আলুর বাজার ও ঠাণ্ডার বাজার এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন
স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুরের নৌ-সীমানায় আলুর বাজার ও ঠাণ্ডার বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রায় ২০টি ড্রেজারের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকালে বালুভর্তি ৭৭টি বাল্কহেড এবং বাল্কহেডের সুকানীদের আটক করা হয়েছে। চাঁদপুরে একটি মহল প্রচার চালাচ্ছে সেলিম খান পুনরায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। গত ক’দিন ধরে এমন গুজবের কারণে লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ ও এলাকার মানুষজন ঝটিকা অভিযান চালিয়ে ওইসব স্থান থেকে আসা বালুভর্তি বাল্কহেড জব্দ করে নদীর পাড়ে রেখে বাল্কহেডে থাকা সুকানীদের ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসে।
মঙ্গলবার (৩০ মে) ভোর থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত আলুরবাজার ফেরিঘাট সংলগ্ন চ্যানেলে অবস্থান নিয়ে এসব বালুভর্তি বাল্কহেডগুলো জব্দ করে নোঙ্গর করে রাখা হয়। এসময় জব্দকৃত বাল্কহেডের সুকানীদের নিয়ে আসা হয় লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে।
এর আগেই কে বা কারা ‘৯৯৯’-এ সংবাদ দেয় স্থানীয় নৌ-পুলিশ ও চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশকে। ৯৯৯-এ কল দিয়ে তারা বলেন, মো. সেলিম খান বাল্কহেডের বালু জব্দ করে বাল্কহেডে থাকা সুকানীদের ধরে এনে নির্যাতন করছে। এমন সংবাদ পেয়ে হরিণা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি ও চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ ইউপি কার্যালয়ে ছুটে আসে। এসময় তাদের সামনেই বাল্কহেডের সুকানীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, তাদের উপর কোনো নির্যাতন বা গায়ে হাত তোলা হয়েছে কি না? পুরো বিষয়টি সব সুকানী এক বাক্যে বলেন, আমাদের গায়ে হাত তো দূরের কথা, কোনো প্রকার নির্যাতন ও গালমন্দ করা হয়নি। সম্পূর্ণ বিষয়টি রেকর্ড করা হয়েছে। কারা বালু কাটছে, সে বিষয়টিও পরিষ্কার করে দেয় বাল্কহেডের সুকানীরা।
গত ক’দিন ধরে চাঁদপুর নৌ-সীমানার আলুর বাজার ও ঠা-ার বাজার এলাকায় অনুমতি ছাড়া একটি চক্র ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে একটি চক্র। ওই চক্রটি সেলিম খানের নাম প্রচার করে যাচ্ছে। এ চক্রের মূল হোতার নাম সহসাই গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।
এদিকে অবৈধভাবে এ দু’টি স্থানে বালু উত্তোলনের কারিগর হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন শরীয়তপুরের সুমন এবং চাঁদপুরের একজন। সেখান থেকে প্রতিদিন ১শ’ থেকে ২শ’ বাল্কহেডের মাধ্যমে চাঁদপুরসহ বিভিন্ন স্থানে বালু বিক্রি করে যাচ্ছে ওই চক্রটি।
এদিকে চাঁদপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হেদায়েত উল্লাহ্, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এআরএস জাহিদ হাসান ও চাঁদপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. হান্নান এসে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে জব্দকৃত বাল্কহেডের সুকানীদের সতর্ক করে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা আদায় করে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়। এরা ভবিষ্যতে অনুমতি ছাড়া কোনো বালুমহাল থেকে বালু নিবে না মর্মে অঙ্গীকার করে। ভ্রাম্যমাণ আদালত চলাকালীন সময় বাল্কহেড মালিক সমিতির প্রতিনিধি মো. মিজানুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
জব্দকৃত বালুভর্তি বাল্কহেডের সুকানীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা জানান, বালু উত্তোলনকারীদের মধ্যে একজন শরীয়তপুরের সুমন ও অপরজন চাঁদপুর বাগাদীর মাখন। তবে সুকানীরা জানান, বালু ভর্তি করে আনার সময় আলুর বাজার, হরিণা পুলিশ ফাঁড়ি ও চাঁদপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়িকে বাল্কহেড প্রতি ৫শ’ টাকা করে মোট ১৫শ’ টাকা চাঁদা দিতে হয়। এ সংক্রান্ত টোকেন বা স্লিপ আমাদের দেয়নি। এমনকি বালু ভর্তির জন্য পূর্বাহ্নে কোনো টোকেন দেয়া হয়নি। শুধু টাকা দিয়ে আমরা বালু ভর্তি করে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যাই।
৩১ মে, ২০২৩।
