চাঁদপুরে অর্গানিক খাদ্য ও পণ্যমেলার নামে প্রহসন

উদ্বোধনের ২৩ দিনেও শুরু হয়নি মেলা

এস এম সোহেল
অর্গানিক খাদ্য ও পণ্যমেলার নামে চাঁদপুরবাসীর সাথে চলছে প্রহসন ও তামাশা। গতি ৪ ফেব্রুয়ারি হাঁক-ডাক দিয়ে শূন্য স্টলে মেলা উদ্বোধন করলেও ২৩ দিনেও (গতকাল রোববার) মেলা শুরু করতে পারছেন না আয়োজক কমিটি। চাঁদপুর পৌর পার্কের মাঠটি প্রতিনিয়ত স্থানীয় শিশু-কিশোররা খেলাধুলা করতো। কিন্তু কথিত অর্গানিক খাদ্য ও পণ্যমেলার নামে মাঠটি দখল করণেও শিশু-কিশোরদের খেলাধুলায় সমস্যা হচ্ছে। মেলার নামে চাঁদপুরবাসীর সাথে তামাশা বন্ধ করার আহ্বান চাঁদপুর পৌরবাসীর।
চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই চাঁদপুর শহরের কবি নজরুল সড়কস্থ পৌরপার্কে দুটি গেট, বেশ কিছু স্টল, অনুষ্ঠানের জন্যে প্যান্ডেল, মঞ্চ ও আসন পাতা হয়। প্রচার সামগ্রী সাঁটানো হয়। সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত অবধি আলোকসজ্জায় পৌরপার্ককে করে রাখা হয় দৃষ্টিনন্দন। মূল সড়কেও করা হয়েছে গেট। কৌতূহলী ব্যক্তিমাত্রই কাছে গিয়ে প্রচার সামগ্রী পড়ে দেখে, একটি অর্গানিক খাদ্য ও পণ্যমেলার জন্যে পৌর পার্কে এমন আয়োজন।
এ মেলার স্লোগান হচ্ছে ‘ভেজাল ও বিষপণ্যের সময় শেষ/অর্গানিকের বাংলাদেশ’। এটির আয়োজক হিসেবে গেটে লেখা রয়েছেÑ ‘বাংলাদেশ অর্গানিক ফারমার্স এন্ড রিটেইলার্স এসোসিয়েশন, চাঁদপুর জেলা কমিটি।’
কর্মসূচিতে উল্লেখ আছে, অর্গানিক খাদ্যপণ্যের সমাহার, অর্গানিক সেমিনার, গুণীজন সম্মাননা, বাচ্চাদের বিনোদন, খাবার দাবার। আরো লিখা আছে, দোকান বরাদ্দের জন্য আজই যোগাযোগ করুন। ফেব্রুয়ারি ২০২৩ মেলাটি শুরু হবে বলে গেটের লেখায় বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু চলতি ফেব্রুয়ারির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সময় পার হতে চললেও আগামী শব্দটি মোছা হয়নি আর মেলাও শুরু হয়নি। অথচ প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সম্মুখভাগে আলোকসজ্জার সাথে সাথে প্যান্ডেল ও মঞ্চে বাতি জ্বলছেই। মনে হচ্ছে, কারো জন্যে আয়োজকরা নিরন্তর অপেক্ষা করেই চলছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, মেলায় একটি দোকানও নেই, মানুষও নেই।
অর্গানিক বলতে বোঝায় জৈব। রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগে উৎপাদিত ফসল তথা কৃষিপণ্য স্বাস্থ্যের জন্যে ক্ষতিকর নয় এমন খাদ্য। বিশেষ করে নিরাপদ খাদ্যের প্রবক্তারা যখন সোচ্চার, তখন ভোক্তারা জৈব সার (গোবর, সবুজ সার, খৈল, কম্পোস্ট ইত্যাদি)- এর প্রয়োগে উৎপাদিত ফসলের দিকেই ঝোঁকার চেষ্টা করছে বা প্রবণতা দেখাচ্ছে। এমতাবস্থায় অর্গানিক খাদ্য ও পণ্যমেলার প্রয়োজনীয়তা খাদ্য-সচেতন ব্যক্তিমাত্রই উপলব্ধি করছেন। অথচ চাঁদপুরে সে মেলা আয়োজনের জন্যে অপেক্ষার যন্ত্রণা ও অদ্ভূত প্রচার কেনো করতে হবে সেটা পর্যবেক্ষকদের মাথায় ঢুকছে না।
চাঁদপুর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জিএম ফসিউল আলম জানান, মতলব দক্ষিণ ও কচুয়ার মেলার কারণে দোকানিরা আসতে পারছে না। তবে সহসাই মেলা শুরু হবে। মেলার মঞ্চে ব্যানার খোলার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, ব্যানারে একটু ভুল হয়েছে, তাই তা খুলে ফেলা হয়েছে। ভুলটি হলো ব্যানারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও স্থানীয় এমপি শিক্ষামন্ত্রীর ছবিটি দেওয়া হয়নি। এছাড়া শিক্ষামন্ত্রীর নামের বানানেও ভুল ছিলো।

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩।