প্রকৃতিক দুর্যোগে কারো হাত নেই, তাই এ সময় কোনভাবেই আতংকিত হওয়া যাবে না। এ সময় সবাইকে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা করে যেতে হবে। সবার সচেতনতাই পারে বড় ধরনের দুর্যোগ থেকে আমাদের রক্ষা করতে। বর্তমান সময়ে করোনাভাইরাস নিয়ে সবাই আতংকিত রয়েছে। সবাই করোনাভাইরাসে আতংকিত না হয়ে সব সময় সচেতন হয়ে চলতে হবে। বর্তমান সরকার করোনাভাইরাস থেকে আমাদের সবাইকে রক্ষা করার জন্য সচেতনতামূলক প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে।
চাঁদপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা কেবিএম জাকির হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী চাঁদপুরের প্রতিটি উপজেলায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধের জন্য কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা করা হয়েছে। চাঁদপুরে কেউ করোনাভাইরাসে সনাক্ত হলে কোয়ারেন্টাইনে রেখে চিকিৎসা দেয়া হবে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি উপজেলায় কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সবাইকে করোনা প্রতিরোধে একটু সচেতন হতে হবে।